এক বা দুই তালাকের পরে রুজু বা ফিরিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি
প্রশ্নঃ ১৬২৬৫১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি ভারত থেকে বলছি। আমার স্বামীর সথে প্রায় ঝগড়া হয়। আর আমি স্বামীর কাছে তালাক চেয়ে ফেলি। তারপর অনুতপ্ত হয়। কিন্তু বার বার একই কথা বলার জন্য আমার স্বামী বলছে হু যা ওটাই।রাগে এরকম বলেছে।বাকি কিচ্ছু না। তাহলে এটা কি তালাক হয়ে যাবে। তালাক হলে তাকে ফিরিয়ে আনার বিধান কি?
২৫ জুলাই, ২০২৬
ওয়েস্ট বেঙ্গল ৭১২১৪৬
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় ভাই, যদি আপনি তালাক চাওয়ার পর আপনার স্বামী উত্তরে "যা/ওটাই" বলে থাকেন, তাহলে এক তালাকে পতিত হয়ে যাবে।
সুতরাং স্ত্রীর উপর এক তালাকে রজয়ী পতিত হবে। এরপর ইদ্দতের মধ্যে (তিন হায়েজ, গর্ভবতী হলে গর্ভপাত পর্যন্ত) স্ত্রীকে মৌখিকভাবে যেমন,
স্বামী স্ত্রীকে স্পষ্টভাবে বলবে, "আমি তোমাকে রুজু করলাম", "আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম" বা এ ধরনের স্পষ্ট বাক্য। এর মাধ্যমে রুজু সম্পন্ন হয়ে যাবে।
একইভাবে স্বামী-স্ত্রীসুলভ আচরণের মাধ্যমেও যেমন,
চুম্বন করা, আলিঙ্গন করা, সহবাস করা বা রুজুর উদ্দেশ্য প্রকাশ পায় এমন অন্য কোনো দাম্পত্য আচরণ এর দ্বারাও রুজু সংঘটিত হয়ে যায়।
এমন অবস্থায়, বৈবাহিক সম্পর্ক পুনরায় বহাল হওয়ার পর স্বামীর হাতে ভবিষ্যতে প্রয়োগের জন্য আর দুই তালাকের অধিকার অবশিষ্ট থাকবে।
আর যদি ইদ্দত শেষ হয়ে যায়, তাহলে রুজুর সুযোগ থাকবে না। সেক্ষেত্রে উভয়ের সম্মতিতে নতুন মোহর নির্ধারণ করে পুনরায় বিবাহ করলেই বৈবাহিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, এক বা দুইটি স্পষ্ট তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে ইদ্দতের মধ্যে রুজু করার জন্য নতুন করে বিবাহ করার প্রয়োজন হয় না। বরং উপরে বর্ণিত পদ্ধতিতেই রুজু করা যায়।
আর যদি স্বামী তিন তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে স্ত্রী স্বামীর ওপর হুরমতে মুগাল্লাযার মাধ্যমে হারাম হয়ে যায়। তখন রুজু করা বা নতুন করে নিকাহ করা—কোনোটিই সম্ভব নয়।
الفتاوى الهندية (1 / 356):
"وَفِي الْمُنْتَقَى امْرَأَةٌ قَالَتْ لِزَوْجِهَا طَلِّقْنِي فَقَالَ الزَّوْجُ قَدْ فَعَلْت طَلُقَتْ فَإِنْ قَالَتْ زِدْنِي فَقَالَ فَعَلْت طَلُقَتْ أَيْضًا رَوَى إبْرَاهِيمُ عَنْ مُحَمَّدٍ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - قِيلَ لِرَجُلٍ أَطَلَّقْت امْرَأَتَك ثَلَاثًا قَالَ نَعَمْ وَاحِدَةً قَالَ الْقِيَاسُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ وَلَكِنَّا نَسْتَحْسِنُ وَنَجْعَلُهَا وَاحِدَةً وَفِيهِ إذَا قَالَتْ الْمَرْأَةُ طَلِّقْنِي ثَلَاثًا فَقَالَ الزَّوْجُ قَدْ أَبَنْتُك فَهَذَا جَوَابٌ وَهِيَ ثَلَاثٌ كَذَا فِي الْمُحِيطِ.
(بدائع الصنائع: کتاب الطلاق، فصل فی حکم الطلاق البائن، 187/3، ط: دار الكتب العلمية)
"فالحكم الأصلي لما دون الثلاث من الواحدة البائنة، والثنتين البائنتين هو نقصان عدد الطلاق، وزوال الملك أيضا حتى لا يحل له وطؤها إلا بنكاح جديد ولا يصح ظهاره، وإيلاؤه ولا يجري اللعان بينهما ولا يجري التوارث ولا يحرم حرمة غليظة حتى يجوز له نكاحها من غير أن تتزوج بزوج آخر؛ لأن ما دون الثلاثة - وإن كان بائنا - فإنه يوجب زوال الملك لا زوال حل المحلية."
(درر الحکام: کتاب الطلاق،باب الرجعة،384/1 ،ط:داراحیاءالكتب العربية)
"(وتصح) أي الرجعة فيما دون الثلاث من طلقة وطلقتين وهذا في الحرة .(وإن أبت) المرأة عن الرجعة فإن الأمر بالإمساك مطلق فيشمل التقادير.(وندب إعلامها) أي إعلام الزوج إياها بالرجعة لأنه لو لم يعلمها لربما تقع المرأة في المعصية ...(و) ندب (الإشهاد) أيضا احترازا عن التجاحد وعن الوقوع في مواقع التهم لأن الناس عرفوه مطلقا فيتهم بالقعود معها، و إن لم يشهد صحت."
(فتاوی شامی: كتاب الطلاق،باب الرجعة،398/3،ط:سعيد)
"وتصح مع إكراه وهزل ولعب وخطإ (بنحو) متعلق باستدامة (رجعتك) ورددتك ومسكتك بلا نية لأنه صريح (و) بالفعل مع الكراهة (بكل ما يوجب حرمة المصاهرة) كمس ولو منها اختلاسا، أو نائما، أو مكرها أو مجنونا، أو معتوها إن صدقها هو أو ورثته بعد موته جوهرة ورجعة المجنون بالفعل بزازية.(و) تصح (بتزوجها في العدة) به يفتى جوهرة (ووطئها في الدبر على المعتمد) لأنه لا يخلو عن مس بشهوة (إن لم يطلق بائنا) فإن أبانها فلا..(وندب إعلامها بها) لئلا تنكح غيره بعد العدة، فإن نكحت فرق بينهما وإن دخل شمني.(وندب الإشهاد) بعدلين ولو بعد الرجعة بالفعل.
(قوله: إن لم يطلق بائنا) هذا بيان لشرط الرجعة، ولها شروط خمس تعلم بالتأمل شرنبلالية.قلت: هي أن لا يكون الطلاق ثلاثا في الحرة، أو ثنتين في الأمة ولا واحدة مقترنة بعوض مالي ولا بصفة تنبئ عن البينونة - كطويلة، أو شديدة -، ولا مشبهة كطلقة مثل الجبل، ولا كناية يقع بها بائن. ولا يخفى أن الشرط واحد هو كون الطلاق رجعيا، وهذه شروط كونه رجعيا متى فقد منها شرط كان بائنا كما أوضحناه أول كتاب الطلاق، وقد استغنى عنها المصنف بقوله إن لم يطلق بائنا، وهو أولى من قول الكنز إن لم يطلق ثلاثا .(قوله: فلا) أي فلا رجعة."
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী তাওহীদুল ইসলাম
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১