মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
লি'আন অধ্যায়
হাদীস নং: ৫০
লি'আন অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: লি'আনের কারণে এবং অপবাদ ও লি'আন সংক্রান্ত আয়াতের ব্যাখ্যা এবং হিলাল ইবন উমাইয়া (রা)-এর ঘটনা।
৫০। ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়-
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا
অর্থ : যারা সাব্বী রমণীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি কশাঘাত করবে এবং কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না।
তখন আনসারী সাহাবীদের সরদার সা'দ ইবন উবাদা (রা) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আয়াত কি এরূপই অবতীর্ণ হয়েছে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়। তোমাদের সরদার কী বলেন তা কি তোমরা গুনছ না? তারা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! তাকে ভর্ৎসনা করবেন না, কেননা তিনি অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন ব্যক্তি। আল্লাহর শপথ! তাঁর মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধের অতিশয়তাবশত তিনি কুমারী ব্যতীত অন্য কোন নারীকে বিবাহ করেন নি আর তিনি যে নারীকে তালাক দিয়েছেন তাকে আমাদের মধ্যে কেউ বিবাহ করার দুঃসাহস দেখায় নি। এরপর সা'দ (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ! ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! নিশ্চয় আমি বিশ্বাস করি যে এ আয়াত সত্য এবং তা আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু আমি এ জন্য বিস্মিত হচ্ছি যে, যদি আমি কোন ইতরকে (অর্থাৎ নিজ স্ত্রীকে) দেখি যে, কোন পুরুষ তার উরুর সঙ্গে উরু মিলিয়ে রেখেছে তবে চারজন সাক্ষী উপস্থিত না করে আমি তাকে তাড়াও করতে পারব না এবং নাড়াও দিতে পারব না। আল্লাহর শপথ! আমি তাদেরকে উপস্থিত করতে করতে সে তো তার কাজ সেরে ফেলবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ অবস্থায় তারা কিছুকাল অতিবাহিত করলেন। ইতিমধ্যে হিলাল ইবন উমাইয়া (রা) যে তিনজনের তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করায়) তাওবা গৃহিত হয় তিনি তাদের একজন ছিলেন- তিনি সন্ধ্যা রাতে তার জমি হতে এসে নিজ স্ত্রীর নিকট এক পুরুষকে পান। তিনি তাকে স্বচক্ষে দেখেন এবং নিজ কানে (শব্দ) শুনেন। তিনি তাকে তাড়া করলেন না। ভোর হলে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আমি সন্ধ্যা রাতে আমার স্ত্রীর নিকট এসে তার কাছে এক পুরুষকে (আপত্তিকর অবস্থায়) পেয়েছি। আমি স্বচক্ষে দেখিছি এবং কানেও শব্দ শুনেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সংবাদটিকে অপছন্দ করলেন এবং এটা তার নিকট ভারি বোধ হল। আনসারী সাহাবীগণ একত্র হয়ে বললেন, সা'দ যা বলেছেন আমরাও সে বিপদে আক্রান্ত হয়ে পড়েছি। এখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিলাল ইবন উমাইয়া (রা)-কে বেত্রাঘাত করবেন এবং মুসলমানদের পক্ষে তার সাক্ষ্য বাতিল করবেন। এরপর হিলাল (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি আশা রাখি যে, আল্লাহ আমাকে এই বিপদ হতে মুক্ত হওয়ার রাস্তা দেখাবেন। তারপর হিলাল (রা) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! নিশ্চয় আমি আপনার নিকট যে ঘটনা নিয়ে এসেছি, তা আপনার নিকট ভারি বোধ হচ্ছে; কিন্তু আল্লাহ জানেন যে, আমি এ ক্ষেত্রে সত্যবাদী। (বর্ণনাকারী বলেন) আল্লাহর শপথ! রাসূলূল্লাহ তাকে বেত্রাঘাত করার সংকল্প করেছিলেন। এমন সময় আল্লাহ তাঁর রাসূল-এর ওপর ওহী অবতীর্ণ করলেন। যখন তার ওপর ওহী অবর্তীণ হত, তখন সাহাবীগণ তার চামড়ায় বিবর্ণতা দেখে বুঝতে পারতেন। অর্থাৎ (ওহী অবতীর্ণ হতে দেখে) ওহীর অবতরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা তার সংগে কথাবার্তা বলা হতে বিরত থাকলেন। অনন্তর নাযিল হল-
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ الْآيَةَ .
"এবং যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি ব্যভিচারের অভিযোগ তোলে, অথচ নিজেরা ব্যতীত কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করবে।”
অবতীর্ণ হলে রাসূলূল্লাহ আনন্দিত হয়ে বললেন, হে হিলাল! শুভ সংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহ তোমার জন্য স্বস্তি ও মুক্তির বিধান অবতীর্ণ করেছেন। হিলাল (রা) বললেন, আমি আমাদের প্রভু হতে তাই আশা করেছিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (সাহাবীদেরকে) বললেন, তোমরা তার স্ত্রীকে ডেকে পাঠাও। তারা তাকে ডেকে পাঠালে সে আসল। রাসূলূল্লাহ তাদের উভয়কে উক্ত আয়াত পড়ে শুনান ও নসীহত করেন এবং সংবাদ দেন যে, নিশ্চয় আখিরাতের আযাব দুনিয়ার শাস্তি অপেক্ষা কঠিনতর। হিলাল (রা) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি তার ব্যাপারে সত্য বলেছি। স্ত্রী বলল, সে মিথ্যা বলেছে। শেষে রাসূলূল্লাহ বললেন, তোমরা তাদের ওপর লি'আন কার্যকর কর। তারপর হিলাল (রা)-কে বলা হল, তুমি সাক্ষ্য দাও। তখন তিনি আল্লাহর শপথ করে চারবার সাক্ষ্য দিলেন যে, তিনি সত্যবাদী। পঞ্চমবার বলার সময় হিলাল (রা)-কে বলা হল, হে হিলাল! আল্লাহকে ভয় কর কেননা, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাব অপেক্ষা সহজতর আর নিঃসন্দেহে এটা হল আবশ্যককারী, যা তোমার ওপর আযাব অবধারিত করবে। এরপর হিলাল (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি আমাকে এ কারণে শাস্তি দিবেন না; যেমন তিনি আমাকে এ কারণে বেত্রাঘাত করেননি। তারপর তিনি পঞ্চমবার সাক্ষ্য দিলেন যে, যদি তিনি মিথ্যাবাদী হন তবে তার ওপর আল্লাহর লা'নত। এরপর স্ত্রীলোককে বলা হল, তুমি আল্লাহর শপথ করে সাক্ষ্য দাও যে, সে মিথ্যাবাদী। এরপর পঞ্চমবারে তাকে বলা হল, আল্লাহকে ভয় কর। কেননা, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাব অপেক্ষা সহজতর আর নিঃসন্দেহে এটা হল আবশ্যককারী, যা তোমার ওপর আযাব অবধারিত করবে। (বর্ণনাকারী বলেন) তখন সে কিছুক্ষণ বিরত রইল। তারপর বলল, আল্লাহর শপথ! আমি আমার সম্প্রদায়কে অপদস্থ করব না। তারপর সে পঞ্চমবার সাক্ষ্য দিল যে, যদি সে (পুরুষ) সত্যবাদী হয় তবে তার ওপর আল্লাহর গযব। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের উভয়কে পৃথক করে দিলেন এবং তিনি নির্দেশ দিলেন যে, তার সন্তানকে পিতার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে ডাকা যাবে না। তাকে (স্ত্রীলোক) এর (সন্তানের) কারণে অথবা তার সন্তানকে অপবাদ দেওয়া যাবে না। যে ব্যক্তি তাকে (স্ত্রীলোককে) অথবা তার সন্তানকে অপবাদ দিবে তার ওপর দণ্ড কার্যকর হবে। এবং তিনি আরো নির্দেশ দেন যে, সে (মহিলা) যেহেতু তালাক ব্যতীত পৃথক হয়েছে এবং তাকে রেখে স্বামীর মৃত্যুও হয়নি তাই সে খোরপোষ এবং বাসস্থান পাবে না। এরপর তিনি বলেন, যদি সে এমন সন্তান প্রসব করে যার চুল লালচে রংয়ের আর উরু, নিতম্ব ও গোছা হালকা পাতলা তবে সে হবে হিলাল ইবন উমাইয়ার। আর যদি সে বাদামী রং, কোকড়ানো চুল, মোটাতাজা, স্থুল গোছা ও বড় নিতম্ববিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তবে তা হবে ঐ লোকের যার দ্বারা তাকে (স্ত্রীলোককে) অভিযুক্ত করা হয়েছে। এরপর সে (স্ত্রীলোক) বাদামী রং, কোকড়ানো চুল, মোটাতাজা, স্থুল গোছাবিশিষ্ট, বড় নিতম্ববিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে। তখন রাসূলূল্লাহ বললেন, যদি শপথের বিধান না থাকত তবে তোমরা দেখতে, আমি তার কি অবস্থা করতাম। বর্ণনাকারী 'ইকরিমা (র) বলেন, পরবর্তীতে এই সন্তান এক শহরের গভর্নর হয়। তাকে তার মায়ের সাথে সম্পর্ক করা হত, পিতার সাথে নয়।
(আবূ দাউদ, বায়হাকী। হাদীসটির সূত্রে বর্ণনাকারী আব্বাদ ইবন মানসূর বিতর্কিত। অনেকে তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন আর অনেকে বলেছেন দুর্বল। তবে হাদীসটির সহায়ক অনেক বর্ণনা রয়েছে যা বুখারী মুসলিমসহ অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।)
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا
অর্থ : যারা সাব্বী রমণীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি কশাঘাত করবে এবং কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না।
তখন আনসারী সাহাবীদের সরদার সা'দ ইবন উবাদা (রা) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আয়াত কি এরূপই অবতীর্ণ হয়েছে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়। তোমাদের সরদার কী বলেন তা কি তোমরা গুনছ না? তারা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! তাকে ভর্ৎসনা করবেন না, কেননা তিনি অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন ব্যক্তি। আল্লাহর শপথ! তাঁর মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধের অতিশয়তাবশত তিনি কুমারী ব্যতীত অন্য কোন নারীকে বিবাহ করেন নি আর তিনি যে নারীকে তালাক দিয়েছেন তাকে আমাদের মধ্যে কেউ বিবাহ করার দুঃসাহস দেখায় নি। এরপর সা'দ (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ! ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! নিশ্চয় আমি বিশ্বাস করি যে এ আয়াত সত্য এবং তা আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু আমি এ জন্য বিস্মিত হচ্ছি যে, যদি আমি কোন ইতরকে (অর্থাৎ নিজ স্ত্রীকে) দেখি যে, কোন পুরুষ তার উরুর সঙ্গে উরু মিলিয়ে রেখেছে তবে চারজন সাক্ষী উপস্থিত না করে আমি তাকে তাড়াও করতে পারব না এবং নাড়াও দিতে পারব না। আল্লাহর শপথ! আমি তাদেরকে উপস্থিত করতে করতে সে তো তার কাজ সেরে ফেলবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ অবস্থায় তারা কিছুকাল অতিবাহিত করলেন। ইতিমধ্যে হিলাল ইবন উমাইয়া (রা) যে তিনজনের তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করায়) তাওবা গৃহিত হয় তিনি তাদের একজন ছিলেন- তিনি সন্ধ্যা রাতে তার জমি হতে এসে নিজ স্ত্রীর নিকট এক পুরুষকে পান। তিনি তাকে স্বচক্ষে দেখেন এবং নিজ কানে (শব্দ) শুনেন। তিনি তাকে তাড়া করলেন না। ভোর হলে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আমি সন্ধ্যা রাতে আমার স্ত্রীর নিকট এসে তার কাছে এক পুরুষকে (আপত্তিকর অবস্থায়) পেয়েছি। আমি স্বচক্ষে দেখিছি এবং কানেও শব্দ শুনেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সংবাদটিকে অপছন্দ করলেন এবং এটা তার নিকট ভারি বোধ হল। আনসারী সাহাবীগণ একত্র হয়ে বললেন, সা'দ যা বলেছেন আমরাও সে বিপদে আক্রান্ত হয়ে পড়েছি। এখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিলাল ইবন উমাইয়া (রা)-কে বেত্রাঘাত করবেন এবং মুসলমানদের পক্ষে তার সাক্ষ্য বাতিল করবেন। এরপর হিলাল (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি আশা রাখি যে, আল্লাহ আমাকে এই বিপদ হতে মুক্ত হওয়ার রাস্তা দেখাবেন। তারপর হিলাল (রা) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! নিশ্চয় আমি আপনার নিকট যে ঘটনা নিয়ে এসেছি, তা আপনার নিকট ভারি বোধ হচ্ছে; কিন্তু আল্লাহ জানেন যে, আমি এ ক্ষেত্রে সত্যবাদী। (বর্ণনাকারী বলেন) আল্লাহর শপথ! রাসূলূল্লাহ তাকে বেত্রাঘাত করার সংকল্প করেছিলেন। এমন সময় আল্লাহ তাঁর রাসূল-এর ওপর ওহী অবতীর্ণ করলেন। যখন তার ওপর ওহী অবর্তীণ হত, তখন সাহাবীগণ তার চামড়ায় বিবর্ণতা দেখে বুঝতে পারতেন। অর্থাৎ (ওহী অবতীর্ণ হতে দেখে) ওহীর অবতরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা তার সংগে কথাবার্তা বলা হতে বিরত থাকলেন। অনন্তর নাযিল হল-
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ الْآيَةَ .
"এবং যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি ব্যভিচারের অভিযোগ তোলে, অথচ নিজেরা ব্যতীত কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করবে।”
অবতীর্ণ হলে রাসূলূল্লাহ আনন্দিত হয়ে বললেন, হে হিলাল! শুভ সংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহ তোমার জন্য স্বস্তি ও মুক্তির বিধান অবতীর্ণ করেছেন। হিলাল (রা) বললেন, আমি আমাদের প্রভু হতে তাই আশা করেছিলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (সাহাবীদেরকে) বললেন, তোমরা তার স্ত্রীকে ডেকে পাঠাও। তারা তাকে ডেকে পাঠালে সে আসল। রাসূলূল্লাহ তাদের উভয়কে উক্ত আয়াত পড়ে শুনান ও নসীহত করেন এবং সংবাদ দেন যে, নিশ্চয় আখিরাতের আযাব দুনিয়ার শাস্তি অপেক্ষা কঠিনতর। হিলাল (রা) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি তার ব্যাপারে সত্য বলেছি। স্ত্রী বলল, সে মিথ্যা বলেছে। শেষে রাসূলূল্লাহ বললেন, তোমরা তাদের ওপর লি'আন কার্যকর কর। তারপর হিলাল (রা)-কে বলা হল, তুমি সাক্ষ্য দাও। তখন তিনি আল্লাহর শপথ করে চারবার সাক্ষ্য দিলেন যে, তিনি সত্যবাদী। পঞ্চমবার বলার সময় হিলাল (রা)-কে বলা হল, হে হিলাল! আল্লাহকে ভয় কর কেননা, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাব অপেক্ষা সহজতর আর নিঃসন্দেহে এটা হল আবশ্যককারী, যা তোমার ওপর আযাব অবধারিত করবে। এরপর হিলাল (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি আমাকে এ কারণে শাস্তি দিবেন না; যেমন তিনি আমাকে এ কারণে বেত্রাঘাত করেননি। তারপর তিনি পঞ্চমবার সাক্ষ্য দিলেন যে, যদি তিনি মিথ্যাবাদী হন তবে তার ওপর আল্লাহর লা'নত। এরপর স্ত্রীলোককে বলা হল, তুমি আল্লাহর শপথ করে সাক্ষ্য দাও যে, সে মিথ্যাবাদী। এরপর পঞ্চমবারে তাকে বলা হল, আল্লাহকে ভয় কর। কেননা, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাব অপেক্ষা সহজতর আর নিঃসন্দেহে এটা হল আবশ্যককারী, যা তোমার ওপর আযাব অবধারিত করবে। (বর্ণনাকারী বলেন) তখন সে কিছুক্ষণ বিরত রইল। তারপর বলল, আল্লাহর শপথ! আমি আমার সম্প্রদায়কে অপদস্থ করব না। তারপর সে পঞ্চমবার সাক্ষ্য দিল যে, যদি সে (পুরুষ) সত্যবাদী হয় তবে তার ওপর আল্লাহর গযব। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের উভয়কে পৃথক করে দিলেন এবং তিনি নির্দেশ দিলেন যে, তার সন্তানকে পিতার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে ডাকা যাবে না। তাকে (স্ত্রীলোক) এর (সন্তানের) কারণে অথবা তার সন্তানকে অপবাদ দেওয়া যাবে না। যে ব্যক্তি তাকে (স্ত্রীলোককে) অথবা তার সন্তানকে অপবাদ দিবে তার ওপর দণ্ড কার্যকর হবে। এবং তিনি আরো নির্দেশ দেন যে, সে (মহিলা) যেহেতু তালাক ব্যতীত পৃথক হয়েছে এবং তাকে রেখে স্বামীর মৃত্যুও হয়নি তাই সে খোরপোষ এবং বাসস্থান পাবে না। এরপর তিনি বলেন, যদি সে এমন সন্তান প্রসব করে যার চুল লালচে রংয়ের আর উরু, নিতম্ব ও গোছা হালকা পাতলা তবে সে হবে হিলাল ইবন উমাইয়ার। আর যদি সে বাদামী রং, কোকড়ানো চুল, মোটাতাজা, স্থুল গোছা ও বড় নিতম্ববিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তবে তা হবে ঐ লোকের যার দ্বারা তাকে (স্ত্রীলোককে) অভিযুক্ত করা হয়েছে। এরপর সে (স্ত্রীলোক) বাদামী রং, কোকড়ানো চুল, মোটাতাজা, স্থুল গোছাবিশিষ্ট, বড় নিতম্ববিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে। তখন রাসূলূল্লাহ বললেন, যদি শপথের বিধান না থাকত তবে তোমরা দেখতে, আমি তার কি অবস্থা করতাম। বর্ণনাকারী 'ইকরিমা (র) বলেন, পরবর্তীতে এই সন্তান এক শহরের গভর্নর হয়। তাকে তার মায়ের সাথে সম্পর্ক করা হত, পিতার সাথে নয়।
(আবূ দাউদ, বায়হাকী। হাদীসটির সূত্রে বর্ণনাকারী আব্বাদ ইবন মানসূর বিতর্কিত। অনেকে তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন আর অনেকে বলেছেন দুর্বল। তবে হাদীসটির সহায়ক অনেক বর্ণনা রয়েছে যা বুখারী মুসলিমসহ অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।)
كتاب اللعان
باب سببه وتفسير آيات القذف واللعان وقصة هلال بن أمية في ذلك
عن ابن عباس قال لما نزلت {والذين يرمون المحصنات ثم لم يأتوا بأربعة شهداء فاجلدوهم ثمانين جلدة ولا تقبلوا لهم شهادة أبدا} قال سعد بن عبادة وهو سيد الأنصار أهكذا أنزلت يا رسول الله؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا معشر الأنصار ألا تسمعون إلى ما يقول سيدكم؟ قالوا يا رسول الله لا تلمه فإنه رجل غيور، والله ما تزوج امرأة قط إلا بكرا، وما طلق امرأة له قط فاجترأ رجل منا على أن يتزوجها من شدة غيرته، فقال سعد والله يا رسول الله إني لأعلم أنها حق وأنها من الله تعالى ولكني قد تعجبت أني لو وجدت لكاعا تخذها رجل لم يكن لي أن أهيجه ولا أحركه حتى آتي بأربعة شهداء، فوالله لا آتي بهم حتى يقضي حاجته، قال فما لبثوا إلا يسيرا حتى جاء هلال بن أمية وهو أحد الثلاثة الذين تيب عليهم فجاء من أرضه عشاءا فوجد عند أهله رجلا فرأى بعينيه وسمع بأذنيه فلم يهجه حتى أصبح فغدا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله إني جئت أهلي عشاءا فوجدت عندها رجلا فرأيت بعيني وسمعت بأذني فكره رسول الله صلى الله عليه وسلم ما جاء به واشتد عليه واجتمعت الأنصار فقالوا قد ابتلينا بما قال سعد بن عبادة: الآن يضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم هلال بن أمية ويبطل شهادته في المسلمين، فقال هلال والله إني لأرجو أن يجعل الله لي منها مخرجا فقال هلال يا رسول الله إني قد أرى ما اشتد عليك مما جئت به والله يعلم أني لصادق ووالله إن رسول الله يريد أن يأمر بضربه إذ أنزل الله على رسوله الوحي وكان إذا نزل عليه الوحي عرفوا ذلك في تربد جلده يعني فأمسكوا عنه حتى فرغ من الوحي فنزلت {والذين يرمون أزواجهم ولم يكن لهم شهداء إلا أنفسهم فشهادة أحدهم أربع شهادات بالله} الآية فسري عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال أبشر يا هلال فقد جعل الله لك فرجا ومخرجا، فقال هلال قد كنت أرجو ذاك من ربي عز وجل، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أرسلوا إليها، فأرسلوا إليها فجاءت فقرأها رسول الله صلى الله عليه وسلم عليهما وذكرهما وأخبرهما أن عذاب الآخرة أشد من عذاب الدنيا فقال هلال والله يا رسول الله لقد صدقت عليها، فقالت كذب، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لاعنوا بينهما فقيل لهلال أشهد فشهد أربع شهادات بالله إنه لمن الصادقين، فلما كان في الخامسة قيل يا هلال اتق الله فإن عذاب الدنيا أهون من عذاب الآخرة وإن هذه الموجبة التي توجب عليك العذاب، فقال والله لا يعذبني الله عليها كما لم يجلدني عليها. فشهد في الخامسة أن لعنة الله عليه إن كان من الكاذبين، ثم قيل لها اشهدي أربع شهادات بالله إنه لمن الكاذبين، فلما كانت الخامسة قيل لها اتقي الله فإن عذاب الدنيا أهون من عذاب الآخرة وإن هذه الموجبة التي توجب عليك العذاب فتلكأت ساعة ثم قالت والله لا أفضح قومي فشهدت في الخامسة أن غضب الله عليها إن كان من الصادقين ففرق رسول الله بينهما وقضى أن لا يدعى ولدها لأب ولا ترمى هي به ولا يرمى ولدها ومن رماها أو رمى ولدها فعليه الحد وقضى أن لا يبيت لها عليه ولا قوت من أجل أنهما يتفرقان من غير طلاق ولا متوفى عنها، وقال إن جاءت به أصهب أريسح حمش الساقين فهو لهلال، وإن جاءت به أورق جعدا جماليا خدلج الساقين سابغ الأليتين فهو للذي رميت به، فجاءت به أورق جعدا جماليا خدلج الساقين سابغ الأليتين فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لولا الأيمان لكان لي ولها شأن: قال عكرمة فكان بعد ذلك أميرا على مصر وكان يدعى لأمه وما يدعى لأبيه