মসজিদ সম্প্রাসারণ প্রসঙ্গ
প্রশ্নঃ ১৬২৬০৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমাদের এলাকার মসজিদের পাশে ঈদগাহ হিসেবে ব্যবহৃত একটি জমি রয়েছে, যা এখনো ওয়াকফ করা হয়নি। বর্তমানে মুসল্লিদের সংখ্যা বাড়ায় মসজিদটি বড় করা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান স্থানে জায়গা না থাকায় এবং মুসল্লিদের চলাচলের সুবিধার স্বার্থে মসজিদ কমিটি নিচের সিদ্ধান্তটি নিতে চাচ্ছে: ১. ঈদগাহ হিসেবে ব্যবহৃত জমিটি মসজিদের নামে ওয়াকফ করা। মসজিদটি বর্তমান স্থান থেকে ডানদিকে সরিয়ে (ঈদগাহের জমির অংশে) সরিয়ে বড় পরিসরে নির্মাণ করা। ২. অবশিষ্ট জমিটি মসজিদের নামেই বহাল রেখে পূর্বের ন্যায় ঈদগাহ হিসেবে ব্যবহার করা। ইসলামিক শরীয়তের দৃষ্টিতে এভাবে জমি পুনর্বিন্যাস ও মসজিদ নির্মাণ করা জায়েজ হবে কি না—এ বিষয়ে শরয়ী ফতোয়া ও দিকনির্দেশনা প্রার্থনা করছি।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
শরয়ি কিছু মূলনীতিসহ প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মসজিদ সম্প্রসারণের হুকুম বর্ণনা করা হলো-
কোনো জমি শুধু দীর্ঘদিন ঈদের নামাজের জন্য ব্যবহৃত হলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরয়ি অর্থে ওয়াকফ হয়ে যায় না। বরং জমির বৈধ মালিক বা মালিকগণ কর্তৃক শরয়ি পদ্ধতিতে ওয়াকফ সংঘটিত হওয়া জরুরি। অতএব, প্রশ্নোক্ত জমিটি যদি এখনো শরয়ি পদ্ধতিতে ঈদগাহের জন্য ওয়াকফ না হয়ে থাকে এবং এর বৈধ মালিকানা বিদ্যমান থাকে, তাহলে মালিক বা মালিকগণ তাদের জমির একটি অংশ মসজিদের জন্য এবং অপর অংশ ঈদগাহের জন্য ওয়াকফ করতে পারেন।
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে জমির বৈধ মালিক বা মালিকগণ সম্মত থাকলে ঈদগাহ হিসেবে ব্যবহৃত জমির প্রয়োজনীয় অংশ মসজিদের জন্য ওয়াকফ করে সেখানে বর্তমান মসজিদ সম্প্রসারণ করা এবং অবশিষ্ট অংশ ঈদগাহ হিসেবে বহাল রাখা মূলত জায়েয।
তবে এ ক্ষেত্রে বর্তমান মসজিদের কোনো অংশ নতুন মসজিদের বাইরে রাখা যাবে না; পুরাতন মসজিদের সম্পূর্ণ অংশ সম্প্রসারিত মসজিদের অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে। এর সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পাশের জমি যুক্ত করে মসজিদ বড় করা যাবে।
এভাবে জমি পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে ওয়াকফের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে- জমির নির্দিষ্ট অংশ মসজিদের জন্য এবং নির্দিষ্ট অংশ ঈদগাহের জন্য ওয়াকফ করা হলো। শুধু “ঈদগাহের জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করা হলো”- এভাবে না বলে উভয় অংশের উদ্দেশ্য পৃথকভাবে নির্ধারণ করা উত্তম।
তবে যদি নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয় যে জমিটি পূর্বেই শরয়ি পদ্ধতিতে ঈদগাহের জন্য ওয়াকফ করা হয়েছিল, তাহলে শুধু মসজিদ সম্প্রসারণের প্রয়োজনের কারণে তার কোনো অংশ মসজিদের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
আর জমিটি যদি একাধিক ব্যক্তির যৌথ মালিকানাধীন হয়, তাহলে প্রত্যেক বৈধ মালিকের সম্মতি ছাড়া তাদের অংশ ওয়াকফ করা যাবে না। একইভাবে জমিটি সরকারি, খাস, ট্রাস্ট বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া মসজিদ কমিটি নিজেদের সিদ্ধান্তে তা ওয়াকফ করতে পারবে না।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত জমি যদি এখনো শরয়ি ওয়াকফ না হয়ে থাকে এবং এর বৈধ মালিক/মালিকগণ সম্মত থাকেন, তাহলে প্রয়োজনীয় অংশ মসজিদের জন্য ওয়াকফ করে বর্তমান মসজিদকে সম্পূর্ণরূপে তার মধ্যে রেখে সম্প্রসারণ করা যাবে। এবং অবশিষ্ট অংশ ঈদগাহ হিসেবে ওয়াকফ করে ব্যবহার করা জায়েয হবে। তবে বাস্তবায়নের আগে জমির মালিকানা ও পূর্বের ওয়াকফের বিষয়টি নিশ্চিত করে, সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণপূর্বক ওয়াকফ সম্পন্ন করা উচিত। প্রয়োজনবোধে সার্বিক বিষয় নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো মুফতির শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে।
الآيات القرآنية
** ﴿ وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا (١٨) ﴾ [الجن: 18]
** ﴿إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ فَعَسَى أُولَئِكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ﴾[التوبة: 18]
المعجم الأوسط للطبراني- (الحديث:31)- عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَتَّخِذُوا الْمَسَاجِدَ طُرُقًا، إِلَّا لِذِكْرٍ أَوْ صَلَاةٍ»
الدر المختار مع رد المحتار: 4/ 433
شرط الواقف كنص الشارع أي في المفهوم والدلالة
(قوله: قولهم شرط الواقف كنص الشارع) في الخيرية قد صرحوا بأن الاعتبار في الشروط لما هو الواقع لا لما كتب في مكتوب الوقف، فلو أقيمت بينة لما لم يوجد في كتاب الوقف عمل بها بلا ريب لأن المكتوب خط مجرد ولا عبرة به لخروجه عن الحجج الشرعية.
البحر الرائق : 5/421 زکریا بکڈپو
هو مسجد أبدا إلى قيام الساعة لا يعود ميراثا ولا يجوز نقله ونقل ماله إلى مسجد آخر سواء كانوا يصلون فيه أو لا وهو الفتوى
فتاوى بزازية- الجامع الوجيز : (3/285) - ولا يجوز للقيم أن يجعل شيأ من المسجد مسكنا أو مستغلا ولا أن يبني في فناء المسجد حوانيت.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন