দু'আ (আযান-ইকামাত অধ্যায়)

মোট বিষয় - টি

সকল দু'আ একত্রে দেখুন

.

আজান ও ইকামত কাকে বলে?

الإقامة/ الأذان
উচ্চারণঃ

১. আজান কাকে বলে? আজান (الأذان) শব্দের অর্থ হলো ঘোষণা, আহ্বান বা অবহিত করা। ইসলামী পরিভাষায়, ফরজ নামাজের সময় শুরু হয়েছে—এ কথা মানুষকে জানিয়ে জামাতে নামাজের জন্য আহ্বান জানাতে নির্ধারিত শব্দমালার মাধ্যমে যে ঘোষণা দেওয়া হয়, তাকে আজান বলে। عَنْ مَالِكِ بْنِ الحُوَيْرِثِ، أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَفَرٍ مِنْ قَوْمِي، فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً، وَكَانَ رَحِيمًا رَفِيقًا، فَلَمَّا رَأَى شَوْقَنَا إِلَى أَهَالِينَا، قَالَ: «ارْجِعُوا فَكُونُوا فِيهِمْ، وَعَلِّمُوهُمْ، وَصَلُّوا، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ، وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ» মালিক ইবনে হুওয়াইরিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার গোত্রের কয়েকজন লোকের সঙ্গে নবী (ﷺ) এর কাছে এলাম এবং আমরা তার নিকট বিশ রাত অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অত্যন্ত দয়ালু ও বন্ধু বৎসল ছিলেন। তিনি যখন আমাদের মধ্যে নিজ পরিজনের কাছে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর, আর তাদের দ্বীন শিক্ষা দিবে এবং নামায আদায় করবে। যখন নামাযের সময় উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বয়সে বড় তিনি ইমামতি করবেন।- সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬০০ আন্তর্জাতিক নং: ৬২৮ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ الْمُسْلِمُونَ حِينَ قَدِمُوا الْمَدِينَةَ يَجْتَمِعُونَ فَيَتَحَيَّنُونَ الصَّلَوَاتِ وَلَيْسَ يُنَادِي بِهَا أَحَدٌ فَتَكَلَّمُوا يَوْمًا فِي ذَلِكَ فَقَالَ بَعْضُهُمُ اتَّخِذُوا نَاقُوسًا مِثْلَ نَاقُوسِ النَّصَارَى وَقَالَ بَعْضُهُمْ قَرْنًا مِثْلَ قَرْنِ الْيَهُودِ فَقَالَ عُمَرُ أَوَلاَ تَبْعَثُونَ رَجُلاً يُنَادِي بِالصَّلاَةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا بِلاَلُ قُمْ فَنَادِ بِالصَّلاَةِ " . আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলমানরা মদীনায় আসার পর একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ে নামায পড়ে নিত। এ জন্য কেউ আযান দিত না। একদিন তারা ব্যাপারটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করল। তাদের একজন বলল, নাসারাদের নাকূসের অনুরূপ একটা নাকূস (শঙ্খ) ব্যবহার কর। তাদের অপরজন বলল, ইহুদীদের শিঙ্গার অনুরূপ একটি শিঙ্গা ব্যবহার কর। উমর (রাযিঃ) বললেন, তোমরা নামাযের জন্য আহবান করতে একটি লোক পাঠাওনা কেন? রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হে বিলাল! উঠো এবং নামাযের জন্য ডাক দাও (আযান দাও)।-সহীহ মুসলিম: হাদীস নং: ৭২৩ আন্তর্জাতিক নং: ৩৭৭ ২. ইকামত কাকে বলে? ইকামত (الإقامة) শব্দের অর্থ দাঁড় করানো, প্রতিষ্ঠা করা বা শুরু করা। ইসলামী পরিভাষায়, জামাতে ফরজ নামাজ শুরু হওয়ার ঠিক পূর্বে নির্ধারিত বাক্যসমষ্টির মাধ্যমে মুসল্লিদের নামাজে দাঁড়ানোর জন্য যে ঘোষণা দেওয়া হয়, তাকে ইকামত বলে। عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: «أُمِرَ بِلاَلٌ أَنْ يَشْفَعَ الأَذَانَ، وَأَنْ يُوتِرَ الإِقَامَةَ إِلَّا الإِقَامَةَ» আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিলাল (রাযিঃ) কে আযানের শব্দ দু’বার এবং قد قامت الصلاة ব্যতীত ইকামতের শব্দগুলো বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।-সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৭৮, আন্তর্জাতিক নং: ৬০৫

.

আযান এবং আযানের উত্তর

اَللهُ اَكْبَرْ উত্তরে বলবে: اَللهُ اَكْبَرْ (৪ বার ) اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهْ উত্তরে বলবে: اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا الله ( ২ বার ) اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ উত্তরে বলবে: اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ ( ২ বার ) حَيَّ عَلَي الصَّلٰوةِ উত্তরে বলবে: لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ (২ বার) حَيَّ عَلَي الفَلَاحِ উত্তরে বলবে: لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ (২ বার ) (শুধুমাত্র ফজরের সময়) اَلصّلٰوةُ خَيْرٌمِّنَ النَّوْمِ উত্তরে বলবে: صَدَقْتَ وَ بَرَرْتَ (২ বার) اَللهُ اَكْبَرْ উত্তরে বলবে: اَللهُ اَكْبَرْ (২ বার ) لَا اِلٰهَ اِلَّا الله উত্তরে বলবে: لَا اِلَهَ اِلَّا الله (১ বার )
উচ্চারণঃ

আল্লা-হু আকবর উত্তরঃ আল্লা-হু আকবর (৪ বার) আশহাদু-আল্‌ লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ উত্তরঃ আশহাদু-আল্‌ লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ (২ বার) আশহাদু-আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ উত্তরঃ আশহাদু-আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ (২ বার) হাইয়া আলাস সালা উত্তরঃ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ্‌ (২ বার) হাইয়া আলাল ফালা উত্তরঃ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ্‌ (২ বার) (শুধুমাত্র ফযরের আযানের জন্য) আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম উত্তরঃ সাদাকতা ও বারারতা (২ বার) আল্লা-হু আকবর উত্তরঃ আল্লা-হু আকবার (২ বার) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ উত্তরঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (১ বার)

অর্থঃ

আল্লাহ সর্বশক্তিমান উত্তরঃ আল্লাহ সর্বশক্তিমান (৪ বার) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই উত্তরঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই (২ বার) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (স) আল্লাহর প্রেরিত দূত উত্তরঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (স) আল্লাহর প্রেরিত দূত (২ বার) নামাজের জন্য এসো উত্তরঃ আল্লাহর আশ্রয় ও শক্তি ছাড়া আর কারো কোন ক্ষমতা নাই (২ বার) সাফল্যের জন্য এসো উত্তরঃ আল্লাহর আশ্রয় ও শক্তি ছাড়া আর কারো কোন ক্ষমতা নাই (শুধুমাত্র ফযরের আযানের জন্য) ঘুম হতে নামাজ উত্তম উত্তরঃ সত্য বলেছেন, কল্যানের কথা বলেছেন (২ বার) আল্লাহ্ মহান উত্তরঃ আল্লাহ্ মহান (২ বার) আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই উত্তরঃ আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই (১ বার)

.

আযানের শেষে পড়ার দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ رَبَّ هٰذِهِ الدَّعْوَةِ التَّآمَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ اٰتِ مُحَمَّدَنِ الْوَسِيْلَةَ وَالْفَضِيْلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَّحْمُوْدَنِ الَّذِيْ وَعَدْتَّهٗ. اِنَّكَ لَاۤ تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা রাব্বাহা-যিহিদ্‌ দা’ওয়াতিত্তাম্মাহ্‌, ওয়াস্‌ সালাতিল ক্বা-ইমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদ্বি-লাহ, ওয়াব’আছহু মাক্বামাম্‌ মাহ্‌মু-দানিল্‌লাযি ওয়া ’আত্তাহ, ইন্নাকা লা-তুখ্‌লিফুল মিয়াদ্‌।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! (তুমি) এ পরিপূর্ণ আহ্বানের এবং চিরস্থায়ী নামাযের প্রভু। তুমি মুহাম্মদ (ﷺ)-কে নৈকট্যের উসিলা, মহত্ত্ব এবং সর্বাপেক্ষা প্রশংসিত স্থানে (অর্থাৎ মাকামে মাহমুদে) আবির্ভূত করো, যার ওয়াদা তুমি তাঁকে দিয়েছো। নিশ্চয়ই তুমি কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করো না।

.

ইকামাত ও ইকামাতের উত্তর

اَللهُ اَكْبَرْ الرد: اَللهُ اَكْبَرْ (৪ বার ) اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهْ الرد: اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهْ ( ২ বার ) اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ الرد: اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ ( ২ বার ) حَيَّ عَلَي الصَّلوةِ الرد: لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ (২ বার) حَيَّ عَلَي الفَلَاحِ الرد: لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ (২ বার ) (শুধুমাত্র ঈকামাতের সময়) قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ الرد: أَقَامَهَا اللهُ وَأَدَامَهَا (২ বার) اَللهُ اَكْبَرْ الرد: اَللهُ اَكْبَرْ (২ বার ) لَا اِلَهَ اِلَّا الله الرد: لَا اِلَهَ اِلَّا الله (১ বার )
উচ্চারণঃ

আল্লা-হু আকবর উত্তরঃ আল্লা-হু আকবর (৪ বার) আশহাদু-আল্‌ লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ উত্তরঃ আশহাদু-আল্‌ লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ (২ বার) আশহাদু-আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ উত্তরঃ আশহাদু-আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ (২ বার) হাইয়া আলাস সালা উত্তরঃ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ্‌ (২ বার) হাইয়া আলাল ফালা উত্তরঃ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ্‌ (২ বার) (শুধুমাত্র ঈকামাতের জন্য) কাদ কামাতিস সালাহ্ উত্তরঃ আকামাহাল্লাহু ওয়া আদমাহা। (২ বার) আল্লা-হু আকবর উত্তরঃ আল্লা-হু আকবর (২ বার) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ উত্তরঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (১ বার)

অর্থঃ

আল্লাহ সর্বশক্তিমান উত্তরঃ আল্লাহ সর্বশক্তিমান (৪ বার) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই উত্তরঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই (২ বার) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (স) আল্লাহর প্রেরিত দূত উত্তরঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (স) আল্লাহর প্রেরিত দূত (২ বার) নামাজের জন্য এসো উত্তরঃ আল্লাহর আশ্রয় ও শক্তি ছাড়া আর কারো কোন ক্ষমতা নাই (২ বার) সাফল্যের জন্য এসো উত্তরঃ আল্লাহর আশ্রয় ও শক্তি ছাড়া আর কারো কোন ক্ষমতা নাই (২বার) (শুধুমাত্র ঈকামাতের জন্য) নামায দাঁড়িয়ে যাচ্ছে উত্তরঃ আল্লাহ নামাযকে কায়েম করার তাওফিক দিন ও সর্বদা জারি রাখেন। (২ বার) আল্লাহ্ মহান উত্তরঃ আল্লাহ্ মহান (২ বার) আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই উত্তরঃ আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই (১ বার)