বাইতুল মাকদিসের বিজয়ের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও আজকের বাস্তবতা কেন ভিন্ন?
প্রশ্নঃ ১৬২৭৫৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, একটা প্রশ্ন বার বার খটকা লাগে যে হাদিসে তো বাইতুল আকসার বিজয় সম্পর্কে বলা হয়েছে।আর আল্লাহ তায়ালাও সর্বশক্তিমান এরপরও ইসরায়েলরা আজ কেন এত শক্তিধর।ফিলিস্তিনীরা কেন তাদের সাথে লড়তে পারছে না।আল্লাহ তো তাদের সাহায্য করতে পারেন।যুক্তির আলোকে স্পষ্ট করে দিলে খুব উপকৃত হব
২৬ জুলাই, ২০২৬
সিংগীমারী
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
আল্লাহ তা'আলা সর্বশক্তিমান। তিনি চাইলে মুহূর্তেই ফিলিস্তিনকে বিজয় দিতে পারেন। কিন্তু তিনি দুনিয়াকে পরীক্ষার স্থান বানিয়েছেন। তাই তাঁর নির্ধারিত সুন্নাহ (নিয়ম) হলো, ফলাফল সাধারণত ঈমান, তাকওয়া, ধৈর্য, ঐক্য, প্রস্তুতি ও কারণ-উপকরণের মাধ্যমে আসে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ﴾
মানুষ কি মনে করে যে, তারা শুধু ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না?-(সূরা আল-আনকাবূত, ২৯:২)
আরও বলেন,
﴿وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ﴾
আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করব। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।-(সূরা আল-বাকারা, ২:১৫৫)
আল্লাহ আরও বলেন,
﴿وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ﴾
এই দিনগুলো (বিজয়-পরাজয়) আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে পরিবর্তন করে থাকি। -(সূরা আলে ইমরান, ৩:১৪০)
অর্থাৎ কখনো মুসলিমরা শক্তিশালী হবে, কখনো দুর্বল হবে। এটি আল্লাহর দুনিয়াবি নিয়ম।
আরও বলেন,
﴿إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ﴾
নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।-(সূরা আর-রা'দ, ১৩:১১)
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর সাহায্যের জন্য ঈমান, তাকওয়া, ঐক্য, সংশোধন ও যথাসাধ্য প্রস্তুতি জরুরি।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছেন,
«يُوشِكُ الْأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الْأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا». فَقَالَ قَائِلٌ: وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ؟ قَالَ: «بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ، وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءٌ كَغُثَاءِ السَّيْلِ، وَلَيَنْزِعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ، وَلَيَقْذِفَنَّ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهْنَ». قَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا الْوَهْنُ؟ قَالَ: «حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ»
অচিরেই বিভিন্ন জাতি তোমাদের বিরুদ্ধে এমনভাবে একত্রিত হবে, যেমন ভোজনকারীরা খাদ্যের পাত্রের দিকে একত্রিত হয়। সাহাবারা বললেন, তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হব? তিনি বললেন, না, বরং তোমরা সংখ্যায় অনেক হবে। কিন্তু তোমরা হবে বন্যার ফেনার মতো। আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দেবেন এবং তোমাদের অন্তরে ‘ওয়াহন’ ঢুকিয়ে দেবেন। জিজ্ঞেস করা হলো, ওয়াহন কী? তিনি বললেন, দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।
-সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪২৯৭
এই হাদীস দেখায় যে মুসলিমদের দুর্বলতার একটি বড় কারণ তাদের নিজেদের ভেতরেও সৃষ্টি হতে পারে।
আবার রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
«لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ، حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ»
আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যারা তাদের সাহায্য করবে না বা বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; আল্লাহর ফয়সালা আসা পর্যন্ত তারা এ অবস্থায় থাকবে।-সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৯২০
অতএব, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে আল্লাহর ওয়াদা নিয়ে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য, তবে তা তাঁর নির্ধারিত সময়ে পূর্ণ হবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ﴾
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর কাজ সম্পন্ন করবেন।_(সূরা আত-তালাক, ৬৫:৩)
এবং বলেন,
﴿إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ﴾
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না।_(সূরা আলে ইমরান, ৩:৯)
সুতরাং আজ ইসরায়েলের সামরিক শক্তি বেশি হওয়া আল্লাহর অক্ষমতার প্রমাণ নয়। ইতিহাসে ফিরআউন, নমরূদ, রোমান, মঙ্গোলসহ বহু শক্তিধর জাতি ও সাম্রাজ্য ছিল; কিন্তু কেউ স্থায়ী হয়নি। বর্তমান অবস্থাও আল্লাহর পরীক্ষার অংশ। তিনি যখন ইচ্ছা করবেন, তখন পরিস্থিতি পরিবর্তন করে দেবেন এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। মুসলিমের কাজ হলো ঈমানে অটল থাকা, নিজের ও উম্মাহর সংশোধনের চেষ্টা করা, বৈধ উপায়ে মাজলুমদের সাহায্য করা এবং আল্লাহর সাহায্যের ব্যাপারে কখনো নিরাশ না হওয়া।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১