বাসায় গিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক/ অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে/মেয়েকে প্রাইভেট পড়ানোর বিধান
প্রশ্নঃ ২৬৩১৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি একজন ছেলে, আমি মেয়ে স্টুডেন্টকে বাসায় প্রাইভেট পড়াতে পারবো?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
যেসব মেয়ে বালেগা বা বালেগ হওয়ার কাছাকাছি বয়সের নয়, অর্থাৎ যাদের বয়স আনুমানিক নয় বছরের কম, তাদের পুরুষ শিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করা জায়েয ও বৈধ। চাই তা অনলাইনে হোক অথবা সামনে বসিয়ে পড়ানো হোক।
বালেগ হওয়ার কাছাকাছি বয়সের বা বালেগ মেয়েদের পুরুষ শিক্ষকের জন্য তাদের সামনে বসিয়ে পড়ানো কোনো অবস্থাতেই জায়েয নয়। কেননা, এ বয়সে পর্দার বিধান প্রযোজ্য হয়ে যায়। তবে পর্দার আড়াল থেকে অথবা অনলাইনে পড়ানোর ব্যবস্থা থাকলে, সেখানে যদি মাত্র একজন ছাত্রী থাকে, তাহলে যদিও এ অবস্থাটি প্রকৃত অর্থে নির্জনে একাকী অবস্থান নয়, তবুও বিধানগতভাবে তা নির্জনতার অন্তর্ভুক্ত। এতে ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই একসঙ্গে মাত্র একজন ছাত্রীকে অনলাইনে পড়ানো ফিতনার আশঙ্কার কারণে জায়েয হবে না। তবে ওই ছাত্রীর সঙ্গে পড়ার সময় তার কোনো মাহরাম পুরুষ অথবা কোনো মহিলা উপস্থিত থাকলে এভাবে পড়ানো জায়েয হবে।
আর যদি দুই বা ততোধিক ছাত্রী থাকে, তাহলে পর্দা, আবরণ ও শিক্ষাদানের অন্যান্য শর্তাবলি মেনে পুরুষ শিক্ষকের জন্য তাদের পড়ানো জায়েয হবে। তবে যেসব ক্ষেত্রে পড়ানো জায়েয, সেসব ক্ষেত্রেও পাঠদানের সময় অপ্রয়োজনীয় কথা বলা ও হাসি-ঠাট্টা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা জরুরি।
জেনে রাখা জরুরী, অনলাইনে শিক্ষা দেওয়া ও নেওয়া জায়েয হওয়ার মৌলিক শর্ত হলো, শিক্ষাদান কেবল শব্দের মাধ্যমে অর্থাৎ শুধু অডিও কলের মাধ্যমে হতে হবে। একে অপরের ছবি দেখা যাবে না; অর্থাৎ ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও কল, লাইভ ভিডিও ইত্যাদির মাধ্যমে পড়ানো যাবে না। তবে পাঠদানের সময় ক্যামেরা ব্যবহার করা হলে, ক্যামেরার ফোকাস কোনো প্রাণহীন বস্তুর ওপর—যেমন বোর্ড, বই ইত্যাদির ওপর—থাকতে হবে। ক্যামেরার সামনে শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থী আসা জায়েয নয়।
সুতরাং
১. প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পর্দা ছাড়া সরাসরি পড়ানো জায়েয নয়। পর্দার আড়াল থেকে পড়ানোর ব্যবস্থা থাকলে এবং নির্জনে একাকী অবস্থানের আশঙ্কা না থাকলে পড়ানো জায়েয।
২. অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের পড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের বয়স ও শারীরিক অবস্থার প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। যেসব অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মধ্যে যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হওয়ার বয়স ও অবস্থা তৈরি হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও পর্দার বিধান ও ফিতনার আশঙ্কা বিবেচনা করতে হবে। এমনিভাবে ছেলের ক্ষেত্রেও।
৩. ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে পড়ানোর ক্ষেত্রে শরিয়তবিরোধী মেলামেশা, নির্জনে অবস্থান এবং ফিতনার আশঙ্কা থেকে বিরত থাকতে হবে।-ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ১২/১৪৯, ১৫৬।
শরঈ দলীল:
الموسوعة الفقهية الكويتية:
"اختلاط الرجال بالنساء: يختلف حكم اختلاط الرجال بالنساء بحسب موافقته لقواعد الشريعة أو عدم موافقته، فيحرم الاختلاط إذا كان فيه:
أ - الخلوة بالأجنبية، والنظر بشهوة إليها.
ب - تبذل المرأة وعدم احتشامها.
ج - عبث ولهو وملامسة للأبدان كالاختلاط في الأفراح والموالد والأعياد، فالاختلاط الذي يكون فيه مثل هذه الأمور حرام، لمخالفته لقواعد الشريعة.
قال تعالى: {قل للمؤمنين يغضوا من أبصارهم} . . . {وقل للمؤمنات يغضضن من أبصارهن} .
وقال تعالى عن النساء: {ولا يبدين زينتهن} وقال: {إذا سألتموهن متاعا فاسألوهن من وراء حجاب} (1) . ويقول النبي صلى الله عليه وسلم: لا يخلون رجل بامرأة فإن ثالثهما الشيطان (2) وقال صلى الله عليه وسلم لأسماء بنت أبي بكر يا أسماء إن المرأة إذا بلغت المحيض لم يصلح أن يرى منها إلا هذا وهذا وأشار إلى وجهه وكفيه ...
ويجوز الاختلاط إذا كانت هناك حاجة مشروعة مع مراعاة قواعد الشريعة."
(اختلاط، ج:2، ص:290-291، ط:وزارة الأوقاف والشئون الإسلامية - الكويت)
و فیہ ایضاً:
"ويجب أن يكون تعليم النساء مع مراعاة آداب أمر الشارع المرأة بالتزامها للحفاظ على عرضها وشرفها وعفتها، من عدم الاختلاط بالرجال، وعدم التبرج، وعدم الخضوع بالقول إذا كانت هناك حاجة للكلام مع الأجانب."
(تعليم و تعلم، تعليم النساء، ج:13، ص:13، وزارة الأوقاف والشئون الإسلامية - الكويت)
فتاوی رحیمیہ :
"مراہقہ اور بالغہ لڑکیوں کو بلا حجاب پڑھانا درست نہیں، پردہ کا اہتمام ہو اور خلوت نہ ہو تو گنجائش ہےمگر خلاف احتیاط ہے لہذ ا محرم یا عورت ہی سے پڑھایا جائے ۔۔۔"
(کتاب الصلاۃ، صلاۃ من یصلح اماما لغیرہ، ج:4، ص:186، ط:دار الاشاعت)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সিনিয়র মুহাদ্দিস, মাদরাসা দারুর রাশাদ, মিরপুর
খতীব, বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদ, মিরপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন