ইহুদি ও খ্রিষ্টান কি জান্নাতে যাবে?
প্রশ্নঃ ১২৪৪৭৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, খ্রিস্টান ধর্মের লোকেরা কি জান্নাতে প্রবেশ করবে?
২৮ অক্টোবর, ২০২৫
P৪CJ+M৯৬ Goalpara
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
* ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি,
ইহুদি ও খ্রিষ্টান — এদের সকলেই সমান নয়। তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের রয়েছে ভালো চরিত্র, উত্তম নৈতিকতা, সৎ আচরণ ও আমানতদারিতা; তারা অন্যদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও কল্যাণকামীও হয়ে থাকেন।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে তাদের কিছু ভালো গুণের কথাও উল্লেখ করেছেন। যেমন,
لَیۡسُوۡا سَوَآءً ؕ مِنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ اُمَّۃٌ قَآئِمَۃٌ یَّتۡلُوۡنَ اٰیٰتِ اللّٰہِ اٰنَآءَ الَّیۡلِ وَہُمۡ یَسۡجُدُوۡنَ
(তবে) কিতাবীদের সকলে এক রকম নয়। কিতাবীদের মধ্যেই এমন লোকও আছে, যারা (সঠিক পথে) প্রতিষ্ঠিত, যারা রাতের বেলা আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং তারা (আল্লাহর উদ্দেশে) সিজদাবনত হয়। (সূরাঃ আ-লু ইমরান - আয়াত নংঃ 113)
আরও এক স্থানে এসেছে,
وَمِنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ مَنۡ اِنۡ تَاۡمَنۡہُ بِقِنۡطَارٍ یُّؤَدِّہٖۤ اِلَیۡکَ ۚ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ اِنۡ تَاۡمَنۡہُ بِدِیۡنَارٍ لَّا یُؤَدِّہٖۤ اِلَیۡکَ اِلَّا مَا دُمۡتَ عَلَیۡہِ قَآئِمًا ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ قَالُوۡا لَیۡسَ عَلَیۡنَا فِی الۡاُمِّیّٖنَ سَبِیۡلٌ ۚ وَیَقُوۡلُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ وَہُمۡ یَعۡلَمُوۡنَ
কিতাবীদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যার কাছে তুমি সম্পদের একটা স্তূপও যদি আমানত রাখ, তবে সে তা তোমাকে ওয়াপস করবে। আবার তাদের মধ্যেই এমন লোকও আছে, যার কাছে একটি দীনারও আমানত রাখলে সে তোমাকে তা ফেরত দেবে না যদি না তুমি তার মাথার উপর দাঁড়িয়ে থাক। তাদের এ কর্মপন্থা এ কারণে যে, তারা বলে থাকে, উম্মীদের (অর্থাৎ অইয়াহুদী আরবদের) ব্যাপারে আমাদের থেকে কোন কৈফিয়ত নেওয়া হবে না। আর (এভাবে) জেনে শুনে তারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যাচার করে। (সূরাঃ আ-লু ইমরান - আয়াত নংঃ 75)
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
لَتَجِدَنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَۃً لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوا الۡیَہُوۡدَ وَالَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا ۚ وَلَتَجِدَنَّ اَقۡرَبَہُمۡ مَّوَدَّۃً لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوا الَّذِیۡنَ قَالُوۡۤا اِنَّا نَصٰرٰی ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّ مِنۡہُمۡ قِسِّیۡسِیۡنَ وَرُہۡبَانًا وَّاَنَّہُمۡ لَا یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ
তুমি অবশ্যই মুসলিমদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা কঠোর পাবে ইয়াহূদীদেরকে এবং সেই সমস্ত লোককে, যারা (প্রকাশ্যে) শিরক করে এবং তুমি মানুষের মধ্যে মুসলিমদের সাথে বন্ধুত্বে সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী পাবে তাদেরকে, যারা নিজেদেরকে নাসারা বলে। এর কারণ এই যে, তাদের মধ্যে অনেক ইলম-অনুরাগী এবং সংসার-বিরাগী দরবেশ রয়েছে। আরও এক কারণ হল যে, তারা অহংকার করে না। (সূরাঃ আল মায়িদাহ - আয়াত নংঃ 82)
* পরকালের মুক্তির শর্ত
তবে চিরস্থায়ী মুক্তি লাভের জন্য ঈমান অপরিহার্য। কারণ কুফর ও শিরক এমন অপরাধ যা আল্লাহ তাআলা কখনো ক্ষমা করবেন না।
ঈমান শুধু আল্লাহকে মানলেই সম্পূর্ণ হয় না; বরং আল্লাহর সব নবী, রাসুলদের উপর বিশ্বাস রাখা ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে আল্লাহর শেষ নবী ও রাসুল হিসেবে বিশ্বাস রাখা জরুরি।
যারা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে আল্লাহর শেষ নবী ও রাসুল হিসেবে মানে না, তারা আসলে আল্লাহ তাআলাকেও সঠিকভাবে মানে না, কারণ আল্লাহ তাআলাই রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে “خاتم النبیین” (শেষ নবী) হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।
* মুক্তির পথ
সুতরাং নবী করিম ﷺ-এর আনীত দ্বীন (ইসলাম) গ্রহণ করাই মুক্তির একমাত্র শর্ত। যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি, তারা যতই নেক আমল করুক না কেন, কেবল তার মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَنۡ یَّبۡتَغِ غَیۡرَ الۡاِسۡلَامِ دِیۡنًا فَلَنۡ یُّقۡبَلَ مِنۡہُ ۚ وَہُوَ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ
যে ব্যক্তিই ইসলাম ছাড়া অন্য কোনও দীন অবলম্বন করতে চাবে, তার থেকে সে দীন কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে মহা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরাঃ আ-লু ইমরান - আয়াত নংঃ 85)
আরেক স্থানে বলেন,
اِنَّ اللّٰہَ لَا یَغۡفِرُ اَنۡ یُّشۡرَکَ بِہٖ وَیَغۡفِرُ مَا دُوۡنَ ذٰلِکَ لِمَنۡ یَّشَآءُ ۚ وَمَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰہِ فَقَدِ افۡتَرٰۤی اِثۡمًا عَظِیۡمًا
নিশ্চয়ই আল্লাহ এ বিষয়কে ক্ষমা করেন না যে, তার সঙ্গে কাউকে শরীক করা হবে। এর চেয়ে নিচের যে-কোন বিষয়ে যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করে, সে এক গুরুতর পাপে লিপ্ত হল। (সূরাঃ আন নিসা - আয়াত নংঃ 48)
হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ يَهُودِيٌّ وَلاَ نَصْرَانِيٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلاَّ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ " .
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ সে সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, ইহুদি হোক আর খৃষ্টান হোক, যে ব্যক্তিই আমার এ আহবান শুনেছে, অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করেছে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে। (সহীহ মুসলিম - ১৫৩)
* উপসংহার
ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে নৈতিকভাবে উত্তম ও সদাচারী লোক অবশ্যই আছে, তাদের ভালো গুণগুলো কুরআন স্বীকারও করেছে; কিন্তু চিরস্থায়ী মুক্তি ও জান্নাত লাভের জন্য ঈমান অপরিহার্য — অর্থাৎ, নবী করিম ﷺ-কে আল্লাহর শেষ নবী হিসেবে মানা এবং ইসলাম গ্রহণ করা আবশ্যক।
যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে না, সে কেবল ভালো কাজের মাধ্যমে মুক্তি পাবে না। কারণ, “لا إله إلا الله محمد رسول الله” — এই ঈমানই মুক্তির একমাত্র চাবিকাঠি।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১