দু’আ

মোট দু’আ - ৫৯৭ টি

সকল দু'আ একত্রে দেখুন

.

বৃষ্টি বর্ষণের পর বলবে

۞ مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهٖ
উচ্চারণঃ

মুতিরনা বিফাদলিল্লাহি ওয়া রহমাতিহী

অর্থঃ

আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।

.

দুঃখ ও দুশ্চিন্তার সময় পড়বে

۞ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ عَبْدُكَ، إِبْنُ عَبْدِكَ، إِبْنُ أَمَتِكَ، نَاصِيَتِيْ بِيَدِكَ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ، أَسْأَلُكَ بِكُــــلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بِه نَفْسَكَ، أَوْ أَنْزَلْتَهٗ فِيْ كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتَهٗ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِه فِيْ عِلْمِ الغَيْبِ عِنْدَكَ، أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيْعَ قَلْبِيْ ، وَنُوْرَ صَدْرِيْ ، وَجَلَاءَ حُزْنِيْ ، وَذَهَابَ هَمِّيْ
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নী ‘আবদুকা ইবনু ‘আবদিকা ইবনু আমাতিকা, না-সিয়াতী বিয়াদিকা, মা-দ্বিন ফিয়্যা হুকমুকা, ‘আদলুন ফিয়্যা কাদ্বা-য়ুকা, আসআলুকা বিকুল্লি ইসমিন্ হুয়া লাকা সাম্মাইতা বিহি নাফসাকা, আও আনযালতাহু ফী কিতা-বিকা আও ‘আল্লামতাহু আহাদাম্-মিন খালক্বিকা আও ইসতা’সারতা বিহী ফী ‘ইলমিল গাইবি ‘ইনদাকা, আন্ তাজ‘আলাল কুরআ-না রবী‘আ ক্বালবী, ওয়া নূরা সাদ্‌রী, ওয়া জালা’আ হুযনী ওয়া যাহা-বা হাম্মী

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা, আপনারই এক বান্দার পুত্র এবং আপনার এক বাঁদীর পুত্র। আমার কপাল (এর নিয়ন্ত্রণ) আপনার হাতে। আমার উপর আপনার নির্দেশ কার্যকর; আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ন্যায়পূর্ণ। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি আপনার প্রতিটি নামের উসীলায়; যে নাম আপনি নিজের জন্য নিজে রেখেছেন অথবা আপনি আপনার কিতাবে নাযিল করেছেন অথবা আপনার সৃষ্টজীবের কাউকেও শিখিয়েছেন অথবা নিজ গায়েবী জ্ঞানে নিজের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন—আপনি কুরআনকে বানিয়ে দিন আমার হৃদয়ের প্রশান্তি, আমার বক্ষের জ্যোতি, আমার দুঃখ অপসারণকারী এবং দুশ্চিন্তা দূরকারী।

.

বিষাক্ত প্রাণী থেকে বাঁচার দু‘আ

۞ أعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণঃ

আউযুবি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন সাররি-মা-খলাক।

অর্থঃ

আমি আল্লাহ্‌ তা‘আলার সমস্ত (উপকারী ও শেফাদানকারী) কালিমা দ্বারা তার সমস্ত মাখলূকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।

.

সূরা আল-কাহফ (দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দু‘আ)

(প্রথম ১০ আয়াত) ১ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَىٰ عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَل لَّهُ عِوَجًا ۜ ২ قَيِّمًا لِّيُنذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِّن لَّدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا ৩ مَّاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا ৪ وَيُنذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا ৫ مَّا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآبَائِهِمْ ۚ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ ۚ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا ৬ فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلَىٰ آثَارِهِمْ إِن لَّمْ يُؤْمِنُوا بِهَٰذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا ৭ إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ৮ وَإِنَّا لَجَاعِلُونَ مَا عَلَيْهَا صَعِيدًا جُرُزًا ৯ أَمْ حَسِبْتَ أَنَّ أَصْحَابَ الْكَهْفِ وَالرَّقِيمِ كَانُوا مِنْ آيَاتِنَا عَجَبًا ১০ إِذْ أَوَى الْفِتْيَةُ إِلَى الْكَهْفِ فَقَالُوا رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا (শেষ ১০ আয়াত) ১ الَّذِينَ كَانَتْ أَعْيُنُهُمْ فِي غِطَاءٍ عَن ذِكْرِي وَكَانُوا لَا يَسْتَطِيعُونَ سَمْعًا ২ أَفَحَسِبَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَن يَتَّخِذُوا عِبَادِي مِن دُونِي أَوْلِيَاءَ ۚ إِنَّا أَعْتَدْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ نُزُلًا ৩ قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُم بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا ৪ الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا ৫ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا ৬ ذَٰلِكَ جَزَاؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوا وَاتَّخَذُوا آيَاتِي وَرُسُلِي هُزُوًا ৭ إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا ৮ خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا ৯ قُل لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَن تَنفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا ১০ قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَىٰ إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا
উচ্চারণঃ

(প্রথম ১০ আয়াত) ১ আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আনযালা ‘আলা ‘আবদিহিল্ কিতা-বা অ লাম্ ইয়াজ্ব‘আল্ লাহূ ‘ইওয়াজ্বা-। ২ ক্বাইয়্যিমাল্ লিয়ুনযিরা বা'সান্ শাদীদাম্ মিল্লাদুনহু অ-য়ুবাশ্ শিরাল্ মুমিনীনাল্লাযীনা ইয়া’মালূনাছ্ ছোয়া-লিহা-তি আন্না লাহুম্ আজ্বরান্ হাসানা-। ৩ মা-কিছীনা ফীহি আবাদা-। ৪ অ-য়ুনযিরাল্লাযিনা ক্ব-লুত্তাখাযাল্লা-হু অলাদা-। ৫ মা-লাহুম্ বিহী মিন্ ‘ইল্মিঁও অলা- লিআ-বা-য়িহিম্; কাবুরত্ কালিমাতান্ তাখরুজু মিন্ আফ্ওয়া-হিহিম্; ইঁইয়াকু লূনা ইল্লা-কাযিবা-। ৬ ফালা‘আল্লাকা বা-খি‘উন্নাফ্সাকা ‘আলা আ-ছা-রিহিম্ ইল্ লাম্ ইয়ুমিনূ বিহা-যাল্ হাদীছি আসাফা-। ৭ ইন্না- জ্বা‘আলনা-মা- ‘আলাল্ র্আদ্বি যীনাতাল্লাহা-লিনাব্লুওয়াহুম্ আইয়্যুহুম্ আহ্সানু ‘আমালা-। ৮ অইন্না-লাজ্বা-‘ইলূনা মা-‘আলাইহা-ছোয়া‘ঈদান্ জুরুযা-। ৯ আম্ হাসিবতা আন্না আছ্হা-বাল্ ক্বহ্ফি অর্রাক্বীমি কা-নূ মিন্ আ-ইয়া-তিনা- ‘আজ্বাবা। ১০ ইয্ আওয়াল্ ফিত্ইয়াতু ইলাল্ কাহ্ফি ফাক্ব-লূ রব্বানা আ-তিনা-মিল্লাদুন্কা রাহমাতাওঁ অহাইয়ি লানা- মিন্ আম্রিনা- রশাদা-। (শেষ ১০ আয়াত) ১ আল্লাযীনা কা-নাত্ ‘আইয়ুনুহুম্ ফী গিত্বোয়া-য়িন্ ‘আন্ যিক্রী অকা-নূ লা- ইয়াস্তাত্বী ‘ঊনা সাম্‘আ-। ২ আফাহাসিবাল্ লাযীনা কাফারূ আইঁ ইয়াত্তাখিযূ ‘ইবা-দী মিন্ দূনী আওলিয়া-য়্; ইন্না ‘আ'তাদ্না-জ্বাহান্নামা লিল্ কা-ফিরীনা নুযুলা-। ৩ কুল্ হাল্ নুনাব্বিয়ুকুম্ বিল্আখ্সারীনা ‘আমা-লা-। ৪ আল্লাযীনা দ্বোয়াল্লা সা’ইয়ুহুম্ ফীল্ হা-ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-অ হুম্ ইয়াহ্সাবূনা আন্নাহুম্ ইয়ুহ্সিনূনা ছুন্‘আ-। ৫ উলা-য়িকাল লাযীনা কাফারূ বিআ-ইয়া-তি রব্বিহিম্ অলিক্বা-য়িহী ফাহাবিত্বোত আ’মা-লূহুম্ ফালা-নুক্বীমু লাহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি অয্না-। ৬ যা-লিকা জ্বাযা-য়ুহুম্ জ্বাহান্নামু বিমা-কাফারূ অত্তাখাযূ আ-ইয়া-তী অরুসুলী হুযুওয়া-। ৭ ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ অ‘আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি কা-নাত্ লাহুম্ জ্বান্নাতুল্ ফিরদাউসি নুযুলা-। ৮ খা-লিদীনা ফীহা-লা-ইয়াবগূনা ‘আন্হা-হিওয়ালা-। ৯ কুল্ লাও কা-নাল্ বাহরু মিদা-দাল্ লিকালিমাতি রব্বী লানাফিদাল্ বাহরু ক্বাব্লা আন্ তান্ফাদা কালিমা-তু রব্বী অলাও জ্বিনা-বিমিছ্লিহী মাদাদা-। ১০ কুল্ ইন্নামা আনা-বাশারুম্ মিছ্লুকুম্ ইয়ূহা ইলাইয়্যা আন্নামা ইলা-হুকুম্ ইলাহুঁও ওয়া- হিদুন্ ফামান্ কা-না ইয়ারজু লিক্বা রব্বিহী ফাল্ইয়া’মাল্ ‘আমালান্ ছোয়া-লিহাঁও অলা-ইয়ুশরিকু বি ই’বা-দাতি রব্বিহী আহাদা-।

অর্থঃ

(প্রথম ১০ আয়াত) ১ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার উপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে রাখেননি কোন বক্রতা । ২ সরলরূপে, যাতে সে তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন আযাব সম্পর্কে সতর্ক করে এবং সুসংবাদ দেয়, সেসব মুমিনকে, যারা সৎকর্ম করে, নিশ্চয় তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। ৩ তারা তাতে অনন্তকাল অবস্থান করবে। ৪ আর যেন সতর্ক করে তাদেরকে, যারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন’। ৫ এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও না। বড় মারাত্মক কথা, যা তাদের মুখ থেকে বের হয়। মিথ্যা ছাড়া তারা কিছুই বলে না! ৬ হয়তো তুমি তাদের পেছনে পেছনে ঘুরে দুঃখে নিজকে শেষ করে দেবে, যদি তারা এই কথার প্রতি ঈমান না আনে। ৭ নিশ্চয় যমীনের উপর যা রয়েছে, তা আমি শোভা করেছি তার জন্য, যাতে তাদেরকে পরীক্ষা করি যে, কর্মে তাদের মধ্যে কে উত্তম। ৮ আর নিশ্চয় তার উপর যা রয়েছে তাকে আমি উদ্ভিদহীন শুষ্ক মাটিতে পরিণত করব। ৯ তুমি কি মনে করেছ যে, গুহা ও রাকীমের অধিবাসীরা ছিল আমার আয়াতসমূহের এক বিস্ময়? ১০ যখন যুবকরা গুহায় আশ্রয় নিল অতঃপর বলল, ‘হে আমদের রব, আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকাণ্ড সঠিক করে দিন’। (শেষ ১০ আয়াত) ১ আমার স্মরণ থেকে যাদের চোখ ছিল আবরণে ঢাকা এবং যারা শুনতেও ছিল অক্ষম। ২ যারা কুফরী করছে, তারা কি মনে করেছে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে? নিশ্চয় আমি জাহান্নামকে কাফিরদের আপ্যায়নের জন্য প্রস্তুত করছি। ৩ বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের কথা জানাব, যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত’? ৪ দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করছে যে, তারা ভাল কাজই করছে’! ৫ ‘তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের সকল আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। সুতরাং আমি তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন ওজনের ব্যবস্থা রাখব না’। ৬ ‘এ জন্যই তাদের প্রতিফল জাহান্নাম। কারণ তারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহ ও আমার রাসূলগণকে বিদ্রুপের বিষয় বানিয়েছে’। ৭ নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের মেহমানদারির জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস। ৮ সেখানে তারা স্থায়ী হবে। তারা সেখান থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হতে চাইবে না। ৯ বল, ‘আমার রবের কথা লেখার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়ে যায় তবে সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে আমার রবের কথা শেষ হওয়ার আগেই। যদিও এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র নিয়ে আসি’। ১০ বল, ‘আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহই এক ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে’।

.

মজলিসের কাফফারার দু‘আ

۞ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
উচ্চারণঃ

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাকাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লা- আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং প্রশংসা ব্যক্ত করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া অন্য কোন মা‘বুদ নেই, আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং আপনার দিকেই ধাবিত হচ্ছি।

.

মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা

۞  رَبَّـنَـا  اغْـفِـرْلِـىْ  وَلِـوَالِـدَىَّ  وَلِـلْـمُـؤْمِـنِـيْـنَ  يَـوْمَ  يَـقُـوْمُ  الْـحِـسَـابُ
উচ্চারণঃ

রাব্বানাগ্ ফিরলী ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিল্ মু’মিনীনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল্ হিসাব্।

অর্থঃ

হে আমার প্রতিপালক! যে দিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে সেই দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মু’মিনগণকে ক্ষমা করো।

.

বাড়ি থেকে বের হওয়ার দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ إنيْ أَعُوْذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ ، أَوْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ ، أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ ، أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيَّ
উচ্চারণঃ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা আন আদ্বিল্লা, আও উদ্বাল্লা, আও আযিল্লা, আও উযাল্লা, আও আযলিমা, আও উযলামা, আও আজহালা, আও ইয়ুজহালা ‘আলাইয়্যা।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই যেন নিজেকে বা অন্যকে পথভ্রষ্ট না করি, অথবা অন্যের দ্বারা পথভ্রষ্ট না হই; আমার নিজের বা অন্যের পদস্খলন না করি, অথবা আমায় যেন পদস্খলন করানো না হয়; আমি যেন নিজের বা অন্যের উপর যুলম না করি অথবা আমার প্রতি যুলম না করা হয়; আমি যেন নিজে মুর্খতা না করি, অথবা আমার উপর মূর্খতা করা না হয়।

.

দ্বীনের উপর অবিচল থাকার দু‘আ

۞ يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِيْ عَلٰى دِيْنِكَ
উচ্চারণঃ

ইয়া মুকাল্লিবাল ক্বুলূ-ব, ছাব্বিত ক্বলবী আ’লা দ্বী-নিকা

অর্থঃ

হে অন্তরের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তুমি তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ।

.

কুরআনে বর্ণিত রব্বানা দু‘আ-৮

۞ رَبَّنَا إِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِيَوْمٍ لَّا رَيْبَ فِيْهِ ۚ إِنَّ اللهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيْعَادَ
উচ্চারণঃ

রাব্বানা ইন্নাকা জা-মি‘উন্না-ছি লিইয়াওমিল্লা-রাইবা ফীহি ইন্নাল্লা-হা লা-ইউখলিফুল মী‘আদ।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি সমস্ত মানুষকে এমন একদিন একত্র করবে, যে দিনের আগমনে কোন সন্দেহ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ ওয়াদার বিপরীত করেন না।

১০.

কুরআনে বর্ণিত জ্ঞাণ বৃদ্ধির দু‘আ-২০

۞ رَبِّ زِدْنِـىْ عِـلْـمًـا
উচ্চারণঃ

রাব্বি জিদনি ইলমা।

অর্থঃ

হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।

১১.

ক্ষমার জন্য দু‘আ-১

۞  رَبَّـنَـا  فَـاغْـفِـرْلَـنَـا  ذُنُـوْبَـنَـا  وَكَـفِّـرْ  عَـنَّـا  سَـيِّـاٰ تِـنَـا  وَتَـوَفَّـنَـا  مَـعَ  الاَبْـرَارِ
উচ্চারণঃ

রাব্বানা ফাগ্‌ফিরলানা যুনূবানা ওয়া কাফ্‌ফির ’আন্না সাইয়্যি আ’তিনা ওয়া তাওয়াফ্‌ফানা মা’আল আব্‌রার।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা কর, আমাদের মন্দ কাজগুলো দূরীভূত কর এবং আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের সহগামী করে মৃত্যু দিও।

১২.

মুনাজাত শুরু করার নিয়ম দু‘আ ও মুনাজাত হামদ ও সালাতের মাধ্যমে শুরু করা সুন্নাত। যেমন এভাবেও শুরু করা যেতে পারে-

۞ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ ربِّ الْعَالَمِيْنَ، وَالصَّلٰوةُ وَالسَّلَامُ عَلَى سَيِّدِ الْمُرْسَلِيْنَ
উচ্চারণঃ

আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আ‘লা সায়্যিদিল মুরসালিন।

অর্থঃ

সকল প্রশংসা আল্লাহ আল্লাহ তা‘আলার জন্য, যিনি সমগ্র জাহানের প্রতিপালক এবং দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক সাইয়্যিদুল মুরসালীন প্রিয় নবী (ﷺ) এর উপর।

১৩.

কুরআনে বর্ণিত রব্বানা দু‘আ-১০

۞ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِيْ أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ
উচ্চারণঃ

রাব্বানাগ ফিরলানা-যুনূবানা-ওয়া ইছরা-ফানা ফী আমরিনা-ওয়াছাব্বিত আকদা-মানা-ওয়ানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহসমূহ এবং আমাদের দ্বারা আমাদের কার্যাবলীতে যে সীমালংঘন ঘটে গেছে তা ক্ষমা করে দিন। আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে বিজয় দান করুন।

১৪.

বিছানায় শুয়ে পড়বে-১

۞ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِوَجْهِكَ الْكَرِيْمِ، وَكَلِمَاتِكَ التَّامَّةِ، مِنْ شَرِّ مَا أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِه ،اَللّٰهُمَّ أَنْتَ تَكْشِفُ الْمَغْرَمَ وَالْمَأْثَمَ، اَللّٰهُمَّ لَا يُهْزَمُ جُنْدُكَ، وَلَا يُخْلَفُ وَعْدُكَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা বি ওয়াজহিকাল কারীম ওয়া কালিমাতিকাত তাম্মাতি মিন শাররী মা আনতা আখিযুম বি নাসিয়াতিহি, আল্লাহুম্মা আনতা তাকশিফুল মাগরামা ওয়াল মা’ছামা, আল্লাহুম্মা লা ইউহযামু জুনদুকা,ওয়া লা ইয়ুখলাফু ওয়াদুকা ওয়া লা ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু, সুবহানাকা ওয়া বিহামদিকা।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি আপনার সম্মানিত চেহারার অসিলায় সব কিছু থেকে পানাহ চাচ্ছি, আর আপনার পরিপূর্ণ কালিমার অসিলায় অনিষ্টকর সব কিছু থেকে নাজাত চাচ্ছি, যা আপনার নিয়ন্ত্রণে আছে। হে আল্লাহ! আপনিই করয আদায় করে থাকেন এবং গুনাহ মাফ করে দেন। হে আল্লাহ! আপনার বাহিনী পরাজিত হবার নয় এবং ওয়াদা ভঙ্গ হয় না। আর কোন বিত্তবানের বিত্ত আপনার সামনে কাজে আসবে না। আপনি পবিত্র মহান, আর সব প্রশংসা আপনারই।

১৫.

বাসিন্দাদের জন্য সফরকারীদের দু‘আ

۞ أَسْتَوْدِعُكَ اللهَ الَّذِيْ لَا تَضِيْعُ وَدَائِعُهٗ ۞ أَسْتَوْدِعُكِ اللهَ الَّذِيْ لَا تَضِيْعُ وَدَائِعُهٗ ۞ أَسْتَوْدِعُكُمُ اللهَ الَّذِيْ لَا تَضِيْعُ وَدَائِعُهٗ
উচ্চারণঃ

একজন পুরুষের জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদিউকাল্লাহাল্লাজি লা তাদিয়ু ওয়া দা-ই-য়ুহ। একজন মহিলার জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদিউকিল্লাহাল্লাজি লা তাদিয়ু ওয়া দা-ই-য়ুহ। গোষ্ঠীর লোকেদের জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদিউকুমুল্লাহাল্লাজি লা তাদিয়ু ওয়া দা-ই-য়ুহ

অর্থঃ

আল্লাহর উপর ভরসা করে তোমাদেরকে রাখলাম। যার উপর ভরসা করলে কখনো বিফলে যাবে না।

১৬.

অনুগত নেক সন্তান প্রার্থনা-১

۞ رَبِّ ہَبۡ لِیۡ مِنۡ لَّدُنۡکَ ذُرِّیَّۃً طَیِّبَۃً ۚ اِنَّکَ سَمِیۡعُ الدُّعَآءِ
উচ্চারণঃ

রব্বি হাবলী মিন লাদুনকা যুররিয়্যাতান তইয়্যিবাতান ইন্নাকা সামীউদ দু‘আ

অর্থঃ

হে রব! আমাকে তুমি তোমার নিকট হতে নেক বংশধর দান কর। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।

১৭.

স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের জন্য দু‘আ

۞ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّا تِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ إِمَاماً
উচ্চারণঃ

রাব্বানা হাব্ লানা মিন্ আয্ওয়াজ্বিনা ওয়া যুররিইয়্যাতিনা ক্বুরওয়াতা আ’ইউনিওঁ ওয়াজ্ব’আলঅনা লিল্ মুত্তাক্বিনা ইমামা।

অর্থঃ

হে আমাদের রব! তুমি আমাদেরকে এমন স্ত্রী-সন্তান দান কর যাদের দর্শনে আমাদের চক্ষুশীতল হয়ে যাবে। তুমি আমাদেরকে পরহেযগার লোকদের ইমাম (অভিভাবক) বানিয়ে দাও।

১৮.

আয়না দেখার দু‘আ

۞ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ اَللّٰهُمَّ كَمَا حَسَّنْتَ خَلْقِيْ فَحَسِّنْ خُلُقِيْ
উচ্চারণঃ

আলহামদু লিল্লাহি, আল্লাহুম্মা কামা হাসসানতা খলক্বী ফাহাসসিন খুলুক্বী।

অর্থঃ

সকল প্রশংসা আল্লাহর, হে আল্লাহ্‌! আপনি আমাকে যেরূপ সুন্দর চেহারা দান করেছেন তদ্রূপ আমার স্বভাব-চরিত্রকেও সুন্দর করে দিন।

১৯.

সূরা আল-ফাতিহা

اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَۙ‏ ﴿۱﴾ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِيۡمِۙ‏ ﴿۲﴾ مٰلِكِ يَوۡمِ الدِّيۡنِؕ‏ ﴿۳﴾ اِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَاِيَّاكَ نَسۡتَعِيۡنُؕ‏ ﴿۴﴾ اِهۡدِنَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِيۡمَۙ‏ ﴿۵﴾ صِرَاطَ الَّذِيۡنَ اَنۡعَمۡتَ عَلَيۡهِمۡ ۙ‏ ﴿۶﴾ غَيۡرِ الۡمَغۡضُوۡبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا الضَّآلِّيۡنَ‏ ﴿۷﴾
উচ্চারণঃ

বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন। আররাহমা-নির রাহীম। মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন। ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম। সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম । গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন।

অর্থঃ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। যাবতীয প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। যিনি বিচার দিনের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

২০.

নতুন চাঁদ দেখে পড়ার দু‘আ-২

۞ اَللّٰهُ أَكْبَرْ، اَللّٰهُمَّ أَهِلَّهٗ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ، وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ، وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ رَبَّنَا وَتَرْضٰى، رَبُّنَا وَرَبُّكَ اللّٰهُ
উচ্চারণঃ

আল্লা-হু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু ‘আলাইনা বিলআমনি ওয়ালঈমানি ওয়াস্‌সালা-মাতি ওয়াল-ইসলা-মি, ওয়াত্তাওফীকি লিমা তুহিব্বু রব্বানা ওয়া তারদ্বা, রব্বুনা ওয়া রব্বুকাল্লাহ।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আপনি এই নতুন চাঁদকে আমাদের উপর উদিত করুন নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে; আর হে আমাদের রব্ব! যা আপনি পছন্দ করেন এবং যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন তার প্রতি তাওফীক লাভের সাথে। আল্লাহ আমাদের রব্ব এবং তোমার (চাঁদের) রব্ব।