কিডনি প্রদানের বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের শরয়ি বিধান
প্রশ্নঃ ১৪৭৮১১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, একজন কিডনি রোগী কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করার জন্য নিজস্ব রক্তের(আত্তিও) কাউকে না পেয়ে অন্য রক্তের কাউকে ঠিক করলে এবং তাকে এর বিনিময়ে যদি কোনো টাকা প্রদান করে এটা কুরানের এবং হাদিসের আলোকে একটু বলবেন। জায়েজ কি না.সরকার এখনো ক্লিয়ার লি কোনো আইন পাশ করে নাই.
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মানবদেহের কোনো অঙ্গের বিনিময়ে লেনদেন করা শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েয নয়। সুতরাং কিডনি দেওয়ার বিনিময়ে কোনো টাকা দেওয়া বা নেওয়া জায়েয হবে না।
কেননা, মানুষ আল্লাহ তাআলার বিশেষ সম্মান ও মর্যাপ্রাপ্ত সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
﴿وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَىٰ كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا﴾
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি। স্থলে ও জলে তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করেছি, তাদেরকে উত্তম রিজিক দান করেছি এবং আমার বহু সৃষ্টির ওপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।” -সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৭০
মানবদেহের প্রতি এই বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার কারণে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের পণ্যের মতো বিবেচনা করা যায় না। তাই কিডনি দেওয়ার বিনিময়ে মূল্য গ্রহণ করা বা মূল্য দিয়ে কিডনি সংগ্রহ করা জায়েয হবে না।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন-
«إِنَّ اللَّهَ إِذَا حَرَّمَ عَلَى قَوْمٍ أَكْلَ شَيْءٍ حَرَّمَ عَلَيْهِمْ ثَمَنَهُ»
অর্থ: “আল্লাহ তাআলা যখন কোনো সম্প্রদায়ের জন্য কোনো জিনিস ভক্ষণ করা হারাম করেন, তখন তাদের জন্য তার মূল্য গ্রহণ করাও হারাম করেন।” -সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৮৮
অতএব, কিডনি দেওয়ার বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ প্রদান বা গ্রহণ করা জায়েয নয়। তবে কিডনি দাতার যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বাস্তব খরচ বহন করার বিষয়টি অঙ্গের মূল্য পরিশোধ থেকে পৃথক। এ ধরনের খরচ প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে বহন করা হলে তার বিধান আলাদাভাবে বিবেচিত হবে; একে অঙ্গের মূল্য পরিশোধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ উত্তরে কেবল কিডনি প্রদানের বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের শরয়ি বিধান আলোচনা করা হয়েছে। কিডনি দান করা বা প্রতিস্থাপন করানো মূলত জায়েয কি না, কোন ব্যক্তি কাকে কিডনি দিতে পারবেন এবং রোগীর কোন পর্যায়ে তা দেওয়া শরিয়তসম্মত হবে- এসব বিষয়ে এখানে আলোচনা করা হয়নি। এগুলো পৃথক মাসআলা, যার বিধান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাগত অবস্থা ও শরয়ি শর্তগুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
المستندات الشرعية
** الدر المختار : (5/ 72)
«حتى لو لم يوجد بلا ثمن جاز الشراء للضرورة وكره البيع فلا يطيب ثمنه»
** مجلة مجمع الفقه الإسلامي (4/ 359 بترقيم الشاملة آليا)
يجوز نقل العضو من جسم إنسان إلى جسم إنسان آخر، إن كان هذا العضو يتجدد تلقائيًا، كالدم والجلد، ويراعى في ذلك اشتراط كون الباذل كامل الأهلية، وتحقق الشروط الشرعية المعتبرة.
** فقه البيوع : (1/308) رقم 129 الدم
قد اتفق الفقهاء على نجاسة الدم وعدم جواز بيعه وقد شاع في عصرنا التداوي بنقل دم إنسان إلى إنسان آخر مريض ، وقد أفتى العلماء المعاصرون بجواز ذلك إذا لم يوجد دواء آخر، ولكن منعوا من بيعه لكراهة الإنسان. ولكن إذا دعت الضرورة الطبية إلى ذلك، ولم يوجد من يتبرع به، هل يجوز الشراء في تلك الحالة؟ الظاهر أنه يجوز دفع الثمن، ولا يجوز للبائع أن يأخذ ثمنه.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন