বিকাশ কোম্পানিতে চাকরির শরয়ী বিধান
প্রশ্নঃ ১৬১৫৯৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, বিকাশ কোম্পানিতে চাকরি করা কি জায়েজ হবে?
১৭ জুলাই, ২০২৬
Jarun
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
এর উত্তর চাকরির ধরন ও দায়িত্বের ওপর নির্ভর করবে।
বিকাশে এমন কিছু সেবা রয়েছে, যেখানে গ্রাহকের অর্থ সঞ্চয় রেখে তার বিপরীতে সুদ প্রদান করা হয়। এ ধরনের কার্যক্রম সুদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ায় শরিয়তসম্মত নয়। তাই যদি কেউ বিকাশের সুদি সঞ্চয় (Savings/Interest) বা এ-সংক্রান্ত কোনো বিভাগে চাকরি করেন, যেখানে সুদি লেনদেন পরিচালনা, হিসাবরক্ষণ, অনুমোদন, সফটওয়্যার পরিচালনা বা অন্য কোনোভাবে সুদের কাজে সহযোগিতা করতে হয়, তাহলে সে চাকরি জায়েয হবে না। কারণ শরিয়তে পাপের কাজে সহযোগিতা নিষিদ্ধ।
অন্যদিকে, বিকাশের অনেক বিভাগ ও কার্যক্রম আছে, যেগুলো মূলত বৈধ সেবা প্রদান করে; যেমন- মোবাইল ওয়ালেট পরিচালনা, টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ, মার্চেন্ট পেমেন্ট, কাস্টমার সার্ভিস, আইটি, প্রশাসন, মানবসম্পদ (HR), নিরাপত্তা ইত্যাদি। যদি চাকরিটি এসব বৈধ বিভাগের মধ্যে হয় এবং সেখানে সুদি কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে না হয়, তাহলে সে চাকরি জায়েজ হতে পারে।
তবে যেহেতু একটি প্রতিষ্ঠানের আয়ের মধ্যে হারাম উৎসও থাকতে পারে, তাই একজন মুসলিমের জন্য যতটা সম্ভব এমন প্রতিষ্ঠানে চাকরি গ্রহণ করা উত্তম, যেখানে হারাম কার্যক্রমের সংশ্লিষ্টতা নেই। আর যদি বিকল্প না থাকে এবং চাকরিটি বৈধ বিভাগে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা নাজায়েজ বলা যায় না; তবে সুদি কার্যক্রমে কোনো ধরনের সহযোগিতা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
** عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آكِلَ الربا، وموكله، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ. (صحيح مسلم : رقم الحديث 1598)
** «الفتاوى العالمكيرية = الفتاوى الهندية» (5/ 342):
«لو أن فقيرا يأخذ جائزة السلطان مع علمه أن السلطان يأخذها غصبا أيحل له؟ قال إن خلط ذلك بدراهم أخرى، فإنه لا بأس به، وإن دفع عين المغصوب من غير خلط لم يجز»
** «الفتاوى العالمكيرية = الفتاوى الهندية» (5/ 342):
«ولا يجوز قبول هدية أمراء الجور؛ لأن الغالب في مالهم الحرمة إلا إذا علم أن أكثر ماله حلال بأن كان صاحب تجارة أو زرع فلا بأس به؛ لأن أموال الناس لا تخلو عن قليل حرام فالمعتبر الغالب، وكذا أكل طعامهم، كذا في الاختيار شرح المختار.»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১