রেমিটেন্সের সরকারী প্রণোদন কি সুদ?
প্রশ্নঃ ৯৬৩৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার বয়স ১৯। আমাদের যৌথ পরিবার, বাবা মৃত।এখন বড় ভাই বিদেশ থেকে পরিবারের জন্য খরচের টাকা পাঠিয়ে থাকে,(মায়ের ব্যাংক একাউন্টে)। ইদানিং বিদেশ থেকে টাকা পাঠালে প্রতি লক্ষের সাথে ২ হাজার টাকা বেশি দিচ্ছে,যতটুকু জানতে পেরেছি এই অতিরিক্ত টাকা নিজের জন্য খরচ করা হারাম।
এখন বিষয় হচ্ছে, আমার মা এই অতিরিক্ত টাকা গুলো ত্যাগ করতে অস্বীকার করতেছে।আমি অনেক বুঝানোর চেষ্টা করতেছি যে এটি সম্পদের হারাম অংশ, কিন্তু আমার কথায় মা কর্ণ পাত করতেছে না,,এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ অবস্থায় আমার কি করণীয়? আমি কি হারাম থেকে বাঁচার জন্য পরিবার ত্যাগ করবো? ত্বাকওয়ার জন্য এ অবস্থায় আমি কি করবো??
২৪ মার্চ, ২০২৪
টঙ্গী
১১৩ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সরকার রেমিট্যান্সকে বৈধ চ্যানেলে আনার জন্যই উৎসাহ দিতে ২ শতাংশ ( বর্তমানে ৫%) হারে নগদ টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সংসদীয় বাজেটে। অবৈধভাবে অর্থ পাচার বন্ধ করতেই সরকারের এই উদ্যোগ। হুন্ডি থেকে মানুষকে নিরুত্সাহিত করাই মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি এর মাধ্যমে রেমিটেন্স সঞ্চয়ও বৃদ্ধি পাবে।
বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা খুব সহজে এবং সুবিধাজনক পদ্ধতিতে অনুমোদিত এবং তালিকাভুক্ত যেকোনো ফরেইন ব্যাংক, মানি ট্রান্সফার অর্গানাইজেশন(এমটিও) এবং মানি এক্সচেইঞ্জ হাউজগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রিয়জনের কাছে টাকা পাঠাতে পারছে। পাশাপাশি গ্রাহকরা শতকরা দুই টাকা অতিরিক্ত অতিরিক্ত প্রফিট পাচ্ছে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে একথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সরকার রেমিট্যান্সের উপর যে দুই পার্সেন্ট হারে প্রফিট প্রদান করছে- শরিয়া ক্লাসিফিকেশন অনুযায়ী তা সরকারের পক্ষ থেকে ‘ইনআম’ বা ‘পুরস্কার’।
এই টাকাটা বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি রাজস্ব থেকেই সমন্বয় করছে। অর্থাৎ সরকার থার্ড পার্টি হিসেবে রেমিট্যান্সের উপর শতকরা দুই টাকা হারে প্রোভাইড(লাভ দিচ্ছে)করছে। তাই এটি গ্রহণ করতে কোনো অসুবিধা নেই। সুদ হবে না।
যদিও ধরে নেয়া হয় যে- অনুমোদিত এবং তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোই শতকরা এই দুই টাকা প্রোভাইড করছে তাহলেও তা গ্রহণ বৈধ হবে। কারণ তখন ধরা হবে সরকার ফরেইন মুদ্রার মূল্য শতকরা দুই টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী এটাও বৈধ। এটা সুদ নয়।। অর্থাৎ টাকার বিনিময়ে অতিরিক্ত টাকা প্রদান নয়।
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
সরকারের দেওয়া প্রণোদনা গ্রহণ করা সাধারণত জায়েজ। বিশেষ করে এখানে আপনাকে আপনাদের সম্পদ থেকেই কিছু অংশ সরকারী মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রে উৎসাহিত করার জন্য দেওয়া হচ্ছে। এটি কোনো সুদ নয়। অতএব, এই প্রণোদনা নেওয়া জায়েজ।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
ইসহাক মাহমুদ
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৭
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন