স্বামী-স্ত্রী কি একে অপরের গোপন অঙ্গের লোম পরিষ্কার করে দিতে পারবেন?
প্রশ্নঃ ৩৫৫৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, স্বামী তার স্ত্রীর এবং স্ত্রী তার স্বামীর গোপন অঙ্গের লোম পরিস্কার করে দিতে পারবে কি ?
১৪ নভেম্বর, ২০২০
৬৯ Carlisle Rd
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় ভাই, স্ত্রীর জন্য স্বামীর নাভির নিচের লোম কেটে দেওয়া জায়েজ। তবে স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের লজ্জাস্থান দেখা পছন্দনীয় নয়।
হাদিস শরিফে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রাযি.) বলেন,
«ما نظرتُ أو ما رأيتُ فرجَ رسولِ اللهِ ﷺ قطُّ»
“আমি কখনো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর লজ্জাস্থানের দিকে দৃষ্টি দিইনি।” অথবা তিনি বলেছেন, “আমি কখনো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর লজ্জাস্থান দেখিনি।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮)
* এর ব্যাখ্যায় মাযাহিরে হক-এর লেখক আল্লামা কুতবুদ্দীন দেহলভী (রহ.) লিখেছেন,
“এক বর্ণনায় হযরত আয়িশা (রাযি.)-এর ভাষ্য হলো:
‘রাসূলুল্লাহ ﷺ কখনো আমার লজ্জাস্থান দেখেননি এবং আমিও কখনো তাঁর লজ্জাস্থান দেখিনি।’
* এ সকল বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, যদিও স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের লজ্জাস্থান দেখতে পারেন, তবে উত্তম আদব, লজ্জাশীলতা ও শালীনতার সর্বোচ্চ স্তর হলো—স্বামী-স্ত্রীও একে অপরের লজ্জাস্থান না দেখা।” (মাযাহিরে হক, ৩/২৬২, দারুল ইশাআত, করাচি।)
উল্লেখ্য: ফকীহগণের মতে স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের সমগ্র শরীর দেখা মূলত জায়েজ। তবে উপরোক্ত বক্তব্যটি আদব ও উত্তম শালীনতার দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে, ফরজ বা ওয়াজিব হিসেবে নয়।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন-
أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَآئِكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ عَلِمَ اللّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ فَالآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُواْ مَا كَتَبَ اللّهُ لَكُمْ وَكُلُواْ وَاشْرَبُواْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّواْ الصِّيَامَ إِلَى الَّليْلِ وَلاَ تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ تِلْكَ حُدُودُ اللّهِ فَلاَ تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে।
সুরা বাকারা ২:১৮৭
এ আয়াতে স্বামী স্ত্রী একে অপরের জন্য পোশাক স্বরূপ বলা হয়েছে। পোশাকের কাছে যেমন শরীরের কোন অংশ গোপন থাকে না, তেমনি স্বামী-স্ত্রী একজনের শরীরের কোন অংশ অপরজনের কাছে গোপন রাখার নয়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
ইসহাক মাহমুদ, মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১