বিয়েতে পাত্রের দ্বীনদারী যাচাই ও সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার
প্রশ্নঃ ১৭৩৪৮০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সম্মানিত মুফতি সাহেব!
একজন পরিপূর্ণ মুমিন বান্দা হিসেবে বিয়ের সময় পাত্র দ্বীনদার ও পরহেজগার কি না, সে বিষয়ে কীভাবে খোঁজখবর নেব? সামনাসামনি যখন সাক্ষাৎ হবে বা দেখাদেখির সময় হবে, তখন কীভাবে প্রশ্ন করে তার সম্পর্কে জানতে পারব?
আর শরিয়তে তো এমন কোনো নিয়ম নেই যে, মেয়েপক্ষকে দাওয়াত খাওয়াতে হবে। আমি যদি দাওয়াত না খাইয়ে এমনিই বিয়ে করে ফেলি, তাহলে এ কারণে আত্মীয়স্বজন রাগ করলে বা কষ্ট পেলে কি আমার গুনাহ হবে না? হিরানি আমাদের প্রচলিত ভাষা। এ সময় আম, কাঁঠাল, পিঠাসহ বিভিন্ন কিছু ছেলের বাড়িতে দেওয়া হয়। আবার যখন সন্তান হয়, তখন মেয়ের বাড়ি থেকে মিষ্টি, কলা পাঠানো হয়। এগুলো কি শরিয়তে আছে?
আমি আমার বাবা-মাকে বলি, আমার কোনো চাহিদা নেই। ছেলে দ্বীনদার হলেই চলবে। নিজ দেশে থেকেই কোনো একটা কাজ করবে। কিন্তু তাঁরা বলেন, এখনকার যুগে সবকিছুই লাগে—টাকাপয়সা, ঘরবাড়ি ইত্যাদি। এ দেশে থেকে নাকি কিছু করতে পারবে না, বিদেশে থাকা লাগবে। কিন্তু আমার তো বিদেশি ছেলে চাই না। আমি এখন কীভাবে বাবা-মাকে বোঝাব? এত এত হাদিস শুনালাম, তবুও তাঁরা মানতে চান না।
বিষয়গুলোর শরয়ি সমাধান জানিয়ে উপকৃত করবেন।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত বোন,
আপনার কথার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে আপনি যে নিজের বিয়ের ক্ষেত্রে সম্পদ, বিদেশ, বাড়ি-গাড়ির চেয়ে একজন দ্বীনদার, পরহেজগার ও দায়িত্বশীল জীবনসঙ্গীকে প্রাধান্য দিতে চান, এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় মানসিকতা। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে যথোপযুক্ত পাত্রের আদর্শ স্ত্রী হিসেবে কবুল করুন। আমিন।
একটি বিষয় মনে রাখবেন, দ্বীনদার পাত্র নির্বাচন করার অর্থ এই নয় যে, তার আর্থিক সামর্থ্য, দায়িত্বশীলতা, চরিত্র ও পারিবারিক পরিবেশ যাচাই করার প্রয়োজন নেই। বরং একজন ভালো জীবনসঙ্গীর মধ্যে দ্বীনদারি ও দায়িত্বশীলতা দুটোই থাকা জরুরি। যদি কারো মাঝে শুধু বাহ্যিক দ্বীনদারী থাকে কিন্তু তার মধ্যে দায়িত্ববোধ, অধিকার প্রদানের সচেতনতা না থাকে তাহলে সে প্রকৃত দ্বীনদার নয়।
আপনার প্রশ্নগুলো ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করছি।
এক. বিয়ের জন্য পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশনা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ، إِلَّا تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ
অর্থ: তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব দিলে, যার দ্বীনদারি ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তাহলে তার সঙ্গে বিয়ে দাও। যদি তা না করো, তাহলে পৃথিবীতে ফিতনা ও ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। —জামে তিরমিজি, হাদিস ১০৮৪।
আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا، وَلِحَسَبِهَا، وَلِجَمَالِهَا، وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ
অর্থ: সাধারণত চারটি কারণে নারীকে বিয়ে করা হয়—তার সম্পদ, বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারির কারণে। সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকে প্রাধান্য দাও। —সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০৯০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪৬৬।
এখানে প্রথম হাদিসটি পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। সুতরাং আপনার বাবা-মাকে বোঝাবেন: বিদেশে থাকা বা অনেক সম্পদের মালিক হওয়া বিয়ের জন্য শরিয়তের আবশ্যক শর্ত নয়। একজন ব্যক্তি নিজ দেশে থেকেও হালাল উপার্জন করে স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
দুই. পাত্র দ্বীনদার কি না, কীভাবে যাচাই করবেন?
শুধু পাত্রের মুখের কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন না। কারণ সকলেই কিংবা অনেকেই নিজের সম্পর্কে ভালো বলেন। বিশেষত বিবাহের ক্ষেত্রে সকলেই নিজেকে ‘মর্ত্যের ফিরিশতা’ পরিচয় দেয়। তাই তার কথায় সন্তুষ্ট না থেকে বাস্তবে তার সম্পর্কে খোঁজ নিন।
তার বিষয়ে জানুন —
নামাজ ও ইবাদত সম্পর্কে খোঁজ নিন
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করেন কি না?
ফজরের নামাজের ব্যাপারে কতটা যত্নবান?
কুরআন তিলাওয়াত করেন কি না?
হালাল-হারাম মেনে চলার চেষ্টা করেন কি না?
দ্বীনি পরিবেশে চলাফেরা করেন কি না?
চরিত্র সম্পর্কে খোঁজ নিন —
রাগ হলে কেমন আচরণ করেন?
বাবা-মায়ের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার কেমন?
বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী, অধিনস্তদের সাথে তার সম্পর্ক কেমন?
মানুষের হক আদায়ে সচেতন কি না?
মিথ্যা, গিবত, পরনিন্দা ও অহংকার থেকে বেঁচে থাকেন কি না?
বড় ধরণের কোনো অপরাধ, বা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত কি না?
উপার্জন ও দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে খোঁজ নিন—
কী কাজ করেন এবং উপার্জন হালাল কি না?
নিজের খরচ ও পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম কি না?
কোনো ঋণ বা আর্থিক দায় আছে কি না?
ভবিষ্যৎ সংসার সম্পর্কে তাঁর পরিকল্পনা কী?
বিশেষ করে পাত্রের বন্ধু, সহকর্মী, প্রতিবেশী ও মসজিদের পরিচিত ইমামের কাছ থেকে খোঁজ নিতে পারেন। তবে কারও গোপন দোষ অনুসন্ধান করবেন না; বিয়ের সিদ্ধান্তের জন্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো জানবেন।
তিন. দেখাদেখির সময় পাত্রকে কী কী প্রশ্ন করবেন?
বিয়ের আগে পাত্রকে শরিয়তসম্মতভাবে দেখে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কথা বলার সুযোগ রয়েছে। তবে নির্জনে একান্তে বসা যাবে না; মাহরাম বা অভিভাবকের উপস্থিতিতে কথা বলবেন। আপনি/অপনার অভিভাবক নিচের প্রশ্নগুলো করতে পারেন।
দ্বীনদারি সম্পর্কে—
আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করেন?
দ্বীনি ইলম অর্জনের ব্যাপারে আপনার আগ্রহ কেমন?
ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে দ্বীন পালনে কীভাবে সহযোগিতা করবেন?
সংসারে শরিয়তের বিধান মেনে চলার ব্যাপারে আপনার মনোভাব কী?
সংসার ও দায়িত্ব সম্পর্কে—
স্ত্রীকে পর্দা ও দ্বীনি পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করবেন?
সংসারের সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে গ্রহণ করতে চান?
অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কে—
বর্তমানে আপনার পেশা কী?
মাসিক আয় দিয়ে সংসার চালানোর পরিকল্পনা কী?
বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে কোথায় থাকবেন?
স্ত্রী পড়াশোনা করতে চাইলে বা দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করতে চাইলে আপনার মতামত কী?
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে—
আপনি দেশে থাকতে চান, নাকি বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা আছে?
ভবিষ্যতে সন্তানদের কীভাবে দ্বীনি শিক্ষা দিতে চান?
আপনার জীবনের প্রধান লক্ষ্য কী?
জ্ঞাতব্য: একটি কথা মনে রাখবেন, উপরিউক্ত প্রশ্নগুলো কেবলই নমুনা মাত্র। যদি মনে করেন কোনো মানুষ বাস্তবেই যোগ্য তাহলে তার ক্ষেত্রে এসব প্রশ্ন করা অবান্তর বৈকি? আবার অযোগ্য পাত্রের উত্তর শুনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না। তাঁর বাস্তব জীবন ও আচরণের সঙ্গে উত্তরগুলো মিলিয়ে দেখবেন।
চার. বিয়েতে মেয়েপক্ষের দাওয়াত খাওয়ানো কি শরিয়তের বিধান?
আপনার ধারণা সঠিক। মেয়েপক্ষের পক্ষ থেকে বিয়েতে মানুষকে দাওয়াত খাওয়ানো শরিয়তের কোনো আবশ্যক বিধান নয়। বিয়ের ওয়ালিমা বরপক্ষের পক্ষ থেকে আয়োজন করা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ ﷺ হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা.-কে বলেছিলেন: أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ অর্থ, তুমি ওয়ালিমার আয়োজন করো, যদিও তা একটি বকরি দিয়ে হয়।—সহিহ বুখারি, হাদিস ৫১৬৭।
অতএব, মেয়ের বাবা-মাকে অবশ্যই মানুষকে খাওয়াতে হবে, এমন কোনো শরয়ী বিধান নেই।
বিস্তারিত দেখুন:https://muslimbangla.com/masail/163299
কাজেই অপনার পরিবার যদি কোনো দাওয়াতের আয়োজন না করেন, শুধু এ কারণে আপনার গুনাহ হবে না। তবে আত্মীয়স্বজনকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বা অহংকারবশত সম্পর্ক নষ্ট করা উচিত নয়। সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলবেন যে, আপনারা শরিয়তসম্মতভাবে বিয়ে সম্পন্ন করতে চান।
পাঁচ. হিরানি, আম-কাঁঠাল, পিঠা ও সন্তান জন্মের পর মিষ্টি পাঠানো কি শরিয়তে আছে?
এগুলো সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার। শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি নাই। এই উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থানের কারণে মিক্সড কালচারের ফলে মুসলিমদের মাঝেও ভিন্নধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন প্রথা চলে এসেছে। কাজেই যেসকল বিষয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং ইমান আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক; সেসকল বিষয়ে সতর্কতা কাম্য।
ছয়. বাবা-মাকে কীভাবে বোঝাবেন?
আপনার বাবা-মায়ের চিন্তাটিও জাগতিক দৃষ্টিতে হয়তো পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়। তাঁরা চান, মেয়ের বিয়ের পর যেন কোনো অভাব-অনটন না হয়, স্বামী যেন ভালোভাবে ভরণপোষণ করতে পারেন। কিন্তু তাঁদের বুঝতে হবে যে, বিদেশে থাকা আর ভালো স্বামী হওয়া এক বিষয় নয়। আবার দেশে থাকা মানেই আর্থিকভাবে অক্ষম হওয়া নয়।
প্রসঙ্গ কথা:
প্রসঙ্গক্রমে এখানে একটি কথা বলে রাখা ভালো, আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধা/প্রবাসী ভাইয়েরা যেভাবে নিজেদের স্ত্রী-সন্তান, পিতা-মাতা, পরিবার ছেড়ে প্রবাস জীবন কাটান; –এর ফলে দেশের অর্থনীতির চাকা এখনো স্বচল রয়েছে এটা ঠিক কিন্তু এটা কোনো জীবন নয়; বরং এটা মানব সমাজে থেকেই মানবেতর জীবন যাপন। যা কিছুতেই উচিত নয়। হ্যাঁ, যদি কেউ প্রবাসেও স্ত্রী সন্তানসহ বসবাস করতে পারেন তাহলে সেটা প্রসংশনীয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ ۚ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ
অর্থ: তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ে সম্পন্ন করো এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ, তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন।—সূরা আন-নূর, ২৪:৩২।
আয়াতের অর্থ এই নয় যে, উপার্জনের ব্যবস্থা ছাড়াই বিয়ে করতে হবে। বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে।
আপনি বাবা-মাকে এভাবে বলতে পারেন:
‘‘আব্বু-আম্মু, আমি আপনাদের অবাধ্য হতে চাই না। আমি চাই, আপনারা আমার জন্য এমন একজন জীবনসঙ্গী নির্বাচন করুন, যার সঙ্গে দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন সুন্দরভাবে কাটাতে পারব।
আমার কাছে বিদেশে থাকা, অনেক টাকা-পয়সা, বড় বাড়ি কিংবা গাড়ির চেয়ে একজন নামাজি, দ্বীনদার, পরহেজগার ও উত্তম চরিত্রের মানুষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আমি চাই, আমার স্বামী হালাল উপার্জন করবেন, আমার ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করবেন, আমাকে পর্দা ও দ্বীন পালনে সহযোগিতা করবেন এবং আমাদের সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় গড়ে তুলবেন।
তিনি বাংলাদেশে থেকেই যদি হালাল উপার্জন করে সুন্দরভাবে সংসার পরিচালনা করতে পারেন, তাহলে শুধু বিদেশে থাকেন না বলে তাঁকে অপছন্দ করার কোনো কারণ দেখি না।
আমি বিলাসবহুল জীবন চাই না। আমি এমন একটি সংসার চাই, যেখানে আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকবে, ভালোবাসা থাকবে, পারস্পরিক সম্মান থাকবে এবং দ্বীনের ওপর চলার পরিবেশ থাকবে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন এবং পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বীনদারি ও চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেবেন।
বাবা-মায়ের সঙ্গে কখনো রূঢ় আচরণ করবেন না। তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। পাত্র নির্বাচনের পর ইস্তিখারা করবেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত মানুষের পরামর্শ নেবেন।
একটি দোয়া নিয়মিত করতে পারেন:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন। —সূরা আল-ফুরকান, ২৫:৭৪।
প্রিয় বোন!
আপনার চাওয়া যে একজন দ্বীনদার স্বামী, যিনি আপনাকে নিয়ে হালাল ও শান্তিপূর্ণ সংসার গড়বেন—এটি একটি সুন্দর চাওয়া। তবে দুনিয়ার প্রয়োজনকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করবেন না। দ্বীনদারি, উত্তম চরিত্র, হালাল রিজিক এবং দায়িত্ব পালনের সামর্থ্য—এই চারটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করবেন। আল্লাহ আপনাকে এমন একজন নেককার জীবনসঙ্গী দান করুন, যিনি আপনার দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের কারণ হবেন। আমিন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন