অতিরিক্ত ও অনর্থক কথাবার্তা কি ফিতনা ও গুনাহের কারণ?
প্রশ্নঃ ১৭০২১৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, অতিরিক্ত ও অনর্থক কথাবার্তা কি ফিতনা ও গুনাহের কারণ?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সাধারণত অতিরিক্ত কথাবার্তা অনেক ফিতনা ও গুনাহের কারণ হয় এবং কোনো দ্বীনি বা দুনিয়াবি উপকার ছাড়াই অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। হাদীসে এসেছে—
من حسن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه
ব্যক্তির ইসলামের একটি সৌন্দর্য হল যা-কিছু অনর্থক তা পরিহার করা। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৩১৭
কুরআন এবং হাদীসে কম কথা বলার ব্যাপারে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
مَا یَلۡفِظُ مِنۡ قَوۡلٍ اِلَّا لَدَیۡہِ رَقِیۡبٌ عَتِیۡدٌ
মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার জন্য একজন প্রহরী নিযুক্ত আছে, যে (লেখার জন্য) সদা প্রস্তুত। সূরা ক্বাফ, আয়াত নং: ১৮
হাদীসে এসেছে-
من صمت نجا
যে নীরব থাকে, সে নাজাত পায়। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৫০১
আরেক হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
من يضمن لي ما بين لحييه وما بين رجليه أضمن له الجنة
যে ব্যক্তি আমার (সন্তুষ্টির) জন্য তার দু’চোয়ালের মধ্যবর্তী বস্তু (জিহ্বা) এবং দু’রানের মাঝখানের বস্তু (লজ্জাস্থান) এর হিফাযত করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব গ্রহণ করলাম। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৪৭৪
عن أبي هريرة قال: قال رجل: يا رسول الله إن فلانة تذكر من كثرة صلاتها وصيامها وصدقتها غير أنها تؤذي جيرانها بلسانها. قال: «هي في النار»
হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! অমুক মহিলার সম্পর্কে বলা হয় যে, সে অধিক নামায পড়ে, রোযা রাখে ও দান করে; কিন্তু সে তার প্রতিবেশীকে মুখ দিয়ে কষ্ট দেয়, অর্থাৎ তাদের সাথে খারাপ আচরণ করে, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সে জাহান্নামী। মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং: ৪৯৯২
এভাবে আরও অনেক হাদীসে অতিরিক্ত কথা বলা ও জিহ্বার অপব্যবহারের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। তাই অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে বিরত থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, যাতে অনর্থক কথাবার্তা, খারাপ কাজ, ফিতনা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন