আপনার জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর

সকল মাসায়েল একত্রে দেখুন

২৯৬
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

কয়েকদিন আগে আমাদের এলাকার একটি লোক মারা যান। লোকটি অনেক ধনী ছিলেন। তিনি দুই বিবাহ করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী থেকে তার দুই ছেলে তিন মেয়ে আর দ্বিতীয় স্ত্রী থেকে এক ছেলে। লোকটি মারা যাওয়ার পাঁচ মাস পূর্বে স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিলেন। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে প্রথম স্ত্রীর ঘরেই থাকতেন। তখন প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানেরা তাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তাদের কথা অনুযায়ী তিনি কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের সামনে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ডেকে বলেন, ‘আজ থেকে তুমি তালাক’। তালাক দেওয়ার দেড় মাস পর তিনি মারা যান। এখন তার দ্বিতীয় স্ত্রী মিরাসের সম্পত্তি পাবে কি না এ নিয়ে আমাদের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের কথা চলছে। তাই মুহতারামের নিকট দুটি বিষয়ে সঠিক সমাধান চাচ্ছি :

এক. লোকটির দ্বিতীয় স্ত্রী মিরাসের সম্পত্তি পাবে কি না?

দুই. প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানদের দাবি হল, লোকটি  ‘আজ থেকে তুমি তালাক’ এ কথা বলে বায়েন তালাকের নিয়ত করেছিল।  তাই সে সম্পত্তি পাবে না। জানার বিষয় হচ্ছে, ‘তুমি তালাক’- বলে বাইন তালাকের নিয়ত করা যায় কি না?

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় স্ত্রীর ইদ্দত এখনো শেষ হয়নি।

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৯ অক্টোবর, ২০২০
৯৭২
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

আমার ছোট খালার বিয়ে হয় জেনারেল শিক্ষিত এক ফ্যামিলিতে, দ্বীনদারীতে যারা একদম শূন্যের কোঠায়। তাছাড়া তাদের ঘরের পরিবেশও ততো ভালো নয়। খালাকেও তারা দ্বীন থেকে সরে আসতে বাধ্য করে। এমনকি এক পর্যায়ে বোরখা পর্যন্ত পরতে দেয় না।

অনেক বুঝিয়েও কোনো লাভ না হওয়ায় আমার বড় মামা, খালাকে ঐ বিয়ে থেকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন এবং এক পর্যায়ে তাদের তালাকও হয়ে যায়। কিন্তু সমস্যা দেখা যায় খালার দু‘বছরের ছোট ছেলেটিকে নিয়ে। শ্বশুর বাড়ীর লোকেরা জোর করে তাকে নিয়ে যায়। আমরা কয়েক বছরের জন্য রাখতে চাইলেও তারা সম্মত হয় না।

আমরা জানতে চাই, ইসলামের দৃষ্টিতে এই ছেলের উপর বেশি অধিকার কার? মায়ের না বাবার? জানিয়ে বাধিত করবেন।

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৯ অক্টোবর, ২০২০
৩১২
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

আমার বিয়ে হয়েছে প্রায় তিন বছর হয়েছে। প্রথম দেড় বছর মোটমুটি ভালো কাটলেও এরপরই সমস্যা শুরু হয়। সমস্যার সূচনা আমার স্ত্রীর ফেইসবুক চালানো নিয়ে। সে বিভিন্ন মানুষের সাথে মেসেজ আদান-প্রদান করত। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কথা কাটাকাটিও হয়। সে বারবার বলত, আমি ফেইসবুক চালালে তোমার সমস্যা কোথায়? এক মাস আগে এ নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে বলে ফেলি, ফেইসবুক চালালে আমার ঘরে আর থাকতে পারবে না। পরের দিন আমি অফিসে যাওয়ার পর সে তার বাবার বাসায় চলে যায়। আমার ও আমার পরিবারের লোকদের কয়েকবার চেষ্টার পরও সে আসেনি। পরে আমি মুরব্বীদের সাথে পরামর্শ করে তাকে তালাক দিয়ে দিই।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যেহেতু তার দোষেই আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে তাই মহর, তালাক পরবর্তী ইদ্দতের ভরণ-পোষণ এগুলো দিতে কি আমি বাধ্য? তাছাড়া আমার স্ত্রী পারিবারিকভাবে বেশ সচ্ছল।

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৯ অক্টোবর, ২০২০
২০৬২
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

এক মেযের সাথে আমার গোপনে পরিচয় হয়। স্থায়ী সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে আমার কয়েকজন বন্ধুবান্ধবসহ একটি রেস্টুরেন্টে একত্রিত হই। আমার এক বন্ধু কাজী অফিসের পিয়ন হিসেবে একজনকে নিয়ে আসে। সে কাজী অফিস থেকে বিবাহ রেজিস্ট্রি করার কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে আসে। এছাড়াও সরকারি দলিল-স্ট্যাম্পে একটি বিবাহ হলফনামা নিয়ে আসে। সেখানে আমরা উভয়ে স্বেচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার নিমিত্তে স্বাক্ষর করি এবং নিকাহনামা রেজিস্টারেও উভয়ে স্বাক্ষর করি। সেখানে চারজন পুরুষও উপস্থিত ছিল। এছাড়া বিবাহ পড়ানোর উপযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা কাজী অফিসের কেউ উপস্থিত ছিল না। উক্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১,০০,০০১ টাকা দেনমোহরের শর্তে আমরা বিবাহ সম্পন্ন করি। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা কেউই ইজাব-কবুল বলিনি। পিয়ন আমাদের বললেন, আপনারা দুজন স্বামী স্ত্রী। এরপর আমরা যার যার মতো চলে আসি।

বিয়ের ২-৩ মাসের পর থেকে আমাদের মধ্যে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। ৩-৪ মাস পর এক পুরুষ শিক্ষক নিয়ে পর্দার ব্যাপারে আমার সাথে ওর ঝগড়া হয়। আমি রাগ করে একপর্যায়ে বলেছিলাম, তুমি যদি কালকে, পরশু এবং এর পরের দিন তার কাছে পড় তাহলে তুমি যথাক্রমে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক। পরে জানতে পারি, সে তিন দিনই পড়েছিল। এখন প্রশ্ন হল, ক) আমাদের বিবাহ কি সঠিক হয়েছিল? খ) আমাদের মধ্যে তালাক হয়েছিল কি? গ) এখন আমি পারিবারিকভাবে ওকে ঘরে তুলতে বা বিয়ে করতে চাই। এজন্য আমার কী করা উচিত বা আদৌ কি তা সম্ভব?


question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৮ অক্টোবর, ২০২০
১৭৮১
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

 আবদুল্লাহ ও তার স্ত্রী মাঝেমধ্যেই ঝগড়া করে। স্ত্রী সর্বদা ঝগড়ার সময় বলে,আমাকে ছেড়ে দাও। এ কথাটি তার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। আবদুল্লাহ একবার রাগের মাথায় বলে ফেলে যে,এই কথা তুমি আর একবার বললে তুমি তালাক। এখন জানার বিষয় হল,

ক) স্ত্রী যদি আবার রাগের মাথায় ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কথাটি বলে তবে তার কী হুকুম? তালাক হলে কয় তালাক হবে এবং সেক্ষেত্রে তারা একত্রিত হতে চাইলে কী করণীয়?

খ) স্বামীর জন্য তার উক্ত কথা থেকে ফিরে আসার কোনো উপায় আছে কি?

দয়া করে বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।


question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
২০ অক্টোবর, ২০২০
৭৫৮
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

কিছুদিন পূর্বে আমার এক প্রতিবেশী ইন্তেকাল করেন। তার আট-দশ বছর বয়সী দুটি ছেলে আছে। উভয়ে মাদরাসায় পড়াশোনা করে। এছাড়া সংসারে কর্মক্ষম কোনো পুরুষ নেই। লোকটির স্ত্রী এক মহিলা মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। মাদরাসাটি বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। মহিলাটি প্রতিদিন বিকেলে বাড়িতে চলে আসেন। আর বর্তমানে উক্ত মহিলার সংসারের খরচ চালানোর জন্য তার এ চাকরি ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেই।

প্রশ্ন হল, উক্ত মহিলার জন্য ইদ্দতের সময় এ চাকরি করা জায়েয হবে কি না?

মুফতী সাহেবের কাছে বিনীত নিবেদন, উপরে বর্ণিত মহিলার সার্বিক অবস্থাকে সামনে রেখে শরীয়তের আলোকে সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন। যদি তার জন্য ইদ্দত অবস্থায় উক্ত চাকরি করা জায়েয না হয় তাহলে তার সংসারের খরচ নির্বাহ হবে কীভাবে? এ বিষয়ে শরীয়ত কী বলে?

দয়া করে জানিয়ে উপকৃত করবেন। আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুন।

 

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
২০ অক্টোবর, ২০২০