অনিয়মিত ঋতুস্রাবের শরয়ী রুকইয়া
সমস্যা ঋতুস্রাব তিন দিনের কম বা দশ দিনের বেশি স্থায়ী হওয়া, এক মাসে একাধিকবার ঋতুস্রাব হওয়া অথবা কয়েক মাস পর পর ঋতুস্রাব শুরু হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা। সম্ভাব্য লক্ষণ ১. মাসের পর মাস অস্বাভাবিকভাবে স্রাব চলতে থাকা। ২. বয়স উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া। ৩. ঋতুস্রাব চলাকালে তলপেটে অতিরিক্ত ব্যথা অনুভব করা। ৪. ঋতুস্রাব বন্ধ থাকাকালে অতিরিক্ত সাদা স্রাব হওয়া। ৫. অনিদ্রা, দুঃস্বপ্ন দেখা বা ঘুমের মধ্যে বোবা ধরা। দ্রষ্টব্য: এসব লক্ষণ থাকলেই জ্বিন, জাদু বা অন্য কোনো অদৃশ্য কারণ রয়েছে, এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো বিভিন্ন শারীরিক বা হরমোনজনিত সমস্যার কারণেও হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহ করা যেতে পারে। রুকইয়াহর করণীয় প্রথমে জ্বিনের প্রভাব আছে কি না তা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে জ্বিনের রুকইয়াহ করা হবে। যদি রুকইয়াহ চলাকালে জ্বিন প্রকাশ পায়, তাহলে পূর্বে বর্ণিত শরয়ী পদ্ধতিতে তাকে বিদায় করার চেষ্টা করা হবে। আর যদি জ্বিনের কোনো লক্ষণ প্রকাশ না পায়, তাহলে দুটি বোতল পানির ওপর নির্ধারিত সূরা ও আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে ফুঁ দিতে হবে। একটি বোতলের পানিতে মধু মিশিয়ে রোগী পান করবেন এবং অন্য বোতলের পানি দিয়ে গোসল করবেন।
অনিয়মিত ঋতুস্রাব (মাসিক) ও বেদনার চিকিৎসা: যদি কোন স্ত্রীলোকের মাসিক রীতিমতো না হয়, যার কারণে ব্যথায় কষ্ট পায়, তাকে নিম্নবর্ণিত কুরআনুল কারীমের আয়াত তিনটি কোন আল্লাহ ওয়ালা মুত্তাকী আলিম এর মাধ্যমে লিখে কোমরে বেঁধে দিবে। এমন ভাবে বাঁধতে হবে, যেন তাবিজ জরায়ুর উপরে থাকে। ইনশাআল্লাহ আরোগ্য লাভ করবে। আয়াত তিনটি এই : وَجَعَلۡنَا فِیۡہَا جَنّٰتٍ مِّنۡ نَّخِیۡلٍ وَّاَعۡنَابٍ وَّفَجَّرۡنَا فِیۡہَا مِنَ الۡعُیُوۡنِ ۙ এতে আমি সৃষ্টি করি খর্জুর ও আঙুরের উদ্যান এবং এতে উৎসারিত করি প্রস্রবণ, —ইয়াসীন - ৩৪ لِیَاۡکُلُوۡا مِنۡ ثَمَرِہٖ ۙ وَمَا عَمِلَتۡہُ اَیۡدِیۡہِمۡ ؕ اَفَلَا یَشۡکُرُوۡنَ যাতে এরা আহার করতে পারে এর ফলমূল হতে, অথচ এদের হস্ত তা সৃষ্টি করে নাই। তবুও কি এরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না ? —ইয়াসীন - ৩৫ اَوَلَمۡ یَرَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ کَانَتَا رَتۡقًا فَفَتَقۡنٰہُمَا ؕ وَجَعَلۡنَا مِنَ الۡمَآءِ کُلَّ شَیۡءٍ حَیٍّ ؕ اَفَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে, এরপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম ; এবং প্রাণবান সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলাম পানি হতে; তবু কি এরা ঈমান আনবে না ? —আল আম্বিয়া - ৩০
দু'আর বিষয়সমূহ
38টি বিষয় পাওয়া গেছে