আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৩- হায়েয-ইস্তিহাযা সংক্রান্ত অধ্যায়
হাদীস নং: ৭১২
আন্তর্জাতিক নং: ৩৭৩
- হায়েয-ইস্তিহাযা সংক্রান্ত অধ্যায়
৩০. জানাবাত বা অন্য কারণে অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহ তাআলার যিক্র করা
৭১২। আবু কুরায়র মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ও ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সব সময়ই আল্লাহর যিক্র করতেন।
كتاب الحيض
باب ذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى فِي حَالِ الْجَنَابَةِ وَغَيْرِهَا
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنِ الْبَهِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ اللَّهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। এসব নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখার অন্যতম মাধ্যম হলো তাঁর যিকির। তাই আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অধিক পরিমাণে তাঁর যিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।” (সূরা আল-আহযাব, আয়াত নং: ৪১)
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর যিকিরের ব্যাপকতা থাকা উচিত। রাত-দিন, সফর-হাযার, সুস্থতা-অসুস্থতা, জীবনের বিভিন্ন অবস্থায় শরীয়তসম্মত উপায়ে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করার সুযোগ রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা নামায (দিনে পাঁচ ওয়াক্ত এবং রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট), রোযা, হজ্ব ও যাকাতের মতো ফরয ইবাদতগুলোর নির্দিষ্ট নিয়ম, সীমা বা পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। পক্ষান্তরে, সাধারণ যিকিরের জন্য নির্দিষ্ট সময়, সংখ্যা কিংবা বিশেষ কোনো শারীরিক অবস্থাকে শর্ত করা হয়নি। ফলে একজন মুমিন দাঁড়িয়ে, বসে কিংবা শুয়ে, বিভিন্ন অবস্থায় আল্লাহ তাআলার যিকির করতে পারেন।
তবে যেসব যিকিরের নির্দিষ্ট সময়, সংখ্যা বা পদ্ধতি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো সেভাবেই আদায় করা উচিত। যেমন, রাসূলুল্লাহ ﷺ নামাযের পর নির্দিষ্ট সংখ্যায় তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর পাঠ করতে শিখিয়েছেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৫৯৭)
অতএব, সাধারণ যিকিরের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা থাকলেও শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত যিকিরগুলো নির্ধারিত নিয়মেই আদায় করতে হবে। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং: ১৯১, এবং সূরা আল-আহযাব, আয়াত নং: ৪১–৪২-এর তাফসীর দ্রষ্টব্য: তাফসীরে মা‘আরিফুল কুরআন।)
হযরত আবু দারদা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন, আমি কি তোমাদের সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করব, যে আমল হবে তোমাদের মালিকের নিকট সবচেয়ে পরিশুদ্ধ, তোমাদের দরজা সমুচ্চকারী, সোনা ও রূপা আল্লাহর পথে ব্যয় করার চেয়েও তোমাদের জন্য কল্যাণকর, আর এর চেয়েও মঙ্গলকর হবে যে তোমরা শত্রুর সম্মুখীন হয়ে তাদের গর্দানে আঘাত করবে আর তারা তোমাদের গর্দানে আঘাত করবে। সাহাবীরা বললেন, হ্যাঁ বলুন। তিনি বললেন, “আল্লাহ তাআলার যিকির।” (জামে' তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৩৭৭)
এ হাদীস যিকিরের উচ্চ মর্যাদা ও বিশেষ ফজিলত তুলে ধরে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, যিকিরের কারণে ফরয ইবাদত বা শরীয়তের অন্যান্য আবশ্যক দায়িত্ব অবহেলা করা যাবে। বরং প্রত্যেক ইবাদতের নিজস্ব বিধান ও গুরুত্ব রয়েছে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বিশর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইসলামে তো অনেক বিষয় আছে (সবগুলোর উপর আমল করা হয়ত আমার পক্ষে সম্ভব হবে না) সুতরাং আমাকে এমন কোনো আমলের কথা বলে দিন, যাতে আমি সবসময় লেগে থাকতে পারি। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন,
لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ
“তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে।” (জামে' তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৩৭৫)
এ হাদীস থেকে বোঝা যায়, একজন মুমিনের উচিত নিয়মিত তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল, তাকবীর ও যাবতীয় দু‘আর মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করার অভ্যাস গড়ে তোলা। এতে তার দৈনন্দিন জীবনেও আল্লাহর স্মরণ বজায় থাকে।
হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
سَبَقَ الْمُفَرِّدُونَ
“মুফাররিদগণ অগ্রগামী হয়ে গেছেন।”
সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “মুফাররিদ কারা?” তিনি বললেন, “যেসব পুরুষ ও নারী অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির করেন।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৬৭৬)
এ হাদীস অধিক পরিমাণে যিকিরকারীদের বিশেষ মর্যাদার সুসংবাদ দেয়। তাই একজন মুমিনের উচিত, জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর স্মরণে সময় দেওয়া এবং নিয়মিত যিকিরের অভ্যাস গড়ে তোলা।
আল্লাহর যিকির শুধু ব্যক্তিগত আমলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মুসলিমদের বৈঠক ও সমাবেশেও এর গুরুত্ব রয়েছে। যে মজলিসে আল্লাহর স্মরণ করা হয় না, তা কিয়ামতের দিন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য অনুশোচনার কারণ হতে পারে।
এ মর্মে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাই উপকারী আলোচনা ও বৈঠকে আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর স্মরণ এবং প্রাসঙ্গিক দ্বীনি আলোচনা বজায় রাখা উচিত। মজলিসের শেষে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো কাফফারাতুল মজলিসের দু‘আ পড়াও সুন্নাহ। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪৮৫৯)
পরিশেষে, আমাদের উচিত দৈনন্দিন জীবনে বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা, জিহ্বাকে তাঁর স্মরণে সজীব রাখা এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো যিকির ও দু‘আসমূহের ওপর আমল করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের বেশি বেশি তাঁর যিকির করার এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফীক দান করুন। আমীন।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।” (সূরা আল-আহযাব, আয়াত নং: ৪১)
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর যিকিরের ব্যাপকতা থাকা উচিত। রাত-দিন, সফর-হাযার, সুস্থতা-অসুস্থতা, জীবনের বিভিন্ন অবস্থায় শরীয়তসম্মত উপায়ে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করার সুযোগ রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা নামায (দিনে পাঁচ ওয়াক্ত এবং রাকআত সংখ্যা নির্দিষ্ট), রোযা, হজ্ব ও যাকাতের মতো ফরয ইবাদতগুলোর নির্দিষ্ট নিয়ম, সীমা বা পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। পক্ষান্তরে, সাধারণ যিকিরের জন্য নির্দিষ্ট সময়, সংখ্যা কিংবা বিশেষ কোনো শারীরিক অবস্থাকে শর্ত করা হয়নি। ফলে একজন মুমিন দাঁড়িয়ে, বসে কিংবা শুয়ে, বিভিন্ন অবস্থায় আল্লাহ তাআলার যিকির করতে পারেন।
তবে যেসব যিকিরের নির্দিষ্ট সময়, সংখ্যা বা পদ্ধতি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো সেভাবেই আদায় করা উচিত। যেমন, রাসূলুল্লাহ ﷺ নামাযের পর নির্দিষ্ট সংখ্যায় তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর পাঠ করতে শিখিয়েছেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৫৯৭)
অতএব, সাধারণ যিকিরের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা থাকলেও শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত যিকিরগুলো নির্ধারিত নিয়মেই আদায় করতে হবে। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং: ১৯১, এবং সূরা আল-আহযাব, আয়াত নং: ৪১–৪২-এর তাফসীর দ্রষ্টব্য: তাফসীরে মা‘আরিফুল কুরআন।)
হযরত আবু দারদা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন, আমি কি তোমাদের সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করব, যে আমল হবে তোমাদের মালিকের নিকট সবচেয়ে পরিশুদ্ধ, তোমাদের দরজা সমুচ্চকারী, সোনা ও রূপা আল্লাহর পথে ব্যয় করার চেয়েও তোমাদের জন্য কল্যাণকর, আর এর চেয়েও মঙ্গলকর হবে যে তোমরা শত্রুর সম্মুখীন হয়ে তাদের গর্দানে আঘাত করবে আর তারা তোমাদের গর্দানে আঘাত করবে। সাহাবীরা বললেন, হ্যাঁ বলুন। তিনি বললেন, “আল্লাহ তাআলার যিকির।” (জামে' তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৩৭৭)
এ হাদীস যিকিরের উচ্চ মর্যাদা ও বিশেষ ফজিলত তুলে ধরে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, যিকিরের কারণে ফরয ইবাদত বা শরীয়তের অন্যান্য আবশ্যক দায়িত্ব অবহেলা করা যাবে। বরং প্রত্যেক ইবাদতের নিজস্ব বিধান ও গুরুত্ব রয়েছে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বিশর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইসলামে তো অনেক বিষয় আছে (সবগুলোর উপর আমল করা হয়ত আমার পক্ষে সম্ভব হবে না) সুতরাং আমাকে এমন কোনো আমলের কথা বলে দিন, যাতে আমি সবসময় লেগে থাকতে পারি। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন,
لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ
“তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে।” (জামে' তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৩৭৫)
এ হাদীস থেকে বোঝা যায়, একজন মুমিনের উচিত নিয়মিত তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল, তাকবীর ও যাবতীয় দু‘আর মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করার অভ্যাস গড়ে তোলা। এতে তার দৈনন্দিন জীবনেও আল্লাহর স্মরণ বজায় থাকে।
হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
سَبَقَ الْمُفَرِّدُونَ
“মুফাররিদগণ অগ্রগামী হয়ে গেছেন।”
সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “মুফাররিদ কারা?” তিনি বললেন, “যেসব পুরুষ ও নারী অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির করেন।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৬৭৬)
এ হাদীস অধিক পরিমাণে যিকিরকারীদের বিশেষ মর্যাদার সুসংবাদ দেয়। তাই একজন মুমিনের উচিত, জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর স্মরণে সময় দেওয়া এবং নিয়মিত যিকিরের অভ্যাস গড়ে তোলা।
আল্লাহর যিকির শুধু ব্যক্তিগত আমলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মুসলিমদের বৈঠক ও সমাবেশেও এর গুরুত্ব রয়েছে। যে মজলিসে আল্লাহর স্মরণ করা হয় না, তা কিয়ামতের দিন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য অনুশোচনার কারণ হতে পারে।
এ মর্মে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাই উপকারী আলোচনা ও বৈঠকে আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর স্মরণ এবং প্রাসঙ্গিক দ্বীনি আলোচনা বজায় রাখা উচিত। মজলিসের শেষে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো কাফফারাতুল মজলিসের দু‘আ পড়াও সুন্নাহ। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪৮৫৯)
পরিশেষে, আমাদের উচিত দৈনন্দিন জীবনে বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা, জিহ্বাকে তাঁর স্মরণে সজীব রাখা এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো যিকির ও দু‘আসমূহের ওপর আমল করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের বেশি বেশি তাঁর যিকির করার এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফীক দান করুন। আমীন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ সূরা আলে ইমরান, ১৯১; সূরা আল-আহযাব, ৪১–৪২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৫৯৭, ২৬৭৬; জামে' তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৩৭৫, ৩৩৭৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪৮৫৯।