প্রবন্ধ
একটি সুন্নাহকে বাঁচাবো বলে (৭৬তম পর্ব) – মসজিদে
২৯ জুলাই, ২০২৪
৬৩০৯
০
মসজিদ আল্লাহ তা‘আলার ঘর। সমাজের শ্রেষ্ঠ স্থান। পবিত্র স্থান। এখানে যেতে হলে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।
مَنْ تَطَهَّرَ فِي بَيْتِهِ، ثُمَّ مَشَى إِلَى بَيْتٍ مَنْ بُيُوتِ اللهِ لِيَقْضِيَ فَرِيضَةً مِنْ فَرَائِضِ اللهِ، كَانَتْ خَطْوَتَاهُ إِحْدَاهُمَا تَحُطُّ خَطِيئَةً، وَالأُخْرَى تَرْفَعُ دَرَجَةً
যে ব্যক্তি নিজের ঘরে পবিত্রতা অর্জন করলো অতঃপর ফরয সালাত আদায়ের জন্যে হেঁটে আল্লাহর ঘরে গেলো অতঃপর হেঁটে আল্লাহর ঘরে গেলো, তাহলে তার এক কদমে একটা গুনাহ মাফ হবে, আরেক কদমে একটা মর্যাদা বুলুন্দি হবে (মুসলিম)।
মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা আমল। এ-কাজে উৎসাহ বৃদ্ধির জন্যে আল্লাহ তা‘আলা পুরষ্কারও ঘোষণা করেছেন। যত বেশি কদম হবে, ততবেশি গুনাহ মাফ হতে থাকবে, মর্যাদা বুলুন্দি হতে থাকবে। সময় হাতে থাকলে একটু দূরের পথ ধরে মসজিদে গেলে, প্রাপ্তির পরিমাণও বেড়ে যাবে।
শুধু মসজিদে আসার পথেই নয়, প্রবেশ করার সময়ও সুন্দর আমল আছে। একটা সদর্থক দু‘আও আছে। নবীজি বলে গেছেন:
-তোমরা মসজিদে প্রবেশ করার সময় পড়বে:
اللهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
আল্লাহুম্মাফতাহলী আবওয়াবা রাহমাতিক: ইয়া আল্লাহ! আমার জন্যে আপনার রহমতের দরজা সমূহ খুলে দিন!
আর বের হওয়ার সময় পড়বে:
اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদলিক: ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি! (মুসলিম)।
একজন মুমিনের প্রতিটি কাজই হবে নবীজির আদর্শে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে শোয়া পর্যন্ত। নবীজি আমাদের জন্যে রহমতস্বরূপ। তার প্রতিটি কাজও আমাদের জন্যে রহমতস্বরূপ। নবীজির আদর্শকে লালন করে আমরা মূলত রহমতেরই ছায়ায় আশ্রয় নেই। আল্লাহ তা‘আলাই এই রহমত বিতরণ করেন। আমরা টের পাই না, এই যা! আমরা অদৃশ্য এক রহমতের সাগরেই ডুবে আছি। এর বিনিময়ে আমাদের কিছুই করতে হয় না। আল্লাহ শুধু চান আমরা যেন তার রাসূলের রেখে যাওয়া সুন্নাতের অনুসরন করি।
মসজিদে যাওয়াটা যেন অভ্যেসের বশেই না হয়ে যায়। কিছুটা সচেতন মানসিকতা নিয়েই যেন যেতে পারি। সেটা কিভাবে?
ক: আমরা হাদীসটার কথা স্মরণ করবো। প্রতি কদমে গুনাহ মাফ হচ্ছে। আল্লাহর দরবারে আমার পদোন্নতি ঘটছে! এটাও আল্লাহর যিকির।
খ: শুধু তাই নয়, আমি আল্লাহর কাছে আরো রহমত কামনা করছি। এটাও একপ্রকার শোকর! আনুগত্য। ইবাদত। আল্লাহর কাছে চাইলে আল্লাহ ভীষণ খুশি হন!
বের হওয়ার সময়ও মনটাকে সজাগ রাখা:
ক: আমি আল্লাহর ঘর থেকে বের হচ্ছি।
খ: বাইরের সময়টা বরকতপূর্ণ হওয়ার জন্যে, আল্লাহর কাছে ‘অনুগ্রহ’ও কামনা করছি!
তিনি আমার চাওয়াকে ফিরিয়ে দিতেই পারেন না।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
দাওয়াত, হাদিয়া ও উপঢৌকন
হাদিয়া, উপঢৌকন ও দাওয়াত আদান- প্রদান ইসলামী শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল ও প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু...
ইসলামে শ্রমিকের অধিকার
ইসলাম একটি কালজয়ী অনবদ্য জীবন বিধান। বিশ্বসৃষ্টির শুরু থেকেই মহীয়ান- গরীয়ান ও সর্বশক্তিমান মহান আ...
কাছরাতে যিকির
হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ. আমার শায়খ। কেউ যখন তাঁর সামনে তারীফ করতেন তখন আস্তে করে মাথাটা নিচু করে ফে...
কুরবানী_কেমন_হওয়া_চাই!
"আব্বাকে কোরবানি করতে দেখেছি। আব্বার সঙ্গে কোরবানির হাটে গিয়েছি বহুবার; প্রথমে অবুঝ আনন্দের আকর্ষণে...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন