হুরমতে মুসাহারাতের জন্য শুধু স্পর্শ বা সন্দেহ যথেষ্ট নয়
প্রশ্নঃ ১৬০১৭৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি একজন ছেলে বয়স ২৫। শয়তানের ধোকায় পড়ে নিজের আপন মাকে নিয়ে অশ্লীল চিন্তা করতাম। সম্প্রতি হুরমতে মুসাহারাত সম্পর্কে জানতে পারার পর এ থেকে বের হয়ে এসেছি। এখন আমার মাথায় বেশকিছু চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। একদিন আমার মা অসুস্থ ছিলো। আমার মনে প্রবল ধারনা যে তখন আমি তার তাপমাত্রা দেখার অজুহাতে তার কপালের চামড়ায় উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করেছি যদিও আমি সম্পূর্ন নিশ্চিত নই। আরও একদিন সে আমার পাশে এসে বসে। তখন আমার উত্তেজনা তৈরি হয়। আমার মনে হয় সেসময় আমি খালি গায়ে ছিলাম। তো আমার মনে প্রবল ধারনা যে তখনও তার চামরায় স্পর্শ করি / তার স্পর্শে উত্তেজিত হয়ে যাই যদিও আমি এ ব্যপারেও ১০০% নিশ্চিত নই। এখন চিন্তায় আছি যদি কখনও তাকে বাজেভাবে স্পর্শ করেও ফেলি তাহলে হুরমতে মুসাহারাত হয়ে যাবে কিনা। এ বিষয়গুলো বেশ কয়েকদিন যাবত মাথায় ঘুরছে। আমার এ ধরনের আচরনের ফলে বাবা-মায়ের ভেতর বৈবাহিক সম্পর্ক ঠিক আছে কিনা তা নিয়ে টেনশন হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, আমি আগে থেকেই ওয়াসওয়াসা সমস্যায় ভোগা মানুষ এবং অনেক সময় ওয়াসওয়াসার কারনে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি না। পাশাপাশি আমি ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করি। এখন আমার জন্য ইসলামি শরীয়তের আলোকে পরামর্শ দিলে উপকৃত হবো।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায়, যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা না যায় যে কামভাবসহ এমন স্পর্শ হয়েছে, ততক্ষণ হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হবে না। কেবল সন্দেহ, ধারণা বা ওয়াসওয়াসার ভিত্তিতে হুরমতের হুকুম দেওয়া যায় না।
এছাড়া ফকীহগণের বর্ণনা অনুযায়ী, হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শুধু স্পর্শ করাই যথেষ্ট নয়; বরং কামভাবসহ স্পর্শের সময় পুরুষাঙ্গ প্রসারিত (উত্থিত) হওয়া শর্ত। অর্থাৎ, কেবল স্পর্শের মুহূর্তে নয়, বরং কামভাব নিয়ে স্পর্শরত অবস্থায় পুরুষাঙ্গের প্রসারণ ঘটতে হবে। যদি আগে থেকে প্রসারিত না থাকে, তাহলে স্পর্শের কারণে নতুন করে প্রসারিত হওয়া জরুরি। আর যদি আগে থেকেই প্রসারিত অবস্থায় থাকে, তাহলে স্পর্শের ফলে সেই প্রসারণের মাত্রা বা দৃঢ়তা আরও বৃদ্ধি পেতে হবে। সংক্ষেপে, স্পর্শের কারণে নতুন করে প্রসারণ হওয়া অথবা পূর্বের প্রসারণ আরও বৃদ্ধি পাওয়াই এ ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয়।
যেহেতু আপনি নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, আপনি দীর্ঘদিন ধরে ওয়াসওয়াসার সমস্যায় ভুগছেন, তাই এসব সন্দেহকে গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করবেন। আপনার বাবা-মায়ের বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। বরং আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি বেশি তাওবা, ইস্তিগফার ও দোয়া করুন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কুচিন্তা থেকে নিজেকে হেফাজত করার চেষ্টা করুন।
উল্লেখ্য, মনে রাখতে হবে, মা সম্পর্কে কামভাবপূর্ণ চিন্তা করা অত্যন্ত জঘন্য, নিকৃষ্ট ও মারাত্মক গুনাহের দিকে নিয়ে যায়। একজন মুসলিমের জন্য নিজের মা, বোন, মেয়ে ও অন্যান্য মাহরাম নারীদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান, পবিত্রতা ও মর্যাদার দৃষ্টিভঙ্গি রাখা ফরজসদৃশ নৈতিক দায়িত্ব। তাই এ ধরনের কুচিন্তা থেকে সর্বাত্মকভাবে বিরত থাকতে হবে এবং যদি শয়তানের ধোঁকা বা নফসের প্ররোচনায় এমন চিন্তা এসে যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে, أعوذ بالله من الشيطان الرجيم পড়তে হবে এবং সেই চিন্তা উপেক্ষা করতে হবে।
(الهداية في شرح بداية المبتدي، كتاب النكاح، باب المحرمات، ج ١، ص ١٨٨، المكتبة الشاملة.)
ولنا أن المس والنظر سبب داع إلى الوطء فيقام مقامه في موضع الاحتياط ثم إن المس بشهوة أن تنتشر الآلة أو تزداد انتشارا هو الصحيح والمعتبر النظر إلى الفرج الداخل ولا يتحقق ذلك إلا عند اتكائها ولو مس فأنزل فقد قيل إنه يوجب الحرمة والصحيح أنه لا يوجبها لأنه بالإنزال تبين أنه غير مفض إلى الوطء وعلى هذا إتيان المرأة في الدبر.
القواعد الفقهية، للشيخ علي أحمد الندوي، ج ١، ص ١٤٣، المكتبة الشاملة.
القاعدة رقم (٤٢١): «اليقين لا يزول بالشك»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন