প্রবন্ধ
বাউল ধর্মে হিন্দুত্ববাদ! ও বাউলররা ‘বাআল’ দেবতা পূজারী! বাউল মতবাদ। পর্ব—৪২-৪৩
৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
২৬১১
০
বাউল ধর্মে হিন্দুত্ববাদ!
বাউল মতবাদের মূলগোড়াপত্তনের পেছনে কয়েকটি অমুসলিম ধর্মের যোগসূত্র রয়েছে। যেমন—বা’আল দেবতানুসারী, বৈষ্ণবধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, দীনে এলাহী এবং নাস্তিক্যবাদ। দেখুন, তারা নিজেরাই দাবি করেছে—
মূলত সুফিমত, বৈষ্ণবীয়, সহজিয়ামত, বৌদ্ধ সহজিয়ামতের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে যে মানবিক সাম্যের পথধারা, মিলনের সুর তাই আজ মরমী আধ্যাত্মিক ভাবসাধনা তত্ত্বের রূপ হিসেবে আমাদের কাছে প্রকাশিত। —(মহাত্মা লালন, পৃ. ৩৩)
ফকির লালন শাহ'র ইসলাম তথা দ্বীনে এলাহি প্রতিষ্ঠিত না হলে সাধুগুরুগণের ‘অখণ্ড ভারতপংথ' নবপ্রাণশক্তিকে উদ্ভাসিত হবে না বিশ্বমানচিত্রে। —(অখণ্ড লালনসঙ্গীত, পৃ. ৮১)
অধার্মিকতা বা ধর্ম নিরপেক্ষতাই মানবের বন্ধনমুক্তির একক উপায়—এটাই লালনদর্শনের মূল প্রতিপাদ্য। যাঁরা অধার্মিক তাঁরা 'লা শেরেক' এবং পরিপূর্ণ ধর্মশূন্য বা ধর্ম নিরপেক্ষ। They Know THE NOT। কেবল তাঁদের শিক্ষাকে (The School of Great No) গ্রহণ করতে পারলেই মানব সমাজের সত্যিকার কল্যাণসাধন আশা করা যায়। আদিতেও এর কোনো বিকল্প ছিল না। আজও নেই এবং অনাগতকালেও থাকবে না। এ মহাসত্যই লালনদর্শনের সারবস্তু। —(লালনদর্শন, পৃ. ১০৪)
উপরিউক্ত লেখা থেকে জানতে পারলাম—বাউল ধর্মের মূলে কয়েকটি ধর্মের মৌলিক সমন্বয় রয়েছে। ১. বৈষ্ণব ধর্ম। ২. বৌদ্ধ ধর্ম। ৩. সম্রাট আকবরের দীনে এলাহী। ৪. নাস্কিকদের মানবধর্ম।
বাউলররা ‘বাআল’ দেবতা পূজারী!
বাউল সম্প্রদায় মূলত ‘বা’আল দেবতা’ পূজারীদের অন্তর্ভুক্ত। ’বা’আল’-এর আভিধানিক অর্থ ’স্বামী’, ’খালিক’ ইত্যাদি। কিন্তু এটা হযরত ইলিয়াস আ.-এর অবাধ্য সম্প্রদায়ের উপাস্য দেবমূর্তির নাম ছিল। বা’আল পূজার ইতিহাস খুবই প্রাচীন। হযরত মুসা আ.-এর যামানায় সিরিয়া অঞ্চলে এর পূজা হতো এবং এটা ছিলো তাদের সর্বাধিক জনপ্রিয় দেবতা। সিরিয়ার প্রসিদ্ধ শহর বা’আলাবাক্কাকেও এ দেবতার নামেই নামকরণ করা হয়েছে। কারও কারও ধারণা এই যে, আরবদের প্রসিদ্ধ দেবমূর্তি হুবালও এই বা’আলেরই অপর নাম। এই দেবতার অনুসারাীদের উদ্দেশ্য মহান আল্লাহ বলেন,
أَتَدْعُونَ بَعْلًا وَتَذَرُونَ أَحْسَنَ الْخَالِقِينَ
তোমরা কি ‘বা‘ল’ (নামক মূর্তি)-এর পূজা করছো এবং পরিত্যাগ করছো শ্রেষ্ঠতম স্রষ্টাকে? —(সুরা সাফফাত : ১২৫)
এই বা’আল পূজারীদের নতুন রূপ হলো ‘বাউল সম্প্রদায়। এ কথাটি লালন একাডেমির সাবেক পরিচালক ডক্টর আনোয়ারুল করীম নিজেও লিখেছেন—
বাউল সুফিবাদের উৎস বা'আল নামের একজন প্রজনন দেবতা (fertility god) যা পরবর্তীতে বাতেনী সুফিসাধনায় দেহবাদে রূপান্তরিত। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ২৩)
কিন্তু তারা এটা মুখে উচ্চারণ না করলেও তাদের আকিদা, বিশ্বাস এবং সাধনার নমুনা বা’আল পূজারীদের সাথেই মিলে যায়। পাশাপাশি তারা অমুসলিমদের কয়েকটা মিশন নিয়ে কাজ করে। যেমন—১. বৈষ্ণব ধর্ম। ২. বৌদ্ধ ধর্ম। ৩. সম্রাট আকবরের দীনে এলাহী। ৪. নাস্কিকদের মানবধর্ম।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
ঝাড়ফুঁক-তাবীয : একটি দালীলিক বিশ্লেষণ (২য় পর্ব)
...
তাহাফফুযে খতমে নবুওত ও কাদিয়ানী সম্প্রদায়
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونؤمن به ونتوكل عليه،ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا،...
শরীয়তের উপর অবিচলতা
...
মৃত্যুর পর বরযখ, কেয়ামত ও আখেরাত
এ কথা সবাই জানে ও মানে, যে ব্যক্তি জন্ম গ্রহণ করেছে তাকে মৃত্যু বরণ করতেই হবে। কিন্তু মৃত্যুর পর কী ...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন