বিনিয়োগের নামে নির্ধারিত লাভ গ্রহণের বিধান
প্রশ্নঃ ১৭৩৫৪৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম
প্রশ্ন: কোন ব্যবসায়ীর ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করা এই শর্তে যে, তিনি পাঞ্জাবী উৎপাদন করবেন এবং সেই পাঞ্জাবী নিজেই দাম ধরে কিনে নেবেন এবং পাঞ্জাবী প্রতি ১৭ টাকা হিসাবে প্রতি মাসে লাভ দেবেন । যেমন, আমি ১ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করলাম । এই টাকা দিয়ে প্রতি মাসে ১০০ পাঞ্জাবি উৎপাদন করে উৎপাদনকারী (যার ব্যবসায় ইনভেস্ট করা হয়েছে) নিজেই পাঞ্জাবিগুলো দাম ধরে কিনে নিবে এবং পাঞ্জাবি প্রতি ১৭ টাকা লাভ হিসাব করে ১০০ পাঞ্জাবি থেকে ১৭০০/ টাকা প্রতি মাসে লাভ দিতে থাকবে। এইভাবে টাকা ইনভেস্ট করলে বৈধ হবে কিনা বা সুদ হবে কিনা?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, বিনিয়োগকারী এক লক্ষ টাকা প্রদান করছেন এবং এর বিনিময়ে প্রতি মাসে ১০০টি পাঞ্জাবীর হিসাবে ১,৭০০ টাকা নির্ধারিত লাভ গ্রহণ করছেন। বাহ্যিকভাবে এটিকে পাঞ্জাবী উৎপাদন ও ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা বলা হলেও বাস্তবে বিনিয়োগের নামে নির্দিষ্ট অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
শরিয়তের দৃষ্টিতে মুদারাবা বা অংশীদারি ব্যবসায় মূলধনের নির্দিষ্ট অঙ্ক বা নির্দিষ্ট হারে লাভ নিশ্চিত করা বৈধ নয়। বরং ব্যবসায় প্রকৃতপক্ষে যে লাভ হবে, তা থেকে পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে লাভ বণ্টন করতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক ঝুঁকিও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বহন করতে হবে।
আর যদি এটিকে পাঞ্জাবী উৎপাদনের আগাম ক্রয়-বিক্রয় তথা বাইয়ে সালাম বা ইস্তিসনা‘ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাহলে সে চুক্তির শর্তগুলো যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। বিশেষত পণ্য উৎপাদন ও হস্তগত হওয়ার আগে তা পুনরায় বিক্রি করার শর্ত করা বৈধ নয়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لَا تَبِعْ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ
“তুমি এমন বস্তু বিক্রি করবে না, যা তোমার কাছে নেই।”
-জামে তিরমিযী, হাদীস ১২৩২; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৫০৩
অন্য হাদীসে এসেছে,
مَنِ ابْتَاعَ طَعَامًا فَلَا يَبِعْهُ حَتَّى يَقْبِضَهُ
“যে ব্যক্তি কোনো পণ্য ক্রয় করবে, সে তা হস্তগত করার আগে বিক্রি করবে না।”
-সহীহ বুখারী, হাদীস ২১৩৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫২৫
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী টাকা প্রদান করছেন, কিন্তু পাঞ্জাবী উৎপাদন ও নিজের অধিকারে নেওয়ার আগেই উৎপাদনকারীর কাছে তা পুনরায় বিক্রি করার শর্ত করছেন। ফলে প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয়ের পরিবর্তে টাকা দিয়ে নির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। অথচ পণ্য নিজের মালিকানায় ও হস্তগত হওয়ার আগে তা পুনরায় বিক্রি করা বৈধ নয়।
অতএব, প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা এবং নির্ধারিত লাভ গ্রহণ করা শরিয়তসম্মত নয়।
বৈধভাবে বিনিয়োগ করতে চাইলে প্রকৃত মুদারাবা বা অংশীদারি চুক্তি করতে হবে। এতে লাভ প্রকৃত লাভের নির্ধারিত শতাংশ হিসেবে বণ্টিত হবে; মূলধনের নির্দিষ্ট হারে লাভ নিশ্চিত করা যাবে না। আর পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে চাইলে তা বিনিয়োগ চুক্তি থেকে পৃথকভাবে এবং শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।
** البحر الرائق شرح كنز الدقائق » (6/ 179):
«قوله (ولا يصح التصرف في رأس المال والمسلم فيه قبل القبض بشركة أو تولية) لأن المسلم فيه مبيع والتصرف في المبيع المنقول قبل القبض لا يجوز»
** حاشية ابن عابدين = رد المحتار » (5/ 218):
«(ولا يجوز التصرف) للمسلم إليه (في رأس المال و) لا لرب السلم في (المسلم فيه قبل قبضه بنحو بيع وشركة) ومرابحة (وتولية)»
«(قوله قبل قبضه) أي قبض ما ذكر من رأس المال والمسلم فيه، أما الأول فلما فيه من تفويت حق الشرع، وهو القبض المستحق شرعا قبل الافتراق، وأما الثاني فلأنه بيع منقول، وقد مر أن التصرف فيه قبل القبض لا يجوز نهر»
**«مجلة الأحكام العدلية» (ص52):
«(الْمَادَّةُ 353) لِلْمُشْتَرِي أَنْ يَبِيعَ الْمَبِيعَ لِآخَرَ قَبْلَ قَبْضِهِ إنْ كَانَ عَقَارًا وَإِلَّا فَلَا»
** «درر الحكام في شرح مجلة الأحكام» (1/ 237):
«وَقَدْ ذُكِرَ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ لِلْمُشْتَرِي أَنْ يَبِيعَ الْمَنْقُولَ قَبْلَ الْقَبْضِ فَحِينَئِذٍ إذَا بَاعَ فَالْبَيْعُ فَاسِدٌ وَالْمَسَائِلُ الْمُتَفَرِّعَةُ عَلَى ذَلِكَ هِيَ:»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন