দু’আ

মোট দু’আ - ৬৩৯ টি

সকল দু'আ একত্রে দেখুন

১.

দু‘আ-১২৬

اَللّٰهُمَّ طَهِّرْ قَلْبِيْ مِنَ النِّفَاقِ، وَعَمَلِيْ مِنَ الرِّيَآءِ، وَلِسَانِيْ مِنَ الْكَذِبِ، وَعَيْنِيْ مِنَ الْخِيَانَةِ، فَإِنَّكَ تَعْلَمُ خَآئِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُوْرُ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ত্বাহহির কালবী মিনান-নিফাক, ওয়া ‘আমালী মিনার-রিয়া’, ওয়া লিসানী মিনাল-কাযিব, ওয়া ‘আইনী মিনাল-খিয়ানাহ। ফা-ইন্নাকা তা‘লামু খা-ইনাতাল আ‘ইউনি ওয়া মা তুখফিস-সুদূর।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে মুনাফিকী থেকে, আমার আমলকে লোকদেখানো থেকে, আমার জিহ্বাকে মিথ্যা থেকে এবং আমার চোখকে খিয়ানত থেকে পবিত্র করুন। নিশ্চয়ই আপনি চোখের গোপন খিয়ানত এবং অন্তরসমূহ যা গোপন করে, তা জানেন।

২.

দু‘আ-১৩৭

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ رَحْمَةً مِّنْ عِنْدِكَ تَهْدِيْ بِهَا قَلْبِيْ، وَتَجْمَعُ بِهَاۤ أَمْرِيْ، وَتَلُمُّ بِهَا شَعَثِيْ، وَتُصْلِحُ بِهَا دِيْنِيْ، وَتَقْضِيْ بِهَا دَيْنِيْ، وَتَحْفَظُ بِهَا غَائِـبِيْ، وَتَرْفَعُ بِهَا شَاهِدِيْ، وَتُبَيِّضُ بِهَا وَجْهِيْ، وَتُزَكِّيْ بِهَا عَمَلِيْ، وَتُلْهِمُنِيْ بِهَا رَشَدِىْ، وَتَرُدُّ بِهَا أُلْفَتِيْ، وَتَعْصِمُنِيْ بِهَا مِنْ كُلِّ سُوْٓءٍ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা রাহমাতাম মিন ‘ইনদিকা, তাহদী বিহা কালবী, ওয়া তাজমাউ বিহা আমরী, ওয়া তালুম্মু বিহা শা‘ছী, ওয়া তুসলিহু বিহা দীনী, ওয়া তাকদ্বী বিহা দাইনী, ওয়া তাহফাযু বিহা গা-ইবী, ওয়া তারফাউ বিহা শা'হিদী, ওয়া তুবাইয়িদ্বু বিহা ওয়াজহী, ওয়া তুযাক্কী বিহা ‘আমালী, ওয়া তুলহিমুনী বিহা রুশদী, ওয়া তারুদ্দু বিহা উলফাতী, ওয়া তা‘ছিমুনী বিহা মিন কুল্লি সূ-ইন।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার পক্ষ থেকে এমন রহমত প্রার্থনা করছি, যার মাধ্যমে আপনি আমার অন্তরকে সঠিক পথ দেখাবেন, আমার যাবতীয় বিষয় সুবিন্যস্ত করবেন, আমার বিক্ষিপ্ততা ও অগোছালো অবস্থা দূর করবেন, আমার দ্বীনকে সংশোধন করবেন, আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন, আমার অনুপস্থিত বিষয় ও সম্পদ সংরক্ষণ করবেন, আমার উপস্থিত অবস্থা ও মর্যাদা উন্নত করবেন, আমার চেহারা উজ্জ্বল করবেন, আমার আমলকে পবিত্র করবেন, আমাকে সঠিক পথের প্রেরণা দেবেন, আমার ঐক্য ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে দেবেন এবং সেই রহমতের মাধ্যমে আমাকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন।

৩.

দু‘আ-১৪৪

اَللّٰهُمَّ هٰذَا الدُّعَآءُ وَعَلَيْكَ الْإِجَابَةُ، وَهٰذَا الْجَهْدُ وَعَلَيْكَ التُّكْـلَانُ، اَللّٰهُمَّ لَا تَكِلْنِيْۤ إِلٰى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَلَا تَنْزِعْ مِنِّيْ صَالِحَ مَاۤ أَعْطَيْتَنِىْ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা হা-যাদ দু‘আউ, ওয়া ‘আলাইকাল ইজাবাহ। ওয়া হা-যাল জাহদু, ওয়া ‘আলাইকাল তাওয়াক্কুল। আল্লাহুম্মা লা তাকিলনী ইলা নাফসী ত্বরফাতা ‘আইনিন, ওয়া লা তানযি‘ মিন্নী সালিহা মা আ‘তাইতানী।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! এ হলো আমার দু‘আ, আর তা কবুল করার দায়িত্ব আপনারই। এ হলো আমার প্রচেষ্টা, আর আপনার ওপরই আমার ভরসা। হে আল্লাহ! চোখের পলকের সমপরিমাণ সময়ের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না। আর আপনি আমাকে যে কল্যাণ দান করেছেন, তা আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবেন না।

৪.

দু‘আ-১৪৫

اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ لَسْتَ بِإِلٰهِ ۟اِسْتَحْدَثْنَاهُ، وَلَا بِرَبٍّ يَبِيْدُ ذِكْرُهُ ابْتَدَعْنَاهُ، وَلَاعَلَيْكَ شُرَكَآءُ يَقْضُوْنَ مَعَكَ، وَلَا كَانَ لَنَا قَبْلَكَ مِنْ إِلٰهٍ نَلْجَأُ إِلَيْهِ وَنَذَرُكَ، وَلَاۤ أَعَانَكَ عَلٰى خَلْقِنَا أَحَدٌ فَنُشْرِكَهٗ فِيْكَ، تَـبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ، فَنَسْئَلُكَ لَاۤ إِلٰهَ إِلَّۤا أَنْتَ اغْفِرْلِيْ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নাকা লাস্তা বি-ইলাহিন ইস্তাহদাছনাহু, ওয়ালা বি-রাব্বিন ইয়াবীদু যিকরুহু ইবতাদা‘নাহু, ওয়ালা ‘আলাইকা শুরাকাউ ইয়াকদূনা মা‘আকা, ওয়ালা কানা লানা ক্বাবলাকা মিন ইলাহিন নালজা’উ ইলাইহি ওয়া নাযারুকা, ওয়ালা আ‘আনাকা ‘আলা খালক্বিনা আহাদুন ফানুশরিকাহু ফীকা। তাবারাকতা ওয়া তা‘আলাইতা, ফানাসআলুকা, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, ইগফিরলী।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আপনি এমন কোনো উপাস্য নন, যাঁকে আমরা নতুন করে কল্পনা করেছি। আপনি এমন কোনো প্রতিপালক নন, যাঁর স্মৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং যাঁকে আমরা মনগড়াভাবে উদ্ভাবন করেছি। আপনার সঙ্গে এমন কোনো অংশীদার নেই, যারা আপনার সঙ্গে মিলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আপনার আগে আমাদের এমন কোনো উপাস্য ছিল না, যার কাছে আমরা আশ্রয় নেব এবং আপনাকে পরিত্যাগ করব। আমাদের সৃষ্টির ব্যাপারে আপনাকে কেউ সাহায্য করেনি যে, আমরা তাকে আপনার অংশীদার বানাব। আপনি বরকতময় ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। অতএব, আমরা আপনার কাছেই প্রার্থনা করছি। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আমাকে ক্ষমা করুন।

৫.

সন্তান লাভকারীকে অভিনন্দনে এই দু’আ করবে

بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي الْمَوْهُوبِ لَكَ، وَشَكَرْتَ الْوَاهِبَ، وَبَلَغَ أَشُدَّهُ، وَرُزِقْتَ بِرَّهُ
উচ্চারণঃ

বা-রাকাল্লা-হু লাকা ফিল মাউহুবি লাক, ওয়া শাকারতাল ওয়া-হিবা, ওয়া বালাগা আশুদ্দাহু, ওয়া রুযিক্তা বিররাহু

অর্থঃ

আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন তাতে আপনার জন্য বরকত দান করুন, সন্তান দানকারীর শুকরিয়া আদায় করুন, সন্তানটি পরিপূর্ণ বয়সে পদার্পণ করুক এবং তার সদ্ব্যবহার প্রাপ্ত হোন।

৬.

অধিক কল্যাণ ও সম্মানের জন্য দু‘আ

اَللّٰهُمَّ زِدْنَا وَلَا تَنْقُصْنَا ، وَأَكْرِمْنَا وَلَا تُهِنَّا، وَأَعْطِنَا وَلَا تَحْرِمْنَا ، وَاٰثِرْنَا وَلَا تُؤْثِرْ عَلَيْنَا ، وَأَرْضِنَا وَارْضَ عَنَّا.
উচ্চারণঃ

আল্ল-হুম্মা যিদনা- ওয়ালা- তানক্বুসনা- ওয়া আকরিমনা- ওয়ালা- তুহিন্না- ওয়া আ’ত্বিনা- ওয়ালা- তাহ্‌রিম্‌না- ওয়া আ-সির্‌না- ওয়ালা- তু’সির ’আলায়না- ওয়া আর্‌যিনা- ওয়ার্‌যা ’আন্না।

অর্থঃ

ইয়া আল্লাহ্! আমাদের জন্য বর্ধিত কর এবং আমাদের জন্য কম করো না; আমাদের সম্মানিত কর, আমাদের হেয় করো না; আমাদের দান কর, আমাদের বঞ্চিত করো না; আমাদের প্রাধান্য দাও, আমাদের উপর কাউকে প্রাধান্য দিও না; আমাদের সন্তুষ্টি দান কর আর তুমিও আমাদের উপর সন্তুষ্ট থাক।

৭.

আল্লাহর ভালোবাসাকে সর্বাধিক প্রিয় করার দু‘আ

اللّٰهُمَّ اجْعَلْ حُبَّكَ أَحَبَّ إِلَـيَّ مِنْ نَفْسِيْ وَأَهْلِيْ وَمِنَ الْمَآءِ الْبَارِدِ .
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মাজ‘আল হুব্বাকা আহাব্বা ইলাইয়্যা মিন নাফসী ওয়া আহলী, ওয়া মিনাল মা-ইল বারিদ।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আপনার ভালোবাসাকে আমার কাছে আমার নিজের চেয়ে, আমার পরিবার থেকে এবং ঠান্ডা পানির চেয়েও অধিক প্রিয় করে দিন।

৮.

দু‘আ-১১

رَبَّنَا اَفْرِغْ عَلَیْنَا صَبْرًا وَّ تَوَفَّنَا مُسْلِمِیْنَ۠۝۱۲۶
উচ্চারণঃ

রাব্বানা আফরিগ ‘আলাইনা সাবরাও ওয়াতাওয়াফফানা মুসলিমীন।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর সবর ঢেলে দাও এবং (তোমার) তাবেদাররূপে আমাদের মৃত্যু দান কর।

৯.

জীবনের সর্বক্ষেত্রে কল্যাণ, নেক আমল ও জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা লাভের দু‘আ

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَسْأَلَةِ وَخَيْرَالدُّعَآءِ وَخَيْرَ النَّجَاحِ وَخَيْرَ الْعَمَلِ وَخَيْرَ الثَّوَابِ وَخَيْرَ الْحَيَاةِ وَخَيْرَ الْمَمَاتِ، وَثَبِّتْنِيْ وَثَقِّلْ مَوَازِيْنِيْ، وَحَقِّقْ إِيْمَانِيْ وَارْفَعْ دَرَجَتِيْ وَتَقَبَّلْ صَلٰوتِيْ، وَأَسْأَلُكَ الدَّرَجَاتِ الْعُلٰى مِنَ الْجَنَّةِ، اٰمِيْنَ. اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ فَوَاتِحَ الْخَيْرِوَخَوَاتِمَهٗ وَجَوَامِعَهٗ وَأَوَّلَهٗ وَاٰخِرَهٗ وَظَاهِرَهٗ وَبَاطِنَه. اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَاۤ اٰتِيْ وَخَيْرَمَاۤ أَفْعَلُ ، وَخَيْرَ مَاۤ أَعْمَلُ، وَخَيْرَ مَا بَطَنَ ، وَخَيْرَ مَا ظَهَرَ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাল মাসআলাতি, ওয়া খাইরাদ দু‘আ-ই, ওয়া খাইরান নাজাহি, ওয়া খাইরাল ‘আমালি, ওয়া খাইরাস সাওয়াবি, ওয়া খাইরাল হায়াতি, ওয়া খাইরাল মামাতি। ওয়া সাব্বিতনী, ওয়া সাক্কিল মাওয়াযী-নী, ওয়া হাক্কিক ঈমানী, ওয়ারফা‘ দারাজাতী, ওয়া তাকাব্বাল সালাতী। ওয়া আসআলুকাদ দারাজাতিল ‘উলা মিনাল জান্নাতি। আমীন। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ফাওয়াতিহাল খাইরি ওয়া খাওয়াতিমাহু, ওয়া জাওয়ামি‘আহু, ওয়া আউওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু, ওয়া যাহিরাহু ওয়া বাতিনাহু। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরা মা-আতী, ওয়া খাইরা মা-আফ‘আলু, ওয়া খাইরা মা-আ‘মালু, ওয়া খাইরা মা-বাতানা, ওয়া খাইরা মা-যাহারা।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সর্বোত্তম প্রার্থনা, সর্বোত্তম দুআ, সর্বোত্তম সফলতা, সর্বোত্তম আমল, সর্বোত্তম প্রতিদান, সর্বোত্তম জীবন ও সর্বোত্তম মৃত্যু প্রার্থনা করছি। আমাকে অবিচল রাখুন, আমার আমলের পাল্লা ভারী করুন, আমার ঈমানকে সুদৃঢ় করুন, আমার মর্যাদা উন্নীত করুন এবং আমার নামাজ কবুল করুন। আমি আপনার কাছে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদাসমূহ প্রার্থনা করছি। আমীন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কল্যাণের সূচনাসমূহ, পরিণতিসমূহ, সামগ্রিক কল্যাণ, এর শুরু ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপন—সব ধরনের কল্যাণ প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে যা কিছু আমার কাছে আসে, আমি যা কিছু করি, যে আমল করি এবং যা কিছু গোপনে ও প্রকাশ্যে সংঘটিত হয়—এসবের মধ্যে সর্বোত্তম কল্যাণ প্রার্থনা করছি।

১০.

বার্ধক্য ও জীবনের শেষ সময়ে প্রশস্ত রিজিক লাভের দু‘আ

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ أَوْسَعَ رِزْقِكَ عَلَيَّ عِنْدَ كِبَرِ سِنِّيْ وَانْقِطَاعِ عُمُرِيْ .
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মাজ‘আল আওসা‘আ রিজকিকা ‘আলাইয়্যা ‘ইন্দা কিবারি সিন্‌নী ওয়ানকিতা‘ই ‘উমরী।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমার বার্ধক্যে এবং জীবনের শেষ সময়ে আপনার পক্ষ থেকে আমার জন্য সর্বাধিক প্রশস্ত রিজিকের ব্যবস্থা করে দিন।

১১.

শয়তান থেকে সুরক্ষার দু‘আ

اَللّٰهُمَّ اعْصِمْنِيْ مِنَ الشَّيْطَانِ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা‘সিমনী মিনাশ শাইত্বান।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমাকে শয়তান থেকে সুরক্ষিত রাখুন

১২.

দু‘আ-১১৭

اَللّٰهُمَّ لَكَ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ، وَإِلَيْكَ مَاٰبِيْ، وَلَكَ رَبِّ تُرَاثِيْ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা লাকা সালাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতী, ওয়া ইলাইকা মাআবী, ওয়া লাকা রাব্বি তুরাসী।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমার নামাজ, আমার ইবাদত-বন্দেগি, আমার জীবন এবং আমার মরণ সবকিছুই একমাত্র আপনার জন্য নিবেদিত। আর আপনার দিকেই আমার প্রত্যাবর্তন, এবং হে আমার রব! আমার রেখে যাওয়া সবকিছু বা উত্তরাধিকারের মালিকও আপনি।

১৩.

দু‘আ-১২০

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ حُبَّكَ أَحَبَّ الْأَشْيَآءِ إِلَـيَّ، وَاجْعَلْ خَشْيَتَكَ أَخْوَفَ الْأَشْيَآءِ عِنْدِيْ، وَاقْطَعْ عَنِّيْ حَاجَاتِ الدُّنْيَا بِالشَّوْقِ إِلٰى لِقَآئِكَ، وَإِذَا أَقْرَرْتَ أَعْيُنَ أَهْلِ الدُّنْيَا مِنْ دُنْيَاهُمْ فَأَقْرِرْ عَيْنِيْ مِنْ عِبَادَتِكَ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মাজ-‘আল হুব্বাকা আহাব্বাল আশ'য়া-ই ইলাইয়্যা, ওয়ায‘আল খাশ'য়াতাকা আখওয়াফাল আশ'য়া-ই ‘ইনদী, ও'য়াক্বত্ব‘আ ‘আন্নী হাজাতিদ-দুন্ইয়া বিশ-শাওক্বি ইলা লিক্বা-ইকা, ওয়া ইযা আক্বরারতা আ'উনা আহলিদ-দুন্ইয়া মিন দুন্ ইয়াহুম, ফা-আক্বরার ‘আইনী মিন ‘ইবাদাতিক।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আপনার প্রতি ভালোবাসাকে আমার কাছে সব কিছুর চেয়ে প্রিয় বানিয়ে দিন, এবং আপনার ভয়কে আমার কাছে সব ভয়ের চেয়ে প্রবল বানিয়ে দিন। আপনার সাক্ষাতের আকুলতা দিয়ে আমার দুনিয়াবি চাওয়া-পাওয়া ও চাহিদাকে দূর করে দিন। আর দুনিয়াদারদের চোখকে তাদের দুনিয়া পেয়ে যেভাবে শীতল করেছেন, আমার চোখকে আপনার ইবাদত দিয়ে তেমনি শীতল বানিয়ে দিন।

১৪.

দু‘আ-১২১

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ الصِّحَّةَ وَالْعِفَّةَ وَالْأَمَانَةَ وَحُسْنَ الْخُلُقِ، وَالرِّضٰى بِالْقَدْرِ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাস-স্বিহ্হাতা ওয়াল-‘ইফ্ফাতা ওয়াল-আমানাতা ওয়া হুসনাল-খুলুক্বি ওয়ার-রিদ্বা বিল-ক্বাদার।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, চারিত্রিক পবিত্রতা (সংযম), আমানতদারিতা, সৎ ও সুন্দর চরিত্র এবং তাকদীর বা ভাগ্যের সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক।

১৫.

দু‘আ-১২৫

اَللّٰهُمَّ الْطُفْ بِيْ فِيْ تَيْسِيْرِ كُلِّ عَسِيْرٍ، فَإِنَّ تَيْسِيْرَ كُلِّ عَسِيْرٍ عَلَيْكَ يَسِيْرٌ، وَأَسْأَلُكَ الْيُسْرَ وَالْمُعَافَاةَ فِيْ الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ، اَللّٰهُمَّ اعْفُ عَنِّيْ فَاِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيْمٌ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মালতুফ বী ফী তাইসীরি কুল্লি ‘আসীরিন, ফা-ইন্না তাইসীরা কুল্লি ‘আসীরিন ‘আলাইকা ইয়াসীরুন। ওয়া আসআলুকাল ইউসরা ওয়াল-মু‘আফাতা ফিদ-দুনইয়া ওয়াল-আ'খিরাহ। আল্লাহুম্মা‘ফু ‘আন্নী, ফা-ইন্নাকা ‘আফুউন কারীম।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! প্রতিটি কঠিন কাজ সহজ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন। নিশ্চয়ই প্রতিটি কঠিন কাজ সহজ করে দেওয়া আপনার জন্য সহজ। আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও মহান দাতা।

১৬.

দু‘আ-১২৮

اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ قُدْرَتِكَ، وَأَدْخِلْنِيْ فِيْ رَحْمَتِكَ، وَاقْضِ أَجَلِىْ فِيْ طَاعَتِكَ، وَاخْتِمْ لِيْ بِخَيْرِ عَمَلِيْ، وَاجْعَلْ ثَـوَابَهُ الْجَنَّةَ.
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ‘আ'ফিনী ফী কুদরাতিকা, ওয়া আদখিলনী ফী রহমাতিকা, ওয়াক্বদি আজালী ফী ত্বা‘আতিকা, ওয়াখতিম লী বিখাইরি ‘আমালী, ওয়াজ‘আল সাওয়াবাহুল জান্নাহ।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আপনার ক্ষমতাবলে আমাকে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন, আপনার রহমতের অন্তর্ভুক্ত করুন, আপনার আনুগত্যের মধ্যে আমার নির্ধারিত জীবনকাল পূর্ণ করুন, আমার জীবনের শেষ আমলকে উত্তম আমল বানিয়ে দিন এবং এর প্রতিদান জান্নাত নির্ধারণ করুন।

১৭.

সূরা আল লাইল ( আয়াত নং ১৪-১৬ )

{فَأَنْذَرْتُكُمْ نَارًا تَلَظَّى (14) لَا يَصْلَاهَا إِلَّا الْأَشْقَى (15) الَّذِي كَذَّبَ وَتَوَلَّى (16)} [الليل: 14 - 16]
উচ্চারণঃ

ফাআনযারতুকুম না-রান তালাজ্জা-। লা-ইয়াসলা-হাইল্লাল আশকা- আল্লাযী কাযযাবা ওয়া তাওয়াল্লা-।

অর্থঃ

আমি তোমাদেরকে লেলিহান অগ্নি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি। এতে প্রবেশ করবে সে-ই, যে নিতান্ত হতভাগ্য, যে অস্বীকার করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।

১৮.

সূরা আল ক্বারিয়াহ্‌ ( আয়াত নং ৮ - ১১ )

{وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ (8) فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ (9) وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ (10) نَارٌ حَامِيَةٌ (11)} [القارعة: 8 - 11]
উচ্চারণঃ

ওয়া আম্মা-মান খাফফাত মাওয়াঝীনুহূ ফাউম্মুহূহা-বিইয়াহ। ওয়ামাআদরা-কা মা-হিয়াহ। না-রুন হা-মিয়াহ।

অর্থঃ

এবং যার (ঈমানের) পাল্লা হালকা হবে (অর্থাৎ কাফির হবে) তার ঠিকানা হবে হাবিয়া। আপনি জানেন তা (অর্থাৎ হাবিয়া) কি? (সেটা) এক প্রজ্বলিত অগ্নি।

১৯.

সূরা আল হুমাযাহ ( আয়াত নং ৪ - ৯ )

کَلَّا لَیُنۡۢبَذَنَّ فِی الْحُطَمَۃِ ۫﴿ۖ۴﴾ وَ مَاۤ اَدْرٰىکَ مَا الْحُطَمَۃُ ؕ﴿۵﴾ نَارُ اللہِ الْمُوۡقَدَۃُ ۙ﴿۶﴾ الَّتِیۡ تَطَّلِعُ عَلَی الْاَفْـِٕدَۃِ ؕ﴿۷﴾ اِنَّہَا عَلَیۡہِمۡ مُّؤْصَدَۃٌ ۙ﴿۸﴾ فِیۡ عَمَدٍ مُّمَدَّدَۃٍ ٪﴿۹﴾
উচ্চারণঃ

কাল্লা-লাইউমবাযান্না ফিল হুতামাহ। ওয়ামাআদরা-কা মাল হুতামাহ। না-রুল্লা-হিল মূকাদাহ আল্লাতী তাত্তালি‘উ আলাল আফইদাহ। ইন্নাহা-‘আলাইহিম মু’সাদাহ ফী ‘আমাদিম মুমাদ্দাদাহ ।

অর্থঃ

সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে এমন অগ্নিতে যা সবকিছুকে পিষ্ট করে দেয়, সেটা আল্লাহর অগ্নি, যা (আল্লাহর আদেশে ) প্রজ্বলিত, (আল্লাহর অগ্নি, বলার মধ্যে ইঙ্গিত আছে যে, সেই অগ্নি অত্যন্ত কঠোর ও ভয়াবহ হবে) যা ( শরীরে লাগা মাত্রই ) হাড় পর্যন্ত পৌঁছবে। সেই অগ্নি- তাদের উপর আবদ্ধ করে দেওয়া হবে (এভাবে যে, তারা অগ্নির বড় লম্বা লম্বি স্তস্তে( পরিবেষ্টিত থাকৰে যেমন কাউকে অগ্নির সিন্দুকে পুরে দেওইয়া হয়।

২০.

মানযিল:

শাইখুল হাদীস যাকারিয়া রহ. এর পরিবারের একটি পরিক্ষিত আমল। বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি, যাদু-টোনা, জ্বীন-শয়তান ও মানুষের ক্ষতি থেকে হেফাজতে থাকার জন্য উপরোক্ত আয়াতগুলো পড়া খুবই কার্যকরী আমল। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত দৈনন্দিন অযিফার তালিকায় এই আমল অন্তর্ভুক্ত করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সমস্ত বিপদ-আপদ, বালা-মুসবত থেকে হেফাজত করেন, আমীন।