ইউটিউব ফেইসবুক থেকে উপার্জন
প্রশ্নঃ ১৩১০৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার একটা প্রশ্ন আছে।প্রশ্নটি হলো,আমার একটা ইউটিউব চ্যানেলের আছে। আমি সেখানে ওয়াজ, গজল ইসলামিক ভিডিও ছাড়ি।তাহলে কি আমার ওখান থেকে টাকা ইনকাম করা হালাল হবে।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, যে ধরনের ভিডিও দেখা নিষিদ্ধ, সে সমস্ত ভিডিও ইন্টারনেটে বা ইউটিউবে আপলোড করা, তা থেকে অর্থ উপার্জন করা এবং রিওয়ার্ড হিসেবে ইউটিউবের 'প্লে বাটন' গ্রহণ করা—এর কোনোটিই বৈধ নয়। অন্যায় কাজ নিজে করা যেমন পাপ, অন্যকে সেই কাজে সহযোগিতা করাও সমভাবে নিষিদ্ধ।
তাই নাজায়েজ বা নিষিদ্ধ ভিডিও আপলোড করে ইউটিউব থেকে পুরস্কার হিসেবে প্লে বাটন নেওয়া সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন:
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
"তোমরা সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যকে সাহায্য করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কঠোর শাস্তিদাতা।" {সূরা মায়িদা, আয়াত: ২}
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ
"মুসলমানগণ তাদের (পরস্পরের বৈধ) শর্তের ওপর অবিচল থাকবে।" {সুনানে আবু দাউদ: ৩৫৯৪, সুনানে দারা কুতনী: ২৮৯০, শুআবুল ঈমান: ৪০৩৯}
অতএব, শরীয়তের সীমারেখার ভেতরে থেকে যেসব ভিডিও দেখা ও প্রচার করা জায়েজ, শুধুমাত্র সেই ধরনের ভিডিও আপলোড করে প্লে বাটন অর্জন করা বৈধ হবে।
ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে শর্তাবলী:
ভিডিওর বিষয়বস্তু যদি সম্পূর্ণ জায়েজ হয়, তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে ইউটিউব থেকে আয় করা বৈধ হতে পারে। আমাদের বুঝতে হবে যে, গুগল এডসেন্সের (Google AdSense) মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি অর্থের বিনিময়ে তাদের বিজ্ঞাপন ইউটিউব ভিডিওতে প্রদর্শন করে এবং সেই আয়ের একটি অংশ ভিডিও ক্রিয়েটরদের দেওয়া হয়।
যদি বিজ্ঞাপনে প্রদর্শিত পণ্য বা বিষয়বস্তু হারাম, অশ্লীল কিংবা শরীয়ত বিরোধী হয়, তবে সেই বিজ্ঞাপন থেকে অর্জিত আয় হালাল হবে না। কারণ এটি হারামের প্রচার এবং পাপের কাজে পরোক্ষ সহযোগিতার শামিল। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন:
إِنَّ الَّذِيْنَ يُحِبُّوْنَ أَنْ تَشِيْعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِيْنَ آمَنُوْا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
"যারা মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, নিশ্চয়ই তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।" {সূরা নূর, আয়াত: ১৯}
পার্থিব ও দ্বীনি কল্যাণের স্বার্থে সন্দেহজনক বিষয় থেকেও বেঁচে থাকা জরুরি।
হযরত নোমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
إِنَّ الْحَلاَلَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يَرْتَعَ فِيهِ أَلاَ وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى أَلاَ وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَحَارِمُهُ أَلاَ وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلاَ وَهِيَ الْقَلْبُ "
(নিশ্চয়ই) হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট আর এ উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়, অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এ সব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দুরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে, আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে। যেমন কোন রাখাল সংরক্ষিত (সরকারী) চারণভূমির আশপাশে পশু চরায়, আশঙ্কা রয়েছে সে পশু তার অভ্যন্তরে গিয়ে ঘাস খাবে। সাবধান! প্রত্যেক বাদশাহরই সংরক্ষিত এলাকা থাকে, সাবধান! আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হল তার হারামকৃত বিষয়সমূহ। জেনে রাখো, দেহের মধ্যে এক টুকরা গোশত আছে। যখন তা সুস্থ থাকে তখন সমস্ত শরীরই সুস্থ থাকে। আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায় তখন সমস্ত শরীরই নষ্ট হয়ে যায়। স্মরণ রেখো, তা হল ’ক্বলব’ (হৃদয়)। " {সহীহ মুসলিম: ১৫৯৯} https://muslimbangla.com/hadith/10998
সারকথা:
ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো স্পন্সরশিপ বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ আয়ের ক্ষেত্রে যদি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পণ্য, সেবা এবং ভিডিওর উপস্থাপন পদ্ধতি সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত হয়, তবেই সেই আয় জায়েজ হবে; অন্যথায় তা অবৈধ হবে। তবে এই ধরনের আয়ের ক্ষেত্রে যেহেতু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে থাকে না এবং হারামের মিশ্রণ ঘটার প্রবল আশঙ্কা থাকে, তাই সতর্কতা অবলম্বন করে এ জাতীয় সন্দেহজনক উপার্জন থেকে দূরে থাকাই একজন মুমিনের জন্য উত্তম ও নিরাপদ।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
বাইতুল কুরআন মাদারাসা , মোহাম্মাদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন