ইয়া আল্লাহ! কৃতজ্ঞতা প্রশংসা আপনারই প্রাপ্য। আর আপনারই দান খাঁটি দয়ার দান।১১৯ ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছে তাওফীক চাই ঐসব আমলের, যা আপনার প্রিয় এবং তাওফীক চাই আপনার উপর সত্য ভরসা করার ও আপনার প্রতি সুধারণা পোষণ করার।
বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন। আররাহমা-নির রাহীম। মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন। ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম। সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম । গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন।
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (১) সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই, (২) যিনি দয়াময়, পরম দয়ালু, (৩) কর্মফল দিবসের মালিক। (৪) আমরা শুধু তোমারই ‘ইবাদত করি, শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি, (৫) আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর, (৬) তাদের পথ, যাদেরকে তুমি অনুগ্রহ দান করেছ, (৭) তাদের পথ নয় যারা ক্রোধ-নিপতিত ও পথভ্রষ্ট।
বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। (১) আলিফ লাম মীম। (২) যা-লিকাল কিতা-বু লা-রাইবা ফীহি হুদাল লিলমুত্তাকীন। (৩) আল্লাযীনা ইউ’মিনূনা বিলগাইবি ওয়াইউকীমূনাসসালা-তা ওয়া মিম্মা-রাঝাকনা-হুম ইউনফিকূ ন। (৪) ওয়াল্লাযীনা ইউ’মিনূনা বিমা উনঝিলা ইলাইকা ওয়ামা উনঝিলা মিন কাবলিকা ওয়াবিল আ-খিরাতি হুম ইউকিনূন। (৫) উলা ইকা ‘আলা-হুদাম মির রাব্বিহিম ওয়া উলাইকা হুমুল মুফলিহূন।
(১) আলিফ্-লাম-মীম, (২) এই সে কিতাব; এতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্যে এটা পথ-নির্দেশ, (৩) যারা অদৃশ্যে ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে ও তাদেরকে যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা হতে ব্যয় করে, (৪) এবং তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা নাযিল হয়েছে তাতে যারা ঈমান আনে ও আখিরাতে যারা নিশ্চিত বিশ্বাসী, (৫) তারাই তাদের প্রতিপালক-নির্দেশিত পথে আছে এবং তারাই সফলকাম।
আলহামদু লিল্লা হিল্লাযী আত্ব ‘আমানী হাযাত ত্ব‘আামা ওয়া রযাক্বনীহি মিন গইরি হাওলিম মিন্নী ওয়ালা কুউওয়াহ।
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ পাকের জন্য, যিনি আমাকে এই খানা খাওয়ালেন এবং আমার শক্তি ও সামর্থ ব্যতীতই এটা আমাকে দান করলেন।
আল্লা-হুম্মা বা-রিক লাহুম ফীমা রাযাক্তাহুম ওয়াগফির লাহুম ওয়ারহামহুম
হে আল্লাহ! আপনি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছেন তাতে তাদের জন্য বরকত দিন এবং তাদের গুনাহ মাফ করুন, আর তাদের প্রতি দয়া করুন।
আ‘ঊযু বিকালিমা তিল্লা হিত তা ম্মাতি মিন কুল্লি শাইত্বা নিউ ওয়া হা ম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি ‘আইনীন লাম্মাতিন।
সকল শয়তান, কীটপতঙ্গ ও বদ নযর থেকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাচ্ছি।
ইয়া আল্লাহ! এই দিবসের প্রথম অংশ আমার জন্য ‘পুণ্যময়’ করুন। মাঝের অংশ ‘সফল’ ও শেষের অংশ ‘সার্থক’ করুন। হে সকল দয়ালুর বড় দয়ালু! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি দুনিয়া-আখিরাত (উভয়ের) কল্যাণ।৯৬
ইয়া আল্লাহ! আমার অন্তরের কানসমূহ খুলে দিন আপনার যিকির (উপদেশ) শোনার জন্য আর আমাকে দান করুন আপনার ফরমাবরদারী, আপনার রাসূলের ফরমাবরদারী ও আপনার কিতাবের উপর আমলের তাওফীক।
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি কুচক্রী বন্ধু থেকে, যার চোখ আমাকে দেখে আর অন্তর বিমুখ থাকে। গুণ দেখলে তা সমাহিত করে আর দোষ দেখলে প্রচার করে।২০৮ আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি ইবলীস ও তার বাহিনী থেকে । ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি চরম দারিদ্র্য ও অতি মুখাপেক্ষিতা থেকে।২০৯ ইয়া আল্লাহ! আমি আশ্রয় নিচ্ছি নারীদের ফিতনা থেকে।২১০ ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি কিয়ামতের দিন আমার দিক থেকে আপনার মুখ ফিরিয়ে নেয়া হতে। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি লাঞ্ছনাকারী কর্ম থেকে। আপনার কাছে আশ্রয় নিচ্ছি কষ্ট দানকারী সঙ্গী থেকে। আপনার কাছে আশ্রয় নিচ্ছি গাফিলকারী দীর্ঘ আশা হতে, আপনার আশ্রয় নিচ্ছি বিহ্বলকারী দারিদ্র্য থেকে। আপনার আশ্রয় নিচ্ছি উদ্ধতকারী ধনাঢ্যতা থেকে।২১১ ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তার মৃত্যু থেকে। আপনার আশ্রয় নিচ্ছি মনস্তাপের মরণ থেকে।২১২
আল্লা-হুম্মা যা-সুলতানিল আযীম, যাল মান্নিল কাদীম, ওয়া যা-লিওয়াজহিল কারীম, ওয়ালিয়্যিল কালিমা-তিত তা-ম্মা-তি ওয়াদ্দা‘ওয়া-তিল মুসতাজা-বা-ত, ‘আ-ফিনা- মিন আনফুসিল জিন্নি, ওয়া আ‘ইয়ুনিল ইন্স।
হযরত আলি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবীজি (সা) এর পেরেশান অবস্থায় জিবরাইল আ. আসলেন। তিনি জিগ্যেস করেন হে মুহাম্মাদ! আপনি চিন্তিত কেন? আপনার চিন্তার ফুটেজ চেহারায় ভেসে উঠেছে? তিনি বলেন হাসান ও হুসাইনের বদ নজর লেগেছে। সে (জিবরাইল) বলে আপনি বদ নজর সম্পর্কে সত্য বলেছেন। কারণ নজর লাগা সত্য। জিবরাইল বলে আমি কি আপনাকে এমন কিছু কালিমা শিক্ষা দিব না? যার মাধ্যমে তাদের আরোগ্য লাভ করা সম্ভব? তিনি (সা) বললেন সেগুলো কি? সে (জিবরাইল) বলে তা হলো, اللَّهُمَّ ذَا السُّلْطَانِ الْعَظِيمِ , ذَا الْمَنِّ الْقَدِيمِ , ذَا الْوَجْهِ الْكَرِيمِ , وَلِيَ الْكَلِمَاتِ التَّامَّاتِ وَالدَّعَوَاتِ الْمُسْتَجَابَاتِ , عَافِ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ مِنْ نَفْسِ الْجِنِّ وَأَعْيُنِ الْإِنْسِ ফলে উভয়ে সুস্থ হয়ে নবীজির সামনে খেলা করেন। নবীজি সা এর মাধ্যমে উম্মতকে শিফা লাভের আদেশ দেন।
১. আজান কাকে বলে? আজান (الأذان) শব্দের অর্থ হলো ঘোষণা, আহ্বান বা অবহিত করা। ইসলামী পরিভাষায়, ফরজ নামাজের সময় শুরু হয়েছে—এ কথা মানুষকে জানিয়ে জামাতে নামাজের জন্য আহ্বান জানাতে নির্ধারিত শব্দমালার মাধ্যমে যে ঘোষণা দেওয়া হয়, তাকে আজান বলে। عَنْ مَالِكِ بْنِ الحُوَيْرِثِ، أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَفَرٍ مِنْ قَوْمِي، فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً، وَكَانَ رَحِيمًا رَفِيقًا، فَلَمَّا رَأَى شَوْقَنَا إِلَى أَهَالِينَا، قَالَ: «ارْجِعُوا فَكُونُوا فِيهِمْ، وَعَلِّمُوهُمْ، وَصَلُّوا، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ، وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ» মালিক ইবনে হুওয়াইরিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার গোত্রের কয়েকজন লোকের সঙ্গে নবী (ﷺ) এর কাছে এলাম এবং আমরা তার নিকট বিশ রাত অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অত্যন্ত দয়ালু ও বন্ধু বৎসল ছিলেন। তিনি যখন আমাদের মধ্যে নিজ পরিজনের কাছে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর, আর তাদের দ্বীন শিক্ষা দিবে এবং নামায আদায় করবে। যখন নামাযের সময় উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বয়সে বড় তিনি ইমামতি করবেন।- সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬০০ আন্তর্জাতিক নং: ৬২৮ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ الْمُسْلِمُونَ حِينَ قَدِمُوا الْمَدِينَةَ يَجْتَمِعُونَ فَيَتَحَيَّنُونَ الصَّلَوَاتِ وَلَيْسَ يُنَادِي بِهَا أَحَدٌ فَتَكَلَّمُوا يَوْمًا فِي ذَلِكَ فَقَالَ بَعْضُهُمُ اتَّخِذُوا نَاقُوسًا مِثْلَ نَاقُوسِ النَّصَارَى وَقَالَ بَعْضُهُمْ قَرْنًا مِثْلَ قَرْنِ الْيَهُودِ فَقَالَ عُمَرُ أَوَلاَ تَبْعَثُونَ رَجُلاً يُنَادِي بِالصَّلاَةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا بِلاَلُ قُمْ فَنَادِ بِالصَّلاَةِ " . আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলমানরা মদীনায় আসার পর একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ে নামায পড়ে নিত। এ জন্য কেউ আযান দিত না। একদিন তারা ব্যাপারটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করল। তাদের একজন বলল, নাসারাদের নাকূসের অনুরূপ একটা নাকূস (শঙ্খ) ব্যবহার কর। তাদের অপরজন বলল, ইহুদীদের শিঙ্গার অনুরূপ একটি শিঙ্গা ব্যবহার কর। উমর (রাযিঃ) বললেন, তোমরা নামাযের জন্য আহবান করতে একটি লোক পাঠাওনা কেন? রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হে বিলাল! উঠো এবং নামাযের জন্য ডাক দাও (আযান দাও)।-সহীহ মুসলিম: হাদীস নং: ৭২৩ আন্তর্জাতিক নং: ৩৭৭ ২. ইকামত কাকে বলে? ইকামত (الإقامة) শব্দের অর্থ দাঁড় করানো, প্রতিষ্ঠা করা বা শুরু করা। ইসলামী পরিভাষায়, জামাতে ফরজ নামাজ শুরু হওয়ার ঠিক পূর্বে নির্ধারিত বাক্যসমষ্টির মাধ্যমে মুসল্লিদের নামাজে দাঁড়ানোর জন্য যে ঘোষণা দেওয়া হয়, তাকে ইকামত বলে। عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: «أُمِرَ بِلاَلٌ أَنْ يَشْفَعَ الأَذَانَ، وَأَنْ يُوتِرَ الإِقَامَةَ إِلَّا الإِقَامَةَ» আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিলাল (রাযিঃ) কে আযানের শব্দ দু’বার এবং قد قامت الصلاة ব্যতীত ইকামতের শব্দগুলো বেজোড় করে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।-সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৭৮, আন্তর্জাতিক নং: ৬০৫
নফল (النفل) শব্দের অর্থ অতিরিক্ত, বাড়তি বা অনুদান। ইসলামী পরিভাষায়, ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুআক্কাদাহ ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে যে অতিরিক্ত নামাজ আদায় করা হয়, তাকে নফল নামাজ বলে। নফল নামাজ আদায় করলে সওয়াব পাওয়া যায়; তবে কোনো কারণে আদায় করতে না পারলে গুনাহ হয় না। وَمِنَ الَّیۡلِ فَتَہَجَّدۡ بِہٖ نَافِلَۃً لَّکَ ٭ۖ عَسٰۤی اَنۡ یَّبۡعَثَکَ رَبُّکَ مَقَامًا مَّحۡمُوۡدًا রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়বে, যা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত ইবাদত। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে ‘মাকামে মাহমুদ’-এ পৌঁছাবেন। তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন: ‘অতিরিক্ত ইবাদত’ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে, সে সম্পর্কে দু’টি মত আছে। (ক) কতক মুফাসসির বলেন, এ নামায অর্থাৎ, তাহাজ্জুদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একটি অতিরিক্ত ফরয ছিল। সাধারণ মুসলিমদের প্রতি এটা ফরয করা হয়নি। (খ) কারও মতে অতিরিক্ত হওয়ার অর্থ নফল হওয়া। অর্থাৎ, তাহাজ্জুদ একটি নফল ইবাদত, যেমন আম মুসলিমদের জন্য, তেমনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যও। ‘মাকামে মাহমুদ’-এর শাব্দিক অর্থ ‘প্রশংসনীয় স্থান’। হাদীস দ্বারা জানা যায়, ‘মাকামে মাহমুদ’ হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি বিশেষ পদমর্যাদা। এ মর্যাদার কারণে তাকে শাফায়াত করার অধিকার দেওয়া হবে।
কুরআনে বর্ণিত ‘রাব্বানা’ ও ‘রাব্বি’ দুআ বলতে কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক বিভিন্ন নবী-রাসূল, নেককার মুমিন ও ফেরেশতাদের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শিক্ষা দেওয়া বা তাদের মুখে বর্ণিত দুআসমূহকে বোঝায়। এসব দুআর অধিকাংশই ‘রাব্বানা’ (হে আমাদের রব!) বা ‘রাব্বি’ (হে আমার রব!) শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছে। তাই এগুলো ‘রাব্বানা/রাব্বি দুআ’ নামে পরিচিত।
১. আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু, ওয়া বিকা আমানতু, ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু, ওয়া ইলাইকা খাসামতু, ওয়া বিকা হাকামতু। ফাগফির লী মা কাদ্দামতু ওয়া মা আখ্খারতু, ওয়া আসরারতু ওয়া আ'লানতু, ওয়া মা আন্তা আ'লামু বিহি মিননী। লা ইলাহা ইল্লা আন্তা। ২. আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ। মিল'আস সামাওয়াতি, ওয়া মিল'আল আরদি, ওয়া মিল'আ মা শি'তা মিন শাই'ইন বা'দ। আহলাস সানাঈ ওয়াল মাজদ। লা মানি'আ লিমা আ'তাইতা, ওয়া লা মু'তিয়া লিমা মানা'তা, ওয়া লা ইয়ানফা'উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ। ৩. সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা। আল্লাহুম্মাগফির লী। ৪. আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ। কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আ-লি ইবরাহীম। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ। কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আ-লি ইবরাহীম। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। ৫. আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুলমান কাসীরা। ওয়া লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা। ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা, ওয়ারহামনী। ইন্নাকা আন্তাল গাফূরুর রাহীম। ৬. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাসাল, ওয়াল জুবনি ওয়াল হারাম, ওয়াল বুখল। ওয়া আঊযু বিকা মিন আযাবিল কবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত। ৭. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান, ওয়াল আজজি ওয়াল কাসাল, ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখল, ওয়া দালা'ইদ দাইনি, ওয়া গালাবাতির রিজাল। ৮. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাসাল, ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখল, ওয়াল হারাম, ওয়া আযাবিল কবর। আল্লাহুম্মা আতি নাফসী তাকওয়াহা, ওয়া যাক্কিহা, আন্তা খাইরু মান যাক্কাহা। আন্তা ওয়ালিয়্যুহা ওয়া মাওলাহা। আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন ইলমিল লা ইয়ানফা, ওয়া মিন কালবিল লা ইয়াখশা, ওয়া মিন নাফসিল লা তাশবা, ওয়া মিন দা'ওয়াতিল লা ইউস্তাজাবু লাহা। ৯. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল কাসাল, ওয়াল হারাম, ওয়াল মাগরাম, ওয়াল মা'ছাম। আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন আযাবিন নার, ওয়া ফিতনাতিন নার, ওয়া ফিতনাতিল কবর, ওয়া আযাবিল কবর, ওয়া শাররি ফিতনাতিল গিনা, ওয়া শাররি ফিতনাতিল ফাকর, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল। আল্লাহুম্মাগসিল খাতায়ায়া বিমা'ইস সালজি ওয়াল বারাদ, ওয়া নাক্কি কালবী মিনাল খাতায়া, কামা ইউনাক্কাস সাওবুল আবইয়াদু মিনাদ দানাস। ওয়া বা'ইদ বাইনী ওয়া বাইনা খাতায়ায়া কামা বা'আদতা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিব। ১০. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল জুবন। ওয়া আঊযু বিকা মিনাল বুখল। ওয়া আঊযু বিকা মিন আন উরাদ্দা ইলা আরযালিল উমুর। ওয়া আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিদ দুনইয়া, ওয়া আযাবিল কবর। ১১. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন শাররি মা আমিলতু, ওয়া মিন শাররি মা লাম আ'মাল। ১২. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিন নার, ওয়া মিন আযাবিন নার, ওয়া আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিল কবর, ওয়া আঊযু বিকা মিন আযাবিল কবর, ওয়া আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিল গিনা, ওয়া আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিল ফাকর, ওয়া আঊযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল। ১৩. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন যাওয়ালি নি'মাতিকা, ওয়া তাহাওউলি আফিয়াতিকা, ওয়া ফুজাআতি নিকমাতিকা, ওয়া জামিই সাখাতিকা। ১৪. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনূনি, ওয়াল জুযামি, ওয়া মিন সাইয়্যিইল আসকাম। ১৫. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন মুনকারাতিল আখলাকি, ওয়াল আ'মালি, ওয়াল আহওয়া। ১৬. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন শাররি সামঈ, ওয়া মিন শাররি বাসারী, ওয়া মিন শাররি লিসানী, ওয়া মিন শাররি কালবী, ওয়া মিন শাররি মানিয়্যী। ১৭. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল ফাকরি, ওয়াল কিল্লাতি, ওয়ায জিল্লাতি, ওয়া আঊযু বিকা মিন আন আযলিমা আও উযলাম। ১৮. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিআযামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতী। ১৯. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল হাদমি, ওয়া আঊযু বিকা মিনাত তারাদ্দী, ওয়া আঊযু বিকা মিনাল গারাকি, ওয়াল হারাকি, ওয়াল হারামি, ওয়া আঊযু বিকা আন ইয়াতাখাব্বাতানিশ শাইতানু ইন্দাল মাওতি, ওয়া আঊযু বিকা আন আমূতা ফী সাবীলিকা মুদবিরান, ওয়া আঊযু বিকা আন আমূতা লাদীগা। ২০. আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিনাল খাইরি কুল্লিহি আজিলিহি ওয়া আজিলিহি, মা আলিমতু মিনহু ওয়া মা লাম আ'লাম। ওয়া আঊযু বিকা মিনাশ শাররি কুল্লিহি আজিলিহি ওয়া আজিলিহি, মা আলিমতু মিনহু ওয়া মা লাম আ'লাম। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন খাইরি মা সা'আলাকা আবদুকা ওয়া নাবিয়্যুকা, ওয়া আঊযু বিকা মিন শাররি মা আ'আযা বিহি আবদুকা ওয়া নাবিয়্যুকা। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া মা ক্বাররাবা ইলাইহা মিন কাওলিন আও আমাল, ওয়া আঊযু বিকা মিনান নারি ওয়া মা ক্বাররাবা ইলাইহা মিন কাওলিন আও আমাল। ওয়া আসআলুকা আন তাজআলা কুল্লা ক্বাদাইন ক্বাদাইতাহু লী খাইরা। ২১. আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইয়া আল্লাহু বিআন্নাকাল ওয়াহিদুল আহাদুস সামাদ, আল্লাযী লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ, আন তাগফিরা লী যুনূবী, ইন্নাকা আন্তাল গাফূরুর রাহীম। ২২. আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদ, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, আল মান্নান, বাদীউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যূম, ইন্নী আসআলুকা। ২৩. আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিআন্নী আশহাদু আন্নাকা আন্তাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, আল আহাদুস সামাদ, আল্লাযী লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ। ২৪. আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ফি'আলাল খাইরাত, ওয়া তারকাল মুনকারাত, ওয়া হুব্বাল মাসাকীন, ওয়া ইযা আরাদতা বি'ইবাদিকা ফিতনাতান ফাকবিদনী ইলাইকা গাইরা মাফতুন। ২৫. আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা, ওয়াত তুকা, ওয়াল আফাফা, ওয়াল গিনা। ২৬. আল্লাহুম্মা আ'ইন্নী আলা যিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা। ২৭. আল্লাহুম্মাজ আল ফী কালবী নূরা, ওয়া ফী বাসারী নূরা, ওয়া ফী সামঈ নূরা, ওয়া আন ইয়ামীনী নূরা, ওয়া আন শিমালী নূরা, ওয়া ফাওকী নূরা, ওয়া তাহতী নূরা, ওয়া আমামী নূরা, ওয়া খালফী নূরা, ওয়া আ'যিম লী নূরা। ২৮. আল্লাহুম্মা আসলিহ লী দীনিয়াল্লাযী হুয়া ইসমাতু আমরী, ওয়া আসলিহ লী দুনইয়ায়াল্লাতী ফীহা মা'আশী, ওয়া আসলিহ লী আখিরাতিয়াল্লাতী ফীহা মা'আদী, ওয়াজআলিল হায়াতা যিয়াদাতান লী ফী কুল্লি খাইর, ওয়াজআলিল মাওতা রাহাতান লী মিন কুল্লি শার। ২৯. আল্লাহুম্মাগফির লী খাতীআতী, ওয়া জাহলী, ওয়া ইসরাফী ফী আমরী, ওয়া মা আন্তা আ'লামু বিহি মিননী। আল্লাহুম্মাগফির লী জিদ্দী, ওয়া হাজলী, ওয়া খাতাঈ, ওয়া আমদী, ওয়া কুল্লু যালিকা ইন্দী। আল্লাহুম্মাগফির লী মা কাদ্দামতু ওয়া মা আখ্খারতু, ওয়া মা আসরারতু ওয়া মা আ'লানতু, ওয়া মা আন্তা আ'লামু বিহি মিননী। আন্তাল মুকাদ্দিমু ওয়া আন্তাল মুআখ্খির, ওয়া আন্তা আলা কুল্লি শাইইন কাদীর। ৩০. আল্লাহুম্মা হাব্বিব ইলাইনাল ঈমানা, ওয়া যায়্যিনহু ফী কুলূবিনা, ওয়া কাররিহ ইলাইনাল কুফরা, ওয়াল ফুসূকা, ওয়াল ইসইয়ান, ওয়াজআলনা মিনার রাশিদীন। আল্লাহুম্মা তাওয়াফফানা মুসলিমীন, ওয়া আহইনা মুসলিমীন, ওয়া আলহিকনা বিস সালিহীন, গাইরা খাযায়া ওয়া লা মাফতুনীন। ৩১. আল্লাহুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুকনী। ৩২. আল্লাহুম্মাগফির লী যানবী কুল্লাহু, দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু, ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু, ওয়া আলানিয়াতাহু ওয়া সিররাহু। ৩৩. আল্লাহুম্মাগফির লী মা কাদ্দামতু ওয়া মা আখ্খারতু, ওয়া মা আসরারতু ওয়া মা আ'লানতু, ওয়া মা আসরাফতু, ওয়া মা আন্তা আ'লামু বিহি মিননী। আন্তাল মুকাদ্দিমু ওয়া আন্তাল মুআখ্খির, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা। ৩৪. আল্লাহুম্মা আন্তা রব্বী, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা। খালাকতানী ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া'দিকা মাসতাতা'তু। আঊযু বিকা মিন শাররি মা সানা'তু। আবূউ লাকা বিনি'মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিজাম্বী। ফাগফির লী, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয জুনূবা ইল্লা আন্তা। ৩৫. আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইত, ওয়া আফিনী ফীমান আফাইত, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইত, ওয়া বারিক লী ফীমা আ'তাইত, ওয়া কিনী শাররা মা কাদাইত। ফাইন্নাকা তাকদী ওয়া লা ইউকদা আলাইক। ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইত, ওয়া লা ইয়াইয্যু মান আদাইত। তাবারাকতা রব্বানা ওয়া তা'আলাইত। ৩৬. আল্লাহুম্মাহদিনী ওয়া সাদ্দিদনী। ৩৭. আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু, ওয়া বিকা আমানতু, ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু, ওয়া ইলাইকা আনাবতু, ওয়া বিকা খাসামতু। আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিইজ্জাতিকা, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, আন তুদিল্লানী। আন্তাল হাইয়্যুল্লাযী লা ইয়ামূত, ওয়াল জিন্নু ওয়াল ইনসু ইয়ামূতুন। ৩৮. আল্লাহুম্মা রব্বানা আতিনা ফিদ দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আযাবান নার। ৩৯. আল্লাহুম্মা মুসাররিফাল কুলূব, সাররিফ কুলূবানা আলা তা'আতিক। ৪০. ইয়া মুকাল্লিবাল কুলূব, সাব্বিত কালবী আলা দীনিক। ৪১. আল্লাহুম্মা ইন্নী আবদুকা, ওয়াবনু আবদিকা, ওয়াবনু আমাতিকা। নাসিয়াতী বিইয়াদিকা, মাদিন ফিয়্যা হুকমুকা, আদলুন ফিয়্যা কাদাউকা। আসআলুকা বিকুল্লিসমিন হুয়া লাকা, সাম্মাইতা বিহি নাফসাকা, আও আনযালতাহু ফী কিতাবিকা, আও আল্লামতাহু আহাদাম মিন খালকিকা, আও ইস্তা'ছারতা বিহী ফী ইলমিল গাইবি ইন্দাকা, আন তাজআলাল কুরআনা রবীআ কালবী, ওয়া নূরা সদরী, ওয়া জালাআ হুযনী, ওয়া যাহাবা হাম্মী। ৪২. আল্লাহুম্মা বি ইলমিকাল গাইবি, ওয়া কুদরাতিকা আলাল খালকি, আহইনী মা আলিমতাল হায়াতা খাইরাল লী, ওয়া তাওয়াফফানী ইযা আলিমতাল ওয়াফাতা খাইরাল লী। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাশইয়াতাকা ফিল গাইবি ওয়াশ শাহাদাহ, ওয়া আসআলুকা কালিমাতাল হাক্কি ফির রিদা ওয়াল গাদাব, ওয়া আসআলুকাল কাসদা ফিল ফাকরি ওয়াল গিনা, ওয়া আসআলুকা নাঈমান লা ইয়ানফাদ, ওয়া আসআলুকা কুররাতা আইনিন লা তানকাতি', ওয়া আসআলুকার রিদা বা'দাল কাদা, ওয়া আসআলুকা বারদাল আইশি বা'দাল মাওত, ওয়া আসআলুকা লাযযাতান নাযারি ইলা ওয়াজহিকা, ওয়াশ শাওকা ইলা লিকাইক, ফী গাইরি দাররা'আ মুদিররাতিন ওয়া লা ফিতনাতিম মুদিল্লাহ। আল্লাহুম্মা যায়্যিন্না বিজীনাতিল ঈমান, ওয়াজআলনা হুদাতাম মুহতাদীন। ৪৩. আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারীমুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা'ফু আন্নী। ৪৪. আল্লাহুম্মা রব্বা জিবরাঈলা, ওয়া মীকাঈলা, ওয়া ইসরাফীলা, ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, আলিমাল গাইবি ওয়াশ শাহাদাহ। আন্তা তাহকুমু বাইনা ইবাদিকা ফীমা কানু ফীহি ইয়াখতালিফূন। ইহদিনী লিমাখতুলিফা ফীহি মিনাল হাক্কি বিইযনিক। ইন্নাকা তাহদী মান তাশাউ ইলা সিরাতিম মুস্তাকীম। ৪৫. আল্লাহুম্মা আহসানতা খালকী, ফা আহসিন খুলুকী। ৪৬. রব্বিগফির লী, ওয়া তুব আলাইয়্যা। ইন্নাকা আন্তাত তাওয়াবুল গাফূর। ৪৭. আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিরিদাকা মিন সাখাতিক, ওয়া বিমুআফাতিকা মিন উকূবাতিক, ওয়া আঊযু বিকা মিনকা। লা উহসী ছানাআন আলাইকা। আন্তা কামা আছনাইতা আলা নাফসিক। ৪৮. লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, সুবহানাকা, ইন্নী কুনতু মিনায যালিমীন। ৪৯. আল্লাহুম্মা দা' ফী আরদিনা বারাকাতাহা, ওয়া যীনাতাহা, ওয়া সাকানাহা। ৫০. রব্বি আ'ইন্নী, ওয়া লা তু'ইন আলাইয়্যা, ওয়ানসুরনী ওয়া লা তানসুর আলাইয়্যা, ওয়ামকুর লী ওয়া লা তামকুর আলাইয়্যা, ওয়াহদিনী ওয়া ইয়াসসিরিল হুদা লী, ওয়ানসুরনী আলা মান বাগা আলাইয়্যা। রব্বিজআলনী লাকা শাকিরান, লাকা যাকিরান, লাকা রাহিবান, লাকা মুতাওয়্বিঈয়ান, লাকা মুখবিতান, ইলাইকা আওয়াহাম মুনীবান। রব্বি তাকাব্বাল তাওবাতী, ওয়াগসিল হাওবাতী, ওয়া আজিব দা'ওয়াতী, ওয়া সাব্বিত হুজ্জাতী, ওয়া সাদ্দিদ লিসানী, ওয়াহদি কালবী, ওয়াসলুল সাখীমাতা সদরী।
১. জ্বিনের আসর বলতে সাধারণত এমন অবস্থাকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনো জ্বিন আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে বা তাকে কষ্ট দেয়। ইসলামী পরিভাষায় একে صرع الجن (জ্বিনের কারণে আক্রান্ত হওয়া) বা مس الجن (জ্বিনের স্পর্শ) বলা হয়। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত যে, জ্বিন মানুষের ওপর কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اَلَّذِیۡنَ یَاۡکُلُوۡنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوۡمُوۡنَ اِلَّا کَمَا یَقُوۡمُ الَّذِیۡ یَتَخَبَّطُہُ الشَّیۡطٰنُ مِنَ الۡمَسِّ যারা সুদ খায়, (কিয়ামতের দিন) তারা সেই ব্যক্তির মত উঠবে, শয়তান যাকে স্পর্শ দ্বারা পাগল বানিয়ে দিয়েছে। বাকারা, ২৭৫। ২. বান কী? 'বান' শব্দটি কুরআন-হাদীস বা প্রাচীন ফিকহের পরিভাষা নয়; এটি বাংলা সমাজে প্রচলিত একটি লোকজ শব্দ। সাধারণত কারও ক্ষতি, বিচ্ছেদ, অসুস্থতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জাদু (السحر) করা হলে মানুষ তাকে "বান মারা" বলে থাকে। অর্থাৎ শরয়ী দৃষ্টিতে 'বান' বলতে স্বতন্ত্র কোনো বিষয় নয়; বরং এটি জাদুরই একটি প্রচলিত নাম বা ধরন। فَیَتَعَلَّمُوۡنَ مِنۡہُمَا مَا یُفَرِّقُوۡنَ بِہٖ بَیۡنَ الۡمَرۡءِ وَزَوۡجِہٖ তারা তাদের থেকে এমন জিনিস শিক্ষা করত, যা দ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত সুরা বাকারা, আয়াত ১০২। তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন: হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের আমলে কিছু শয়তান, যাদের মধ্যে জিন ও মানুষ উভয়ই থাকতে পারে, কতক ইয়াহুদীকে ফুসলানি দিল যে, হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের রাজত্বের (খৃস্টপূর্ব ৯৯০-৯৩০) সকল রহস্য যাদুর মধ্যে নিহিত। তোমরা যদি যাদু শিক্ষা কর, তবে তোমাদেরও বিস্ময়কর ক্ষমতা অর্জিত হবে। সুতরাং তারা যাদুর তালীম নিতে ও তা কাজে লাগাতে শুরু করে দিল। অথচ যাদু শেখা যে কেবল অবৈধ ছিল তাই নয়, বরং তার কোনও কোনও পদ্ধতি ছিল কুফরী পর্যায়ের। ইয়াহুদীরা দ্বিতীয় মহাপাপ করেছিল এই যে, তারা খোদ হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামকেই একজন যাদুকর সাব্যস্ত করেছিল এবং তাঁর সম্পর্কে প্রচার করেছিল, তিনি শেষ জীবনে মূর্তিপূজা শুরু করে দিয়েছিলেন। তাঁর সম্পর্কে এসব অপবাদমূলক কাহিনী তারা তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহেও জুড়ে দিয়েছিল, যা বাইবেলে আজও পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়। বাইবেলে এখনও পর্যন্ত তাঁর মুরতাদ হওয়ার বিবরণ বিদ্যমান (দ্র. ১-বাদশানামা ১১:১-২১)। নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। কুরআন মাজীদের এ আয়াতে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের প্রতি আরোপিত এ ন্যাক্কারজনক অপবাদকে খণ্ডন করা হয়েছে। এর দ্বারা আরও পরিষ্কার হয়ে যায়, কুরআন মাজীদ সম্পর্কে যারা অপবাদ দিত যে, ‘এটা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের কিতাব থেকে আহরিত’, তাদের সে অপবাদ কতটা মিথ্যা! এ স্থলে কুরআন মাজীদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ইয়াহুদী ও নাসারাদের কিতাবসমূহকে রদ করছে। সত্য কথা হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এমন কোনও মাধ্যম ছিল না, যা দ্বারা তিনি নিজে ইয়াহুদীদের কিতাবে কী লেখা আছে তা জেনে নেবেন। এটা জানার জন্য তাঁর কাছে কেবল ওহীরই সূত্র ছিল। সুতরাং এ আয়াত তাঁর ওহীপ্রাপ্ত নবী হওয়ার সুস্পষ্ট দলীল। এর দ্বারা তিনি ইয়াহুদীদের কিতাবে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের প্রতি কি ধরনের অপবাদ আরোপ করা হয়েছে সে কথা জানিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং অতি দৃঢ়তার সাথে তা খণ্ডনও করেছেন।
রুকয়া বা তাবিজের মাধ্যমে চিকিৎসা করার জন্য মৌলিক কিছু শর্ত মেনে চলা জরুরি: ১. তাবিজ বা রুকয়ার অর্থ ও ব্যাখ্যা জানা থাকা আবশ্যক। ২. এতে কোনো শির্কী শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ৩. এগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আত্মমুখী শক্তিশালী মনে করা যাবে না। ৪. যদি অন্য কারো মাধ্যমে চিকিৎসা করানো হয়, সেই ব্যক্তি অবশ্যই অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত হতে হবে, যেন কেউ প্রতারণা না করে। যদি কোনো তাবিজ বা রুকয়া কোরআনের আয়াত, প্রচলিত দোয়া বা সঠিক শব্দ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়, এটি শরীয়তে গ্রহণযোগ্য। কারণ এর প্রকৃত অর্থ হলো, একটি বৈধ উপায় বা ব্যবস্থা। কিন্তু যেসব তাবিজে শির্কী শব্দ, অজানা বা অগোছালো মন্ত্র লেখা হয় বা যার স্বয়ংসম্পূর্ণ কার্যকারিতা বিশ্বাস করা হয়, সেগুলোর ব্যবহার শরীয়তে অনুমোদিত নয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযি) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নিজের বুঝমান সন্তানদের আল্লাহর ক্ষমতা ও মহিমার কথাগুলো শেখাতেন, আর যারা বুঝমান নয়, তাদের গলায় সেই কথাগুলো লিখে তাবিজের আকারে পরিয়ে দিতেন। অতএব, শরীয়তে অনুমোদিত রুকয়া বা তাবিজ হলো, সেইগুলো যা কোরআন ও হাদীসে বর্ণিত সঠিক দোয়া বা সঠিক শব্দের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা এবং যার ব্যবহার শির্ক বা অজানা শক্তি বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না।
দু'আর বিষয়সমূহ
38টি বিষয় পাওয়া গেছে