আল্লা–হুম্মা ইন্নি আসআলুকাস্ সাবা–তা ফিল আমরি, ওয়া আসআলুকা আযীমাতার্ রুশ্দি, ওয়া আসআলুকা শুকরা নি‘মাতিকা ওয়া হু্সনা ইবাদাতিকা, ওয়া আসআলুকা লিসানান ছাদিকান ওয়া ক্বালবান সালীমান, ওয়া খুলুকান মুস্তাকীমান, ওয়া আসআলুকা মিন খাইরি মা তা‘লামু, ওয়া আসতাগফিরুকা মিম্মা তা‘লামু, ইন্নাকা আনতা আল্লামুল গুয়ুব।
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি দীনের বিষয়ে অবিচলতা এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি উন্নত যোগ্যতা এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি আপনার নেয়ামতের শোকরগোজারি ও বন্দেগীর সৌন্দর্য এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি সত্যবাদী জিহ্বা, সুস্থ হৃদয় আর সুদৃঢ় চরিত্র। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি কল্যাণ, যা আপনি জানেন এবং ক্ষমা চাই ঐ সকল গুনাহ থেকে, যে সম্পর্কে আপনি অবগত। সকল অদৃশ্য বিষয় তো আপনার জানা। (সুতরাং ঐ সকল গুনাহ সম্পর্কেও আপনি অবগত, যা কোনো সৃষ্টির জানা নেই)।৫৯
ইয়া আল্লাহ! আমাকে আপনার ভালোবাসা দান করুন এবং যার ভালোবাসা আপনার কাছে আমার জন্য উপকারী হয়, তার ভালবাসাও দান করুন। আপনি যখন আমাকে আমার প্রিয় বস্তু দান করেছেন, তখন একে আমার জন্য সহায়ক করুন আপনার প্রিয় কাজে। (অর্থাৎ আমার প্রিয় ও কাম্য যা কিছু আমি লাভ করেছি, তা আপনার পছন্দের বিষয়টি অর্জনের উপায় বানিয়ে দিন।) হে আল্লাহ! আমার যেসব কাম্য বস্তু আমার থেকে দূরে রেখেছেন, সেগুলো (থেকে দূরে থাকা) আমার জন্য ঐসব বিষয়ে মশগুল হওয়ার অবকাশ বানিয়ে দিন, যা আপনার কাছে প্রিয়।৬৭ (অর্থাৎ স্বভাবগতভাবে যা কিছু আমার প্রিয়, তা থেকে যখন আপনি নিজ প্রজ্ঞায় আমাকে দূরে রাখবেন, তখন এই প্রতিক্রিয়া আমার মাঝে সৃষ্টি করুন যে, আমি শুধু এসবের স্থলে আপনার প্রিয় বিষয়গুলোকেই ভালোবাসতে শুরু করি।)
ইয়া আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে চাই আপনার মাগফিরাতের উপায়সমূহ ও নাজাতদানকারী আমলসমূহ এবং (আপনার কাছে চাই) সকল গুনাহ থেকে মুক্তি ও সকল ভালো কাজের তাওফীক; আর (প্রার্থনা করি) বেহেশতে যাওয়া ও দোযখ থেকে নাজাত পাওয়া।৪৫
ইয়া আল্লাহ! আমার দ্বীনদারী দুরস্ত করে দিন, যা আমার সকল বিষয়ের রক্ষাকবচ। আমার দুনিয়া দুরস্ত করে দিন, যাতে আমার অবস্থান এবং আমার আখিরাত দুরস্ত করে দিন, যাতে আমার প্রত্যাবর্তন। আর আমার জীবন যেন হয় সকল কল্যাণে অগ্রসরতা আর আমার মৃত্যু যেন হয় সকল অকল্যাণ থেকে মুক্তি।৫৩
আল্লাহুম্মা হাব্বিব ইলাইনাল ঈমান, ওয়া ঝাইয়িনহূ ফী কুলূবিনা, ওয়া কাররিহ ইলাইনাল কুফরা ওয়ালফুছূকা ওয়াল ‘ইসইয়া-ন, ওয়াজ‘আলনা মিনার রাশিদীন।
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে ঈমানের ভালোবাসা সঞ্চার করুন এবং আমাদের অন্তরে তা (ঈমান) আকর্ষণীয় করুন। আর কুফর, গুনাহ ও অবাধ্যতাকে আমাদের অন্তরে ঘৃণ্য বানিয়ে দিন এবং আমাদেরকে সঠিক পথপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত করুন।
ইয়া আল্লাহ! বরফ ও শিলার পানি দ্বারা আমার গুনাহসমূহ ধুয়ে দিন এবং আমার অন্তরকে গুনাহ থেকে এমন পরিষ্কার করুন, যেমন সাদা কাপড়ের ময়লা পরিষ্কার করা হয় আর আমার ও আমার গুনাহসমূহের মাঝে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করুন যেমন দূরত্ব আপনি সৃষ্টি করেছেন পূর্ব-পশ্চিমের মাঝে।৪২
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি অক্ষমতা ও আলস্য থেকে, ভীরুতা ও অতিবার্ধক্য থেকে এবং ঋণ ও পাপ থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) দোযখের আযাব ও দোযখের ফিতনা থেকে (আশ্রয় নিচ্ছি) কবরের ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) সম্পদের কুফল ও সম্পদহীনতার অনিষ্ট থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে ও জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) অন্তরের কাঠিন্য ও উদাসীনতা থেকে; নিঃস্বতা, অপদস্থতা ও মুখাপেক্ষিতা থেকে; কুফরী, ফাসেকী ও জেদাজেদি থেকে আর লোকদেখানো ও লোকশোনানোর প্রবণতা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) বধিরতা ও মূকতা থেকে, মস্তিষ্ক বিকলন, কুষ্ঠ, খারাপ রোগ-ব্যাধি ও ঋণের বোঝা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) দুঃখ-দুশ্চিন্তা থেকে, কৃপণতা ও লোকের কর্তৃত্বপরায়ণতা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) অতি বার্ধক্যে উপনীত হওয়া ও দুনিয়ার ফিতনা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) ঐ জ্ঞান থেকে, যার উপকার নেই, ঐ মন থেকে, যাতে তুষ্টি নেই, ঐ অন্তর থেকে, যাতে বিনয়-নম্রতা নেই; আর ঐ দু‘আ থেকে, যা কবুল হয় না।৫৫
আইয়াওয়াদ্দুআহাদুকুম আন তাকূনা লাহু জান্নাতুম মিন নাখীলিওঁ ওয়া আ‘না-বিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু লাহু ফীহা-মিন কুল্লিছছামারা-তি ওয়া আসা-বাহুল কিবারু ওয়ালাহু যুররিইইয়াতুন দু‘আফাউ ফাআসা-বাহা ই‘সা-রুন ফীহি না-রুন ফাহতারাকাত কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়া-তি ল‘আল্লাকুম তাতাফাক্কারূন।
তোমাদের মধ্যে কেউ কি এটা পছন্দ করবে যে, তার খেজুর ও আঙ্গুরের একটা বাগান থাকবে, যার পাদদেশ দিয়ে নদী-নালা প্রবাহিত থাকবে (এবং) তা থেকে আরও বিভিন্ন রকমের ফল তার অর্জিত হবে, অতঃপর সে বার্ধক্য-কবলিত হবে আর তার থাকবে দুর্বল সন্তান-সন্ততি, এ অবস্থায় অকস্মাৎ এক অগ্নিক্ষরা ঝড় এসে সে বাগানে আঘাত হানবে, ফলে গোটা বাগান ভস্মিভূত হয়ে যাবে? ২০৪ এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় আয়াতসমূহ পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা কর।
লাকাদ ছামি‘আল্লা-হু কাওলাল্লাযীনা কালূইন্নাল্লা-হা ফাকীরুওঁ ওয়ানাহনু আগনিয়াউ । ছানাকতুবুমা-কা-লূওয়া কাতলাহুমুল আম্বিয়াআ বিগাইরি হাক্কিওঁ ওয়া নাকূলুযূকূ‘আযা-বাল হারীক।
যারা বলে, ‘আল্লাহ্ অবশ্যই অভাবগ্রস্ত আর আমরা অভাবমুক্ত’, তাদের কথা আল্লাহ্ শুনেছেন। তারা যা বলেছে তা আর নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার বিষয় আমি লিখে রাখব এবং বলিব, ‘তোমরা দহন-যন্ত্রণা ভোগ কর।’
ওয়া তারাল মুজরিমীনা ইয়াওমাইযিম মুকাররানীনা ফিল আসফা-দ । ছারা-বীলুহুম মিন কাতিরা-নিওঁ ওয়া তাগশা-উজূহাহুমুন্না-র।
সেই দিন তুমি অপরাধীদেরকে দেখবে শৃংখলিত অবস্থায়, তাদের জামা হবে দাহ্য আলকাতরার এবং তাদের মুখমন্ডলকে আগুন আচ্ছন্ন করে ফেলবে।
কা-লা ফাযহাব ফাইন্না লাকা ফিল হায়া-তি আন তাকূলা লা-মিছা-ছা ওয়া ইন্নালাকা মাও‘ইদাল লান তুখলাফাহূও ওয়ানজুর ইলাইলা-হিকাল্লাযী জালতা ‘আলাইহি আ-কিফাল লানুহাররিকান্নাহূছু ম্মা লানানছিফান্নাহূফিল ইয়াম্মি নাছফা-।
মূসা বললেনঃ দূর হ, তোর জন্য সারা জীবন এ শাস্তিই রইল যে, তুই বলবি; আমাকে স্পর্শ করো না, এবং তোর জন্য একটি নির্দিষ্ট ওয়াদা আছে, যার ব্যতিক্রম হবে না। তুই তোর সেই ইলাহের প্রতি লক্ষ্য কর, যাকে তুই ঘিরে থাকতি। আমরা সেটি জালিয়ে দেবই। অতঃপর একে বিক্ষিপ্ত করে সাগরে ছড়িয়ে দেবই।
কুল্লুনাফছিন যা-ইকাতুল মাওতি ওয়া নাবলূকুম বিশশাররি ওয়াল খাইরি ফিতনাতাও ওয়া ইলাইনা-তুর জা‘ঊন ।
জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে; আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দিয়ে বিশেষভাবে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই নিকট তোমরা প্রত্যানীত হবে।
হা-যা-নি খাছমা-নিখ তাছামূ ফী রাব্বিহিম ফাল্লাযীনা কাফারূ কুত্তি‘আত লাহুম ছিয়া-বুম মিন্না-রিইঁ ইউসাব্বু মিন ফাওকি রুঊছিহিমুল হামীম। ইউসহারু বিহী মা-ফী বুতূনিহিম ওয়াল জুলূদ। ওয়া লাহুম মাকা-মি‘উ মিন হাদীদ। কুল্লামা আরা-দূ আইঁ ইয়াখরুজুমিনহা-মিন গাম্বিন উ‘ঈদূফীহা- ওয়া যূকূ‘আযাবাল হারীক।
এরা দুইটি বিবদমান পক্ষ, তারা তাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে ; যারা কুফরী করে তাদের জন্যে প্রস্তুত করা হয়েছে আগুনের পোশাক, তাদের মাথার ওপর ঢালিয়া দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি, যা দিয়ে এদের উদরে যা আছে তা এবং এদের চর্ম বিগলিত করা হবে। এবং এদের জন্যে থাকবে লৌহমুদগর। যখনই এরা যন্ত্রণাকাতর হয়ে জাহান্নাম হতে বের হতে চাইবে তখনই তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এতে; এদেরকে বলা হবে, ‘আস্বাদন কর দহন-যন্ত্রণা।’
ওয়া হিফজাম মিন কুল্লি শাইতা-নিম মা-রিদ। লা ইয়াছছাম্মা‘ঊনা ইলাল মালাইল আ‘লা-ওয়া ইউকযাফূনা মিন কুল্লি জা-নিব। দুহূ রাও ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন ওয়া-সিব। ইল্লা-মান খাতিফাল খাতফাতা ফাআতবা‘আহূ শিহা-বুন ছাকিব।
এবং রক্ষা করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান হতে। ফলে এরা ঊর্ধ্ব জগতের কিছু শোনে করতে পারে না এবং এদের প্রতি নিক্ষিপ্ত হয় সকল দিক হতে- বিতাড়নের জন্যে এবং এদের জন্যে আছে অবিরাম শাস্তি। তবে কেউ হঠাৎ কিছু শুনে ফেলিলে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
ইন্না শাজারাতাঝঝাক্কূম। তা‘আ-মুল আছীম। কালমুহলি ইয়াগলী ফিলবুতূন। কাগালইল হামীম। খুযূহু ফা‘তিলূহু ইলা-ছাওয়াইল জাহীম। ছু ম্মা সুববূফাওকা রা’ছিহী মিন ‘আযা-বিল হামীম। যুক ইন্নাকা আনতাল ‘আঝীঝুল কারীম। ইন্না হা-যা-মা-কুনতুম বিহী তামতারূন।
নিশ্চয় যাক্কুম বৃক্ষ (সূরা ছাফফাতে এসম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে) বড় পাপীর (অর্থাৎ কাফিরের) খাদ্য হবে, যা ( দৃষ্টিকটু হওয়ার ব্যাপারে) তেলের তলানির মত হবে এবং ফুটন্ত পানির মত ফুটতে থাকবে। ফেরেশতাগণকে ( আদেশ করা হবে) একে ধর এবং টেনে জাহান্নামের মধ্যস্থলে নিয়ে যাও, অতপর এর মস্তকের উপরে যন্ত্রণাদায়ক ফুটন্ত পানি ঢল। (তাকে ঠাট্টাচ্ছলে বলা হবে এবার) স্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো বড় সম্মানিত, সম্ভ্রান্ত। (এটা তোমার সম্মান, যেমন তুমি দুনিয়াতে নিজেকে সম্মানিত ও সম্ভ্রান্ত মনে করে আমার আদেশ পালনে লজ্জা বোধ করতে। জাহান্নামীদেরকে বলা হবে.) এ সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ পোষণ (ও অস্বীকার করতে।
দু'আর বিষয়সমূহ
38টি বিষয় পাওয়া গেছে