জ্বীন পরীর ব্যাপারে সঠিক আকিদা
প্রশ্নঃ ১৭২৯১৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার শ্বশুর কে নাকি ছোট বেলায় কোনো পরীর পছন্দ হয়। এবং তার সাথে সেটা থাকতে শুরু করে। তার জন্য সে মানসিক ভাবে অসুস্থ এখন আমার প্রশ্ন হলো মানুষের সাথে কি সত্যিই পরী থাকে? আর যদি থাকে ও তাহলে তা থেকে মুক্তির উপায় কি?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আল্লাহ তায়ালা এই পৃথিবীতে অনেক মাখলুক সৃষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে কিছু মাখলুক আমরা চোখে দেখতে পাই, আর অনেক মাখলুক আমাদের দৃষ্টির বাইরে থাকে। তার মধ্যে আগুনের তৈরি এক বিশেষ মাখলুক আছে যাকে 'জীন' বলা হয়। সেই জীন জাতির মহিলাদেরকে 'পরী' বলে।
শরীয়তের অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের উলামায়ে কেরাম একমত যে, জ্বীন পরী মানুষের শরীরে প্রবেশ করা, ক্ষতিসাধন করা বা আসর করা সম্ভব। অনেক সময় জ্বীন পরী মানুষের প্রতি কুপ্রবৃত্তি বা ভালোলাগার কারণে মানুষের ওপর ভর করে থাকে। তবে অনেক সময় মানসিক ভারসাম্যহীনতা, স্নায়বিক সমস্যা বা মস্তিষ্কের রোগজনিত কারণেও মানুষ এমন আচরণ করতে পারে; তাই শুধু জ্বীনের কল্পনা না করে চিকিৎসাগত দিকও খতিয়ে দেখা দরকার।
আপনাদের জন্য করণীয়:
১. কুরআনের আয়াত ও সহীহ দোয়ার মাধ্যমে রুকইয়াহ করা। বিশেষ করে সূরাতুল ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা আল-ইখলাস, সূরা আল-ফালাক এবং সূরা আন-নাস পড়ে রোগীকে সকাল-সন্ধ্যা ফুঁ দেওয়া এবং পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করানো ও গোসল করানো।
২. রোগীকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করানো এবং সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন দোয়া ও ইস্তিগফার করানো।
৩. কোনো ভণ্ড কবিরাজ, গণক বা জাদুকরের শরণাপন্ন হওয়া সম্পূর্ণ হারাম। শুধুমাত্র কোনো সহীহ আকীদার দ্বীনদার আলেম দ্বারা শরীয়াহসম্মত উপায়ে চিকিৎসা করাতে হবে।
৪. শরয়ী রুকইয়াহর পাশাপাশি একজন দক্ষ মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বা নিউরোলজিস্টের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।
قال الله تعالى: الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ
قال الله تعالى: وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنِ ابْنِ آدَمَ مَجْرَى الدَّمِ
الفتاوى اللجنة الدائمة
"دُخُولُ الْجِنِّ فِي بَدَنِ الْإِنْسَانِ ثَابِتٌ بِاتِّفَاقِ أَئِمَّةِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ... وَلَيْسَ فِي أئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ مَنْ يُنْكِرُ دُخُولَ الْجِنِّ فِي بَدَنِ الْمَصْرُوعِ"
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন