প্রবন্ধ
যাকাত: পরিচয়, বিধান ও বর্তমান নিসাব
২ মার্চ, ২০২৬
২৮১০১
০
১৪৪৭ হি, মোতাবেক ২০২৬ ইং সনে যাকাতের হিসাব
বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার মূল্য হিসেবে যাকাত-ফিতরার নেসাব ২,৩০,০০০/-(দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা)
যাকাত শব্দের অর্থ
যাকাত শব্দ চারটি অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পবিত্রতা, ক্রমবৃদ্ধি, আধিক্য ও প্রশংসা। এবং এসব কয়টি অর্থই কুরআন ও হাদীসে উদৃত হয়েছে। শরীয়াতের পরিভাষায় যাকাত বলা হয়
সামর্থ্যবান ব্যক্তির সম্পদে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক ফরযকৃত অংশ উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গের নিকট সময়মতো হস্তান্তর করা। (বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন: ইসলামে যাকাত ব্যবস্থা; কিছু ফাযাইল ও মাসাইল)
যাকাতের নেসাব
যার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ আছে এবং তার ওপর বছর অতিক্রান্ত হয়েছে এমন আকেল (সুস্থবিবেক সম্পন্ন), বালেগ, স্বাধীন (দাসদাসী নয়) মানুষের ওপর যাকাত ফরজ।
মৌলিকভাবে যে সম্পদের উপর যাকাত আসে
এক. স্বর্ণ। দুই. রূপা। তিন. টাকা। চার. ব্যবসার পণ্য। পাঁচ. পালিত পশু (নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী)
স্বর্ণরূপার যাকাতে ক্ষেত্রে বিধান হলো,
(ক) যদি শুধু স্বর্ণ থাকে (রূপা, টাকা, বা ব্যবসার পণ্য না থাকে) তাহলে তার নেসাব হলো, সাড়ে সাত ভরি। সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের বাজারমূল্য যা হবে তার শতকরা ২.৫% যাকাত হিসেবে নির্ধারিত হবে।
(খ) যদি শুধু রূপা থাকে (স্বর্ণ, টাকা বা ব্যবসার পণ্য না থাকে) তাহলে তার নেসাবের পরিমাণ হলো, সাড়ে বায়ান্ন ভরি। সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার বাজারমূল্য যা হবে তার শতকরা ২.৫% যাকাত হিসেবে নির্ধারিত হবে।
(গ) ব্যবসার পণ্যের ক্ষেত্রে বিধান রূপার ন্যায়। অর্থাৎ সেগুলোর মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয় তাহলে তার শতকরা ২.৫% যাকাত হিসেবে নির্ধারিত হবে।
যদি কারো কাছে কিছু স্বর্ণ কিছু রূপা, বা কিছু স্বর্ণ, কিছু টাকা বা ব্যবসার পণ্য থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে যাকাত নির্ধারণের বিধান হলো, সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার মূল্য। অর্থাৎ, সেগুলোর সামষ্টিক মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমান হয় এবং বিগত একবছর যাবত সেগুলো বহাল থাকে তাহলে যাকাত দিতে হবে। মোট কথা, সামষ্টিক সম্পদ মিলেও যদি নেসাব হয়ে যায় তাহলে তার যাকাত দিতে হবে। আর যাকাতের পরিমাণ হলো, সকল বস্তুর ক্ষেত্রেই শতকরা ২.৫%।
আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা
আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা আছে তাহলো, মানুষ মনে করে প্রতিটি টাকাই পূর্ণ এক বছর থাকতে হবে। এ ধারণা মূলত সঠিক নয়। বরং কোন ব্যক্তি বছরের শুরুতে একবার নিসাবের মালিক হলেই তাকে নিসাবের মালিক ধরা হবে। যেমন মনে করুন, এক ব্যক্তি পহেলা রামাযান নিসাবের মালিক হলো, তারপরের বছর যখন পহেলা রামাযান এলো তখনও সে নিসাবের মালিক থাকলো। তাহলে এ ব্যক্তিকে ছাহিবে নিসাব বা নিসাবওয়ালা বলা হবে। বছরের মাঝখানে যেসব টাকা-পয়সা আসা যাওয়া করেছে, সেগুলো ধর্তব্য নয়। শুধু দেখতে হবে পহেলা রামাযানে তার নিকট কত টাকা আছে। তার উপরই যাকাত দিতে হবে। এমনকি এই টাকাগুলোর মধ্যে ওই টাকাও যোগ হবে, যা মাত্র একদিন পূর্বে এসেছে।
যাকাত হিসাব করার তারিখে যে পরিমাণ সম্পদ হাতে থাকে, তার উপরই যাকাত
মনে করুন, এক ব্যক্তির কাছে রামাযানের এক তারিখে ছিলো এক লাখ টাকা। পরবর্তী বছর প্রথম রামাযানে দুদিন পূর্বে আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা তার হাতে এসে গেলো। এখন এই দেড় লাখ টাকার উপরই যাকাত ফরজ হবে। এটা বলা যাবে না, এ পঞ্চাশ হাজার টাকা এলো মাত্র দুদিন আগে। এ পঞ্চাশ হাজার টাকা তো এক বছর ব্যাপী ছিল না। সুতরাং এর উপর যাকাত হবে না। বরং যাকাত হিসাব করার তারিখে যত সম্পদ আপনার মালিকানায় থাকবে এর থেকেই যাকাতের পূর্ববর্তী রামাযানের প্রথম তারিখ থেকে পরিমাণে কম হোক বা বেশি হোক। যেমন পূর্ববর্তী রামাযানের প্রথম তারিখে আপনার কাছে ছিল এক লাখ টাকা। এখন হিসাব করার দিন আছে দেড় লাখ টাকা। তাহলে যাকাত দিতে হবে দেড় লাখ টাকার। অনুরূপভাবে মনে করুণ, পূর্ববর্তী রামাযানের প্রথম তারিখে আপনার কাছে ছিল দেড় লাখ টাকা। এখন হিসাব করার দিন আপনার কছে আছে পঞ্চাশ হাজার টাকা। মাঝখানে আপনার যে টাকা ব্যয় হয়েছে এর কোন হিসাব নেই। সেই ব্যয়িত টাকার হিসাব বের করার প্রয়োজন নেই। অনুরূপভাবে মাঝখানে আপনার যে টাকা আয় হয়েছে, তার হিসাব রাখাও আপনার জরম্নরী নয়। কারণ মাঝখানের আয়-ব্যয় যাকাতের হিসেবে বিবেচ্য নয়। বরং দেখতে হবে, যেদিন আপনার বছর পূর্ণ হয়, সেদিন আপনার মালিকানায় কত সম্পদ আছে। সেটার উপর যাকাত আসবে। হিসাব-নিকাশের ঝক্কি ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আল্লাহ তা‘য়ালা বিষয়টিকে এতোটা সহজ করে দিয়েছেন। এটাই এক বছর পূর্ণ হওয়ার অর্থ।
যাকাতের আরো কিছু মাসায়েল জানতে ক্লিক করুন।
উল্লেখ্য: যাকাতের বিধিবিধান অত্যন্ত ব্যাপক; যার বিস্তারিত আলোচনা এখানে করা সম্ভব নয়।
বিস্তারিত জানতে “যাকাতের ফাযায়েল ও মাসায়েল” নামক ক্যাটাগরিতে ক্লিক করুন।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
রমাযানে আকাবিরের তারাবীহ, তাহাজ্জুদ ও কুরআন তিলাওয়াত
রমাযানুল মুবারক অত্যাসন্ন। এ মাসটি মুমিনের জন্য পরকালীন ফসল সংগ্রহের এক সুবর্ণ সুযোগ। কোন কাঙ্ক্ষিত ...
মাহে রমাযান উপলক্ষে আমাদের প্রস্তুতি
মাহে রমাযান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি এক বিশেষ নিয়ামত। এ মাসে ইবাদতের ময়দানে মাসব্যাপী...
হাদীস ও সুন্নাহর আলোকে তারাবীর নামায
بسم الله الرحمن الرحيم نحمد الله تبارك وتعالى، ونصلي على صفوة خلقه سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم، ال...
যে সময়গুলো নষ্ট হচ্ছে সেগুলোই আসল সময়
এক এক মুহূর্তের সমষ্টিই তো জীবন। প্রতিটি মুহূর্ত সময়ের একটি অংশ। সময়ের আলাদা কোনো অস্তিত্ব যেহেতু ...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন