মহিলারা ভ্রমণকালে নামাজের পদ্ধতি কি হবে?
প্রশ্নঃ ১৭৩০৯৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, শায়েখ.. আমরা মহিলারা কোথাও ঘুরতে গেলে। মহিলাদের নামাজের স্থান খুঁজে পাইনা। তো এই অবস্থায় যদি মুখ ঢাকা অবস্থায় বোরকা পরা অবস্থায় কোনো জায়গায় বসে ইশারায় রুকু সিজদা করে নামাজ আদায় করি তাহলে কি হবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত। কোনো অবস্থাতেই শুধু লোকলজ্জা, পর্দার অসুবিধা কিংবা নির্জন স্থান না পাওয়ার কারণে ফরজ নামাজের রুকু-সিজদা পরিত্যাগ করে বসে ইশারায় নামাজ আদায় করা জায়েজ নয়।
মূলত মহিলাদের জন্য ঘরে নামাজ আদায় করাই অধিক উত্তম ও ফযীলতপূর্ণ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন
وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنّ
তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম। [আবু দাউদ : ৫৬৭]
তবে প্রয়োজন দেখা দিলে মসজিদে নামাজ পড়া বৈধ।
নবী ﷺ বলেছেন
لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ
তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে আল্লাহর মসজিদে যেতে বাধা দিও না। [সহীহ বুখারী : ৯০০]
সুতরাং যদি কোনো মহিলা এমন অবস্থায় থাকেন যে, তিনি ঘর থেকে অনেক দূরে আছেন এবং ঘরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার জন্য নিকটবর্তী কোনো নিরাপদ স্থানে নামাজ আদায় করা জায়েয; বরং ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আগে নামাজ আদায় করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে মসজিদ, ইবাদতখানা, নামাজের নির্ধারিত কক্ষ বা পর্দাসম্পন্ন কোনো নিরাপদ স্থান হলে সেখানে নামাজ পড়বেন।
যদি উক্ত মসজিদ বা ইবাদতখানায় পুরুষ উপস্থিত থাকে, অথবা স্থানটি জনসমাগমপূর্ণ এলাকার পাশে হয়, তাহলেও প্রয়োজনের কারণে নামাজ পড়া জায়েয হবে। তবে শর্ত হলো, এমনভাবে নামাজ আদায় করবে যাতে অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা, দৃষ্টি আকর্ষণ বা অনিরাপদ পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
সুতরাং, ওয়াক্ত চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে মহিলা নিকটবর্তী মসজিদ বা ইবাদতখানায় নামাজ পড়তে পারবেন, প্রয়োজনে কোনো নিরিবিলি কোণ, নিরাপদ স্থান কিংবা পরিষ্কার খোলা জায়গায় নামাজ পড়বেন। বোরকা-নিকাব পরিহিত অবস্থায় পরপুরুষের সামনে নামাজ আদায় করলেও নামাজ সহিহ হবে।
সুতরাং শুধু পরপুরুষের উপস্থিতি কিংবা আলাদা নামাজের জায়গা না থাকার কারণে বসে ইশারায় নামাজ পড়ার অনুমতি নেই।
«وَإِنْ لَمْ يَقْدِرْ عَلَى الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ أَوْمَأَ إِيمَاءً»
مختصر القدوري، كتاب الصلاة، باب صلاة المريض
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন